Sunday, July 3, 2022

উদ্যোগটি প্রশংসনীয় ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে প্রবিধান

খাদ্য গ্রহণ ছাড়া মানুষের পক্ষে বাঁচা সম্ভব নয়। আবার এই খাদ্য মৃত্যুর কারণ হবে-এটাও গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক আগে থেকেই খাদ্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত সব রাসায়নিকদ্রব্য। এসব খাবার খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের নানা দূরারোগ্য ব্যাধিতে। খাদ্যপণ্যে উচ্চমাত্রার ‘ট্রান্সফ্যাট’ ব্যবহার করছে দেশি-বিদেশি কম্পানি। বেকারি, শিঙাড়া-সমুচা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চানাচুর, চিপস, বার্গারের মতো মুখরোচক খাবারে ব্যবহৃত অতিমাত্রার ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যু ডেকে আনছে। গত বছর এক গবেষণায় ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও ব্র্যান্ডের ২৪টি নমুনা বিশ্লেষণ করে ৯২ শতাংশ নমুনায় ডাব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, শুধু ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

ডাব্লিউএইচওর ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে পাঁচ হাজার ৭৭৬ জন মানুষ মারা যায়।

প্রাকৃতিক বা শিল্প উৎস থেকে আসা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডই হলো ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি এসিড। দুধ, মাখন, ঘি, গরুর বা ছাগলের মাংস হলো প্রাকৃতিক ট্রান্সফ্যাটের উৎস, অন্যদিকে শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ তেলের হাইড্রোজেনেশনের সময় ট্রান্সফ্যাট উৎপন্ন হয়। এই হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পে উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়, আর মাত্রা কমায় ভালো কোলেস্টেরলের। আর খারাপ কোলেস্টেরল রক্তবাহী ধমনিতে জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ শীর্ষক প্রবিধানমালা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট ২ শতাংশের বেশি হলে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি এক থেকে তিন বছরের কারাদ- বা তিন থেকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হতে পারে।

প্রবিধানমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে ভোক্তাসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র উপায় হলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ। শারীরিক পরিশ্রম, প্রচুর পানি পান এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

রাজপথে নেই যশোর জাতীয় পার্টি 

এক বছর আগে হয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি দিনে দলীয় কার্যালয় থাকে বন্ধ, মাঝে মধ্যে সন্ধ্যায়...

যশোরে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি, লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ঋতুচক্রে এখন মধ্য আষাঢ়। কিন্তু ভ্যাপসা গরম কাটছে না। গরমে মানুষ অতিষ্ঠ...

ধর্ম-কর্মের খোঁজ নেই মসজিদ নিয়ে মারামারি

হাদিস শরিফে মসজিদকে সর্বোত্তম স্থান হিসেবে উল্লখ করা হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহর এবাদতে যেভাবে...

সোনালি আঁশে সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন নড়াইলের চাষিরা

নড়াইল প্রতিনিধি বোরো ধানের পর নড়াইলে পাট চাষে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। উৎপাদন ভালো...

শিক্ষক হত্যা ও লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বাকবিশিস যশোরের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  নড়াইলে কলেজ অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানো ও সাভারে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার...

বিল হরিণায় বিসিক-২ বাস্তবায়ন দাবিতে রাজপথে নেমেছেন এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিল হরিণায় প্রস্তাবিত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প পার্ক...