Sunday, May 29, 2022

আজ বাঘারপাড়া মুক্ত দিবস

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি।। আজ ৮ ডিসেম্বর, বাঘারপাড়া শত্রুমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাঘারপাড়া শত্রু মুক্ত হয়। রক্তঝরা এদিনে বাঘারপাড়ার বিভিন্ন প্রান্তে হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বাঘারপাড়া মুক্ত হয়েছিল।

এদিনের পর থেকে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর বাহিনীর হত্যা, লুট ও নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পায় বাঘারপাড়ার মানুষ। এদিন বিকেলে বাঘারপাড়া হাইস্কুল মাঠে স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে আনন্দে মেতে উঠেন বাঘারপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ। এসময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শুরু হয় বিজয় উল্লাস।
যশোরের সব থেকে বেশি রাজাকার অধ্যুষিত এলাকা ছিল বাঘারপাড়া। এলাকায় স্বাধিনতা যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সংখ্যা তেমন একটা নেই। তারপরও এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অদম্য সাহসী। বাঘারপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার শহিদুল্লাহ খন্দকার জানান, ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানতে পারেন-রাজাকার, আলবদর ও পিচ কমিটির নেতারা প্রধান অফিসে সভা করছে। এ অফিস ভবন ছিলো তৎকালিন থানা সিওর বাসা। আজ যেটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাস ভবন। মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ পেয়ে এদিন ভোর রাতে পরিকল্পনা করেন রাজাকারদের অফিস উড়িয়ে দেবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ি নলডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রহমার জীবন বাজি রেখে অফিসের পেছনের দিকে পাইপ বেয়ে ওপরে উঠে গ্রেনেড চার্জ করেন। গ্রেনেড বিষ্ফোরণ না হওয়ায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিষয়টি রাজাকার বাহিনী বুঝতে পেরে মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ব্রাশ ফায়ার করে। এতে ঘটনা স্থলেই বজলুর রহমান, কড়াইতলার শামসুর রহমান ও নড়াইলের রতন বিশ্বাস শহীদ হন।

এ বিষয়ে সে সময়কার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ বলেন, ৭ ডিসেম্বর উপজেলার ধলগ্রামে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে আমাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এযুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করি। পাকসেনা ও রাজাকারদের হটিয়ে প্রথমে আমরা ধলগ্রাম এলাকা শত্রু মুক্ত করি। এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা পাকিস্থানী দোসররা পালিয়ে যায়। আর এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, ৭ ডিসেম্বর খাজুরা বাজারের পশ্চিম পাশে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে শত্রু বাহিনীর সাথে মিত্র বাহিনীর সম্মুুখ যুদ্ধ হয়। এদিন ভারতের সৈনিকদের সাথে যুক্ত হন এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা। শত্রু বাহিনী সেদিন ট্র্যাংক ও বিমান হামলা চালায়। যুদ্ধে উভয় বাহিনীর শতাধিক নিহত হন। কয়েকজন ভারতীয় সৈনিকসহ এদিন বাঘারপাড়ার ৭জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তারা হচ্ছেন-মালঞ্চি গ্রামের সিদ্দুকুর রহমান ও সোহরাব হোসেন, ইন্দ্রার কোরবান আলী, ধুপখালির জমির উদ্দীন ও আব্দুল বারিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস আজ ফের চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার থেকে ফের কলকাতা-খুলনা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ রেল চলাচল শুরু হবে।...

রসুনের গায়ে আগুন!

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা ক্ষুব্ধ ক্রেতা, স্বস্তিতে নেই কিছু বিক্রেতাও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: এবার ভোক্তার...

আনারসের পাতা থেকে সুতা সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি...

দড়াটানার ভৈরব পাড়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আঁখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড কুইন্স হাসপাতালের পূর্ব পাশে ভৈরব নদের পাড়ে মাদকসেবীদের...

আজকের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে অনিবন্ধিত ও নবায়নহীন অবস্থায় পরিচালিত অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার...

নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে : মির্জা ফখরুল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগের অধীনে আর...