আজ যশোরের তিন উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নে নির্বাচন

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষর আশংকা 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

সালমান হাসান
সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই যশোরের তিন উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আজ। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে ভোটের আগেই প্রাণ ঝরেছে ৪ জনের। নির্বাচন পূর্ববতী সহিংসতায় আহতদের অনেকের এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। ফলে ভোট চলাকালে আজও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে ভীতি ছড়িয়েছে। যার প্রভাব ভোটার উপস্থিতির ওপর পড়তে পারে।

তবে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। ফলে ভোটার নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তাদের ভয় ও আশঙ্কার কারণ নেই। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, সবকটি নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকছে।

এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল টিমের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বহিস্কারের মত কঠোর ঘোষণার পরও বিদ্রোহীদের অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। ভোটারদের অনেকের ধারণা যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। সংঘাতময় এরকম পরিবেশে বাঘারপাড়া, শার্শা ও মণিরামপুরের ৩৪১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

এদিকে, সংঘাত সংঘর্ষ ছাড়াও ভোট নিয়ে চলছে নানা হিসেব নিকেশ চলছে। জয়-পরাজয় নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহীরা ভোটে ভাগ বসানোয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন নৌকার প্রার্থীরা।

এমনকি অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় চাপে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ পুষে রেখেছেন। যেটিও নৌকার ভোটে ফাঁটল ধরাতে পারে। এছাড়া বিএনপি জামায়াত ঘরানার অনেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে অনেক জায়গায় ভোট যুদ্ধ রূপ নিতে পারে ত্রিমুখি লড়াইয়ে।

যশোরের মণিরামপুরের ৮টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি জামায়াতের রাজনীতি ঘনিষ্টও অনেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। অতীতে তারা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন।

ফলে এখানকার নির্বাচনে ত্রি-মুখি লড়াই হতে পারে। আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী দ্বন্দের ফাঁক গলে বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারে বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ট এসব চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

এদিকে বাঘারপাড়াও চাপে আছেন নৌকার প্রার্থীরা। এখানকার ১২টি ইউনিয়নে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দলের নির্দেশে ২ বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দোহাকোলা ইউনিয়ন থেকে অরুণ অধিকারী ও ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন থেকে আতিয়ার রহমান সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদের মধ্যে অরুণ অধিকারী প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে অন্য ১২টি ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিন্দন্দ্বতীতা করছেন। শীর্ষস্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সমর্থনে তারা এখনও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থেকে নৌকার প্রার্থীদের চাপে ফেলেছেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে এরকম একটি প্রচার আছে।

দল থেকে বহিষ্কারের মত কঠোর সীদ্ধান্তের কারণে শার্শা উপজেলার বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। ফলে শার্শায় নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা কমে গেছে। দলের সিদ্ধন্তের বাইরে যাওয়ায় ১০ ইউনিয়নের ১৫ জন নেতা কর্মিকে বহিষ্কারের সুপারিশে শার্শার পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। নৌকার পক্ষে মাঠে নেমেছেন বিদ্রোহীদের অনেকে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলণ করে ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে