Friday, July 1, 2022

আনন্দ নেই মণিরামপুরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জিন্নাহ ও লিটনের বাড়িতে

আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
চারিদিকে যখন বিজয়ের স্লোগান চলছিলো ঠিক সে সময় বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহর বাড়িতে চলছিলো শোকের মাতম। জিন্নাহ তখন ভাই তবিবুর রহমানের লাশ নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদে করছিলেন। অপর বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন লিটন ঢাকার শ্যামলী নিউরোসাইন্স হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।

মণিরামপুরের এ দু’ জন বিজয়ী চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিজয়ের আনন্দের কোন ছোয়া লাগেনি। ছিল বিষাদে ভরপুর।

আব্দুল আলিম জিন্নাহ চারবার নির্বাচন করে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবারই প্রথম বিজয়ী হন। নির্বাচনের দিন সকাল ৮টায় যখন ভোট নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা তখন আব্দুল আলিম জিন্নাহর ভাই তবিবুর রহমান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ছিলেন ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত। নির্বাচনের দিন সকাল ৮টায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে প্রার্থী আব্দুল আলিম জিন্নাহ বাড়িতেই বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন। রাত ৮টার দিকে চারিদিকে যখন আব্দুল আলিম জিন্নাহর বিজয়ের স্লোগান চলছিলো সে সময় তিনি বাড়িতে ভাইয়ের লাশ দাফন করতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। রাত ১০টার দিকে দাফন শেষে আব্দুল আলিম জিন্নাহ শোকাহত বাবা-মাকে নিয়েই বাড়িতেই কাটাচ্ছিলেন। বিজয়ের দিনে পুরো পরিবারটি ছিলো শোকে মুহ্যমান।

বিজয়ী আলমগীর কবির লিটন এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাথী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত বিপদ ভঞ্জন পাড়ে। গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আলমগীর কবির লিটন নির্বাচনী কাজে ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা বাজারে প্রচার-প্রচারণায় যখন ব্যস্ত ছিলেন এসময় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মীরা তাকে হাতুড়ি পেটা করে গুরুত্বর আহত করে। এসময় ভাইকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনও আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে যান। দু’ভাই ছিলেন হাসপাতালের বেডে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রার্থী আলমগীর কবির লিটনকে নেওয়া হয় ঢাকা শ্যামলী নিউরোসাইন্স হাসপাতালে। এ হাসপাতালে গত তিন আগে তার অপারেশন করা হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি দল থেকে বহিষ্কারের ম্যাসেজ পান। পরিবারের কেউ ছিলো না নির্বাচন কার্যক্রমের কাজ করার মত। শেষ পর্যন্ত রাহুল রায় তার নির্বাচনী হাল ধরেন। আলমগীর কবির লিটন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিপদ ভঞ্জন পাড়েকে অতিক্রম করে ৩ হাজার ৭৬১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এ বিজয়ের আনন্দের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি ওই পরিবারের কেউ। ছোট ভাই জাহাঙ্গীর পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে বাড়িতেই কাটাচ্ছেন। বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন আতংকের মধ্যে। চারিদিকে যখন বিজয়ের আনন্দ মিছিল চলছিলো প্রার্থী আলমগীর কবির লিটন তখন ছিলেন শ্যামলী নিউরোসাইন্স হাসপাতালে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...

শাহীন চাকলাদারকে ছাড়লেন একদল নেতা!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: যশোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় গ্রুপ বদলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে...

বাজেট পাস আজ কার্যকর

ঢাকা অফিস: চোখে পড়ার মতো বড় কোনও সংশোধনী ছাড়াই পাস হয়েছে নতুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের...

ঈদুল আজহা ১০ জুলাই

ঢাকা অফিস: বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ১০ জুলাই...

পদ্মা সেতু : ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য উইকিলিকসে

ঢাকা অফিস: পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের নেপথ্যে যার নাম সবার শীর্ষে, তিনি নোবেল...