আমাদের কথা

মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার জনপ্রিয় দৈনিক, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের মুখপত্র, বস্তুনিষ্ঠতায় যার অহংকার। দৈনিক কল্যাণ ১৯৮৫ সাল এর ১৫ ফেব্রুয়ারি তার প্রকাশনা শুরু করে। অনেক চড়াই উৎরায় পেরিয়ে এ অঞ্চলের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সংগ্রাম করে চলেছে। এ অঞ্চলের সাংবাদিক, সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত তাদের একটা বড় অংশের হাতে খড়ি দৈনিক কল্যাণ-এ। দীর্ঘ এ পথচলায় অসংখ্য মানুষের ভালবাসার পাশাপাশি জুটেছে অনেক পুরস্কারও।

নিরপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক সংবাদ পরিবেশনে এবং নতুন ধারার গণমাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দৈনিক কল্যাণ যথাযথ পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার খবর পরিবেশন করে।

আমাদের সঙ্গে আছেন একদল তরুণ ও উদ্যমী সাংবাদিক এবং ব্যবসা ক্ষেত্রের পেশাদার কর্মী দল। আর এই পুরো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, যাদের রয়েছে এই ক্ষেত্র সম্পর্কে বহু বছরের সঞ্চিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।

আমাদের সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা একজন পেশাদার সাংবাদিক। একটি আঞ্চলিক সাপ্তাহিক পত্রিকায় যার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি, তিনি আজ দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক-যেটি ইতিমধ্যে টিকে থাকার সম্মানজনক সময় পেরিয়ে এগিয়ে চলছে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে।

১৯৭০ সালে কবি নাসিরুদ্দিন আহমেদ যশোর থেকে ‘সাপ্তাহিক গণদাবি’ প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত গঠনে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে। এই পত্রিকায় একরাম-উদ-দ্দৌলার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। সে সময় তিনি লেখাপড়া করতেন কলেজে। সাংবাদিকতার সাথে তিনি লেখাপড়াও অব্যাহত রাখেন এবং ১৯৭৫ সালে তিনি বি. এ পাশ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন সরকার জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মাত্র ৪টি পত্রিকা বাদে সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু একিই বছর ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। ঘাতক চক্রের বুলেটে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহিত হন। ক্ষমতা গ্রহণকারীরা অল্পদিনের মধ্যে পুনরায় বেসবকারি পর্যায়ে সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি দেয়। ওই সময় পুরনো পত্রিকা গুলো পুনঃপ্রকাশ হওয়া ছাড়াও নতুন করে অনেক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে। যশোর থেকে সাংবাদিক আবুল হোসেন মীর প্রকাশ করেন রুচিশীল উন্নতমানের পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঠিকানা’। পরে পত্রিকাটি দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। একরাম-উদ-দ্দৌলা এই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হন। একিই সাথে তিনি ‘দৈনিক সংবাদ’ এর যশোর সংবাদদাতার দায়িত্ব পান। এদিকে ’৭৫-এ বন্ধ হয়ে যাওয়া গণকণ্ঠ পুনঃপ্রকাশ হয় ’৭৮ সালে। পুরনো সাংবাদিক হিসাবে একরাম-উদ-দ্দৌলার ডাক পড়ে পুনরায় কাজ করার। তবে এবার বাইরে অর্থাৎ মফস্বলে নয়, ঢাকায় পত্রিকার ডেস্কে। তিনি সাড়া দিয়ে যশোর ছাড়েন এবং পত্রিকার মফস্বল বিভাগের সম্পাদকের দায়িত্ব পান। কিন্তু সেবার গনকণ্ঠ বেশিদিন চলতে পারলো না। বন্ধ হয়ে গেল। একরাম-উদ-দ্দৌলা এবার যোগ দিলেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সত্যকথার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে। কিন্তু এখানে বেশি দিন নয় মাটির টানে ফিরে এলেন যশোরে এবং নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে দৈনিক ঠিকানায় যোগ দিলেন। ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক ঠিকানা থেকে অব্যহতি নিয়ে একটানা এক যুগেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৯৮৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী প্রকাশ করেন ‘দৈনিক কল্যাণ’।

দেশে সংবাদপত্র প্রকাশনার পথ নিষ্কন্টক নয়। এ পথে রয়েছে হাজারও সমস্যা, বিস্তর বাধা। এসব কারণে অধিকাংশ পত্রিকা যে সুন্দর অবস্থায় প্রকাশ হয় তা ধরে রেখে সামনে এগুতে পারে না। আর মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়া তো সাধারণ ঘটনা। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে একরাম-উদ-দ্দৌলা এগিয়ে চলেছেন।

সাংবাদিক একরাম-উদ-দ্দৌলার গোটা জীবনটাই প্রতিকুল অবস্থার সাথে টিকে থাকার জীবন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য তার একমাত্র চাওয়া-পাওয়া দৈনিক কল্যাণ কে দাঁড় করাতে এক দুঃসহ সময় পার করেছেন। শৈশব থেকে কৈশোর জীবনের শিক্ষা লাভের এক সংগ্রামমুখর ইতিহাস রয়েছে তার জীবনে। সে ইতিহাস দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে শিক্ষা লাভের কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছনোর ইতিহাস।

সাংবাদিকতা বয়ে চলেছে তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একরাম-উদ-দ্দৌলার পিতা মোকসেদ আলী ‘দ্য স্টেসম্যান’ পত্রিকায় কলাম লিখতেন,অগ্রজ অ্যাডভোকেট ইতিম উদ্দৌলা ছিলেন একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ এবং ‘দ্য ডেইলি অবজার্ভার’-এর যশোর জেলা প্রতিনিধি। আরেক বড় বোন মরহুমা আশরাফুন্নেসা বেগম ছিলেন খুলনা থেকে প্রকাশিত ‘সদ্য খবর’-এর প্রকাশক। ছোটভাই রুকুন উদ্দৌলাহ ‘দৈনিক সংবাদ’-এর সিনিয়র রিপোর্টার।”
এখানেই শেষ নয়।

তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াস এর সাথে যুক্ত থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

তাঁর পুত্র এহসান-উদ-দৌলা মিথুন বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা সংবাদপত্র দৈনিক প্রথম-আলোর ফটো সাংবাদিক সাথে সাথে দৈনিক কল্যাণের হাল ধরেছেন। এছাড়াও পত্রিকাটির বর্তমানে আরো উন্নতর করতে হাল ধরেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এজাজ উদ্দিন টিপু।

একরাম-উদ-দ্দৌলা যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদ ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রেসক্লাব যশোরের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে রয়েছে তার অনন্য ভূমিকা। এছাড়া যশোরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যশোর ইনসটিটিউট পরিচালনা পরিষদের তিনি নির্বাচিত সদস্য ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের নাট্যকলা সম্পাদকও ছিলেন। যশোর সাহিত্য পরিষদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও পরিবার কল্যাণ সমিতির (পিকেএস) আজীবন সদস্য তিনি। এছাড়া তিনি যশোর উদীচীর অন্যতম উপদেষ্টা। পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি। এভাবে জড়িয়ে আছেন বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে।

আমরা আমাদের পাঠকদের সামনে হাজির করি প্রাসঙ্গিক সব খবর। পাশাপাশি বিভিন্ন খবরের বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে খবরের ভেতরের খবর আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করি। ছাপা সংস্করণ ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়াও দৈনিক কল্যাণের রয়েছে নিজস্ব অ্যাপ ও ই-পেপার।

আমাদের রয়েছে অত্যাধুনিক নিজস্ব ছাপাখানাসহ মুদ্রণ সম্পর্কিত যাবতীয় ব্যবস্থা। এ ছাড়া অনলাইন সংবাদের জন্য রয়েছে প্রচুর লিংক সংবলিত সার্ভার ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। এই বৈশ্বিক মহামারি পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন করে আমাদের চিন্তাধারাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। আমরা এগিয়ে যেতে চাই এমন একটি যুগের দিকে, যেখানে সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সংবাদ, গল্পÑসব মানুষকে ছুঁয়ে যাবে।