রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

আটকে গেল ডা. হাসান আব্দুল্লাহ’র অবসরের ছাড়পত্র

করোনা টেস্টের টাকা আত্মসাত মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ। অভিযুক্তের তালিকায় নাম আছে প্যাথলজি বিভাগের ইনর্চাজ গোলাম মোস্তফারও। যাদের নামে ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিন্তু তারা মামলার বিষয়টি জানেন না! বুধবার দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসরের দিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিতে গেলে প্যাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ’র ফাইল আটকা পড়ে। তার অবসরজনিত ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেননি তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান। এনিয়ে হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক ও হিসাব শাখা মতে, করোনার শুরুতে ২০২০ সালে ৮ হাজার ৯৭০ জনের আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয়। ২০২১ সালে আরটিপিসিআর করা হয় ২৫ হাজার ৩২৩ জনের এবং ২০২২ সালে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ৪ হাজার ২৬৩ জনের। অর্থাৎ ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে শুধুমাত্র করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয় ৩৮ হাজার ৫৫৬ জনের। কিন্তু এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় প্যাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ এবং ইনর্চাজ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ইউজার ফি বাবদ ২২ লাখ ১৬ হাজার ৭২৩টাকা অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়। চলতি বছরের মার্চে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থশাখা থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামানের কাছে চিঠি আসে। পরে চলতি বছরের ১২ মার্চ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুর রহিম মোড়লকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্তে টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হয়। এর প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে চলতি মাসে প্যাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ এবং ইনর্চাজ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা হয়।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আজগর আলী জানান, জন প্রতি ১০০টাকা হিসাব করলে রাজস্ব আয় আসার কথা ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬শ টাকা। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগ থেকে রাজস্ব জমা পড়েছে ১৮ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ টাকা। বাকি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ২২০ টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেননি প্যাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ এবং ইনর্চাজ গোলাম মোস্তফা।

তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সরকারি কমিশনের ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা বাদ দিলে ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগ থেকে এখনও বাকি ১৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব জমা দেয়নি বা কোনো হিসাব দিতে পারছে না।

এ ব্যাপারে প্যাথলজি ইনচার্জ ডা. হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, অবসরের দিন বিভাগীয় মামলার বিষয় জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালভাবে ছাড়পত্র পাইনি। তাই প্রাথমিকভাবে অবসর জনিত কাগজপত্রসহ প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্ব টেকনিশিয়ান মোজাম্মেল হোসেনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। একই বিভাগের সহযোগী ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা স্ট্রোক করে অসুস্থ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অডিট আপত্তি আসে মন্ত্রণালয় থেকে। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তিনি আরও বলেন, ডা. হাসান আব্দুল্লাহ অবসরজনিত কোন কাগজপত্র হাসপাতালে বা প্রশাসনে জমা দেননি। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করে ছাড়পত্র নিয়ে অবসর জনিত কাগজপত্র হাসপাতালে দিলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...