ইউপি নির্বাচন বাঘারপাড়া ।। ‘নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই’

jessore map

কল্যাণ রিপোর্ট
যশোরের বাঘারপাড়ার উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নির্বাচনী সভায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৮ নভেম্বর রাতে ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুরে নির্বাচনী সভায় জহুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা দ্বীন মোহাম্মদ দিলু পাটোয়ারী এই আতঙ্ক ছড়ানো বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ফেসবুকে এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।

সভায় দ্বীন মোহাম্মদ দিলু পাটোয়ারী বলেন, কতিপয় বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মী বলছে ওমুক মার্কায় ভোট দেবো। তারা ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে না। এমন জায়গায় চুলকিয়ে দেবো; কাউকে দেখাতে পারবে না। হাসপাতালেও চিকিৎসা হবে না। পুলিশের কাছে যেয়েও কাজ হবে না। পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, তারা কি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবে?

নৌকার প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিন্টু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন দাবি করে দিলু পাটোয়ারী বলেন, বিএনপি জামায়াতের প্রধানরা বলেছেন তারা নির্বাচনে যাবেন না। তাহলে আপনারা কেন চুলকো-চুলকি করছেন? আমরা কি করতে পারি আপনারা জানেন? ২০১৬ সালে দেখাইছি। আমি চাই না জহুরপুরের কারো ক্ষতি হোক। তাই নৌকার বাইরে যারা ভোট দিতে চান, তাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়ি ঘুমান ভাল থাকেন। ভোট দিতে গেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ইতিহাসের সাক্ষি হয়েন না।

দিলু পাটোয়ারী আরও বলেন, মাস্টার মনিরুল সাহেব বলেছেন, উত্তর চাঁদপুরে নৌকার মিটিং করা যাবে না। নকশাল সর্বহারাদের আমি গুনি না। বুড়ো বান্দরদের আপনারা ২৮ তারিখ জবাব দেবেন। নির্বাচন নিয়ে খেলতে আইসেন না। এমন খেলা খেলে দিবানে যে বাড়ি ঘুমাতে পারবেন না। বাড়ি যদি ঘুমাতে চান ২৮ তারিখ ভোট দিতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। ২৭ তারিখ ব্যাপক ভাঙচুর হবে; ২৮ তারিখের পর ২৯ তারিখও আরও ভাঙচুর হবে।

দিলু পাটোয়ারী দাবি করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব শিগগির হবে। হয়তো এক বছর আগেই ভোট হয়ে যেতে পারে, আমার কাছে মেসেজ আছে। বিএনপি জামায়াতের যারা আমাদের সাথে আছেন, নৌকায় ভোট দেবেন ভাল কথা। কিন্তু অন্য জায়গায় ভোট দেয়ার চিন্তা করলে একেক জনের নামে ১০টা করে মামলা হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিলু পাটোয়ারী বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। আপনারা কিসের ভয় পান? ওদের কাছে কি আছে? আপনাদের কাছে যা আছে, যদি ওরা দেখে তাহলে ওদের কলিজা শুকিয়ে যাবে। যারা নৌকার বাইরে ভোট দিতে যেতে চায় তাদের নিষেধ করবেন। তারপরও যারা যেতে চায় তাদের তালিকা করবেন। আমি শুনছি, ওমুক বাড়ি ৫০টি রামদা এসেছে। রামদা দিয়ে কি করবে? কোথায় লুকাবে? রামদা অস্ত্রের ভয় দেখান; ওর কারখানা বহু আগেই করে রেখেছি। কারা কারা অন্য মার্কায় ভোট দিতে চায় তালিকা করেন। এদের এমন শিক্ষা ২৭ তারিখ দেবো, যে অন্য গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হবে। মিন্টু চেয়ারম্যান হবে, কিভাবে হবে; ভোটের দিন দেখবেন। নৌকার মিটিং হবে না, এমন কথা বলার সাহস কিভাবে পায় মনিরুল মাস্টার? ওর কলিজা টেনে ছিড়ে ফলবো। ওকে দেখা করতে বলেছি, যদি দেখা না করে তাহলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটাবো।

দিলু পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনের পর বদর মোল্লাকে খুঁজেও পাবেন না। ভোটের পর তো সে ঝিনেদা পলাবে। যারা অন্য জায়গায় ভোট দিতে চায় তালিকা দেন। কিভাবে বাড়ি ঘুমায় দেখবো। কোন নেতা আর কোন পুলিশ তাদের বাঁচায় আমি দেখবো। এদের ঘুম হারাম করে দেবো।

সভায় ভয়ভীতি প্রসঙ্গে দিলু পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

যশোরের বাঘারপাড়ার উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসাদুজ্জামান মিন্টু। ১৮ নভেম্বরই নৌকার প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিন্টু ও তার লোকজন হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বদর উদ্দিন মোল্লা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে