Friday, August 12, 2022

অবৈধ করাত কলের রমরমা ব্যবসা, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় চলছে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাত কলের রমরমা ব্যাবসা। সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে এসব স’ মিল (করাত কল)। ওইসব স’ মিলের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত গাছ কাটা হচ্ছে। লাইন্সেস না থাকায় করাতকল মালিকরা গাছ কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোন বিধি নিষেধ মানছে না। অবাধে কিনছেন গাছ। ফলে একদিকে যেমন বেড়েই চলেছে অবাধে বৃক্ষনিধন। অন্য দিকে প্রতিনিয়ত হুমকির সস্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নে সৈয়দখালি (সাধুরঘাট বাজারে) অবস্থিত জোনায়েদ স’মিল (করাতকল)। এ করাত কলের মালিক আনিসুর রহমান গাজী। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লাইসেন্সবিহীন স’মিলের ব্যবসা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে এ স’মিলে রাতের আঁধারে পার্শ্ববর্তী সুন্দরবন থেকে সুন্দরী, গরান, পসুরসহ বিভিন্ন মুল্যবান গাছ স’মিলে কাটা হয়। স’মিলের মালিক আনিসুর রহমানের রয়েছে চোরাই সিন্ডিকেটের সাথে গভীর সখ্যতা। বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, পুলিশে চাকরিরত জনৈক একজনের ভাই ও বাগেরহাট কোস্টগার্ডে চাকরিরত জনৈক এক ব্যক্তির সহযোগিতায় নাসির গাজী এলাকায় তার এই অবৈধ স’মিলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সাধুর ঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা। সাধুর ঘাট বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, স’মিলের শব্দ এবং কাঠের গুড়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্তার ও স্থানীয় ব্যাবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, নাসির গাজী আমাদের এলাকার লোক না। তার বাড়ি কয়রা উপজেলায়। তিনি আমাদের এলাকায় এসে স’মিলের ব্যবসা করেন। আমরা তার খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি এই সমিলের কোন সরকারি নিবন্ধন নেই। তিনি এখানে কিভাবে ব্যবসা করছে সেটা সরকারি লোকজন-ই বলতে পারবেন।

মিল মালিক আনিসুর রহমান বলেন, স’মিলের কোন কাগজপত্র করিনি। কয়রায় থাকতে আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছিল। তার পর আমি এলাকা ছেড়ে এখানে চলে আসি। নিবন্ধনের জন্য ১০ বছর আগে আমি কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও আমি স’মিলের কোন লাইসেন্স পাইনি। দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে আমার এই স’মিলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাইকগাছা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় বলেন, লাইসেন্স বিহীন করাতকল করলে তার বিরুদ্ধে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ মাস থেকে ৩ বছরের জেল জরিমানার বিধান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই করাতকল (স’মিল) মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য

১০ আগস্ট উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই রোহিঙ্গা মাঝি নিহত হয়েছেন। ১২টার দিকে...

নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

কল্যাণ ডেস্ক : দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর...

তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি নিহত

কল্যাণ ডেস্ক : বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন আফগানিস্তানে তালেবানের শীর্ষ নেতা রহিমুল্লাহ হাক্কানি। তালেবান প্রশাসনের...

শোক দিবসে যশোর পৌর আ’লীগের বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক...

জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরে এনডিএফ’র বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শহরের মাইকপট্টি থেকে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জেলা কমিটির...

ন.পাড়া নৌবন্দরে আরও ২৩ অবৈধ ঘাট উচ্ছেদ

কামরুল ইসলাম, অভয়নগর : নওয়াপাড়া নৌবন্দরে আরও ২৩টি অবৈধ ঘাটের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার...