Friday, August 19, 2022

অনামিকা পোদ্দারের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে নানা প্রতিকূলতা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :

অনামিকা পোদ্দার। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত নিয়ে মাস্টার্স করছেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরে রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে নানা প্রতিকূলতা। আত্মবিশ্বাস আর কঠোর অধ্যবসায় তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। অনেকের কাছে তিনি পথপ্রদর্শকও বটে।

তার জন্ম ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামে। বাবা অমলেন্দু পোদ্দার, মা কানন বালা পোদ্দার। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনিই ছোট।

অনামিকা পোদ্দার বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে আমি। প্রথম দিকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে যেতাম। কখনো যানবাহন পেলে সেটাতেও যেতাম। এভাবে প্রতিদিন হেঁটে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এতে পরিবারও সায় দেয়। যদিও তখনো গ্রামের মেয়েরা বাইসাইকেল চালানো শুরু করেনি। আমিই সম্ভবত প্রথম বাইসাইকেলে স্কুলে যাওয়া শুরু করি। এ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়। পাছে লোকে কিছু বলে, আমি পেছনের লোকের কথায় কান দিইনি। বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতাম। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর বিজ্ঞান বিভাগ নিই।
ঝিনাইদহের শৈলকূপা পাইলট গার্লস স্কুল থেকে ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাই। এতে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। যারা আমার বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারেননি তারাই আমার রেজাল্টের প্রশংসা করেছেন। এরপর থেকে তাদের মেয়েরা বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। কয়েক বছরের ব্যবধানে মনমানসিকতার পরিবর্তন এসেছে।

বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার আগেই ২০১২ সালে বাবা মারা যান। লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া তখন কঠিন হয়ে পড়ে। বড় দাদার উপার্জনেই সংসার চলত। ছোট দাদাও তখন লেখাপড়া করত। দুই দাদা তাকে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করেন। কলেজে ভর্তি হয়ে দাদা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় লেখাপড়া চালিয়ে যান। ২০১৫ সালে শৈলকূপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। ওই বছর কোচিং ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। প্রথমবার কোথাও ভর্তি হতে না পারায় মানুষের নানা সমালোচনার মুখে পড়েন। পরের বছর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। পড়ালেখায় মনোযোগী হন। স্নাতকে ভালো রেজাল্ট করেন।

এ প্রসঙ্গে অনামিক পোদ্দার বলেন, এ পর্যায়ে আসতে অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম করেছি। মানুষের সমালোচনায় যদি কান দিতাম তাহলে এতদূর আসতে পারতাম না। অনেকে অনেক কথা বলবে! কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আমি সঠিক করছি নাকি বেঠিক, সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। সফল হলে ওই মানুষগুলোই প্রশংসা করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

আজ যশোরের বিশিষ্ট রাজনীতিক এম রওশন আলীর মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের কৃতি সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর, সংবিধানের...

টিউমার অপরেশনের পর নাজমা এখন প্রতিবন্ধী

জিএম আল ফারুক, আশাশুনি : সাতক্ষীরার আশাশুনির সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস গ্রামের ভ্যান ও সাইকেলের মিস্ত্রী...

তালায় এমপি রবির সাথে মতবিনিময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নৌ-কমান্ডো ০০০১ বীরমুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবির...

ঝিকরগাছায় ডাকাতিকালে নৈশ প্রহরী খুনে আটক নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছায় ডাকাতিকালে নৈশপ্রহরী আব্দুস সামাদ হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে...

এদেশে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে জিয়াউর রহমান : শাহীন চাকলাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেছেন, সরকার ভিন্ন...

যশোরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় শাহ আলম (৬০) নামে এক...