Wednesday, May 18, 2022

একান্ত সাক্ষাৎকারে ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু
দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে উপশহর ইউনিয়ন থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে চাই

যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়নকে দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ২য় বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু। দৈনিক কল্যাণকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক জেমস্ রহিম রানা ও মনিরুজ্জামান মনির।

এহসানুর রহমান লিটু বলেন, ৫ বছর নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের পাশে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি । যার ফল হিসেবে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছি এবং ইউনিয়নবাসী আবারও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। সকল ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির মাধমে আমি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছাঁতে চাই।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই জনগণ আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করে পরিষদে পাঠিয়েছেন। তাদের আশা আকাক্সক্ষা পুরণে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবো।

প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কি ?
উত্তর : আমি বিগত দিনের ন্যায় স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে চাই এবং দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চাই। আমার স্বপ্ন ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতায় মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস দমন ও সকল ধরনের রাজনৈতিক কলহ মুক্ত করে ইউনিয়নে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলবো।

প্রশ্ন : ইউনিয়ন পরিচালনায় আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় আমার নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে ইউনিয়নের জনগণের চাহিদা মোতাবেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সরকারি নিয়মনীতি পালন করে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত ১৩ টি স্ট্যান্ডিং কমিটির সমন্বয়ে পরিচালনা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।

প্রশ্ন : আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা কি ?
উত্তর : উপশহর ইউনিয়নটি শহর লাগোয়া হওয়ায় গ্রামীণ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা চির বঞ্চিত। এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জীবনমান শহুরে ভাবধারাতেই চলে আসছে শুরু থেকেই। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা শহর ভিত্তিক কর্ম নির্ভর। বর্তমানে ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা মাদক এবং সামাজিক সম্প্রীতির অভাব। যে কারণে তাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমি এই পরিস্থিতি উত্তোরণে বিগত দিনের ন্যায় মাদকাশক্তদের চিহ্নিত করে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পূণর্বাসনের চেষ্টা করবো। পাশাপাশি এই ইউনিয়নের কোথাও যেন চাঁদাবাজ নামক ব্যবসায়ীদের কাছে যাতে ইউনিয়নবাসি জিম্মি না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

প্রশ্ন : বাল্যবিয়ে রোধে আপনার কোন পরিকল্পনা রয়েছে কি ?
উত্তর : আমাদের সমাজে বাল্য বিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা। যা রোধ করা খুবই দুস্কর। তারপরও আমি আমার ইউনিয়নকে ১০০ ভাগ বাল্য বিয়ে মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

প্রশ্ন : শিক্ষা সম্প্রসারণে আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : শিক্ষা সম্প্রসারণে আমার নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে। আমি নিজেই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। বিগত সময়েও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের জন্য খেলাধুলা সামগ্রী এবং টিফিন বাটি দেয়া হয়েছে। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল এবং গরিব মেধাবীদের বই কিনে দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে গেট নির্মাণ, চেয়ার বেঞ্চ তৈরিসহ ইলেক্ট্রিক ফ্যান কিনে দিয়েছি। প্রতি বছর বিভিন্ন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের নিজ অর্থায়নে সম্বর্ধনা দিয়ে থাকি। এছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুলের বেতন, পোশাক, ভর্তি ফিসসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করা হয়।

প্রশ্ন : সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আমার পরিকল্পনা হলো, এলাকার ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্দ্বী ভাতার সম বন্টনসহ আর এমপি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তাছাড়া ইউনিয়নের কোথাও কোন নবজাতকের সন্ধান পেলে আমি নিজেই সেখানে ফুলের ডালি ও মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত হই এবং বিনামূল্যে সেই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করে দেই। যা বাংলাদেশের জন্য একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ।

প্রশ্ন : সামাজিক অবক্ষয় রোধে আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা এবং নৈতিক জ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করব। স্কুলের যেসক ছেলে মেয়েরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উপশহর পার্কে আড্ডা দেয় তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সতর্ক করার পর অভিভাকদের সচেতন করবো। তাতেও যদি কাজ না হয় তবে ভিন্ন ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর কাছে আপনার প্রত্যাশা কি ?
উত্তর : ইউনিয়নবাসীর কাছে আমার প্রত্যাশা হলো সব ধরনের রাজনৈতিক কলহ থেকে দুরে থাকার মাধ্যমে সরকারি নিয়ম কানুন মেনে চলাসহ সর্বস্তরের জনগনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ যেন আমাকে ভাল কাজে উৎসাহিত করে এবং খারাপ কাজ থেকে দুরে থাকার জন্য সেটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ করে দেয়।

প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর চিত্তবিনোদনের জন্য কোন পরিকল্পনা আছে কি ?
উত্তর : চিত্তবিনোদনের জন্য ইতোমধ্যে ইউনিয়নে উপশহর পার্ক নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। ই পার্কটিকে আধুনিকায়ন করে দর্শক নন্দিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পার্কের উন্নয়নে নতুন যে স্কীম হাতে নেয়া হয়েছে তাতে বাউন্ডারী নির্মাণ ও বসার সেড তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করা হবে। সেখানে একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আরও ৪টি শিশুপার্ক রয়েছে এই ইউনিয়নে।

প্রশ্ন : আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনার ভূমিকা কি ?
উত্তর : আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়নে যে কার্যক্রম চলমান আছে তা অব্যাহত থাকবে। মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতা কারো সাথে কোন আপোষ করা হবে না।

প্রশ্ন : সরকারি গাছ চুরির প্রবণতা রোধসহ বৃক্ষ রোপণে কি ব্যবস্থা নেবেন ?
উত্তর : এ ইউনিয়নের কোথাও কোন গাছ চুরির ঘটনা ঘটে না বরং আমি নিজেই কয়েক হাজার তালের চারা রোপণ করেছি। এছাড়া বাড়ির আঙিনা ভিত্তিক হাজার হাজার ফলদ গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করেছি যা ধারাবাহিকভাবে আগামীতেও অব্যাহত থাকবে ।

প্রশ্ন : স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রসার ঘটানোর জন্য আপনার কোন চিন্তা আছে কি ?
উত্তর : স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার ঘটানোর চিন্তা অবশ্যই আমার আছে। এই ইউনিয়নটি যেহেতু শহর সংলগ্ন সেহেতু এখানে বর্তমানে প্রায় শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

প্রশ্ন : জনযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি নেবেন কি না ?
উত্তর : জনযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি নেয়া হবে ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে। তাদের সমন্বয়ে ইউনিয়নবাসীকে উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে মডেল ইউনিয়ন উপহার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন : মডেল ইউনিয়ন গড়তে আপনার ভিন্ন কোন পরিকল্পনা রয়েছে কি ?
উত্তর : দীর্ঘদিন আগে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়নটিতে সমস্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকার পরও কেন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়টিকে মডেল ঘোষনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । এটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। এই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রেখে ইউনিয়নকে মডেল ইউনয়নে রূপান্তর করতে যা কিছু করতে হয় তা করবো।

এক নজরে উপশহর ইউনিয়ন
আবাদি জমি – ৪ বিঘা
জনসংখ্যা – ৩০ হাজার
গ্রাম – ৯ টি
পাকা রাস্তা – ৩০ কিলোমিটার
শিক্ষার হার – ৯৯ ভাগ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ৫ টি
বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ৮ টি
বালিকা বিদ্যালয় – ১টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় – ৩টি
মহিলা কলেজ – ১টি
ডিগ্রি কলেজ – ২টি
ফিজিক্যাল কলেজ – ১টি
আর্ট কলেজ – ১টি
দাখিল মাদ্রাসা – ১টি
হাফিজিয়া মাদ্রাসা – ৬টি
হাসপাতাল – ৪টি
শিশুপার্ক – ৪টি
গভ. নিউমার্কেটসহ বাজার – ৩টি
বাস ট্রাক টার্মিনাল – ৩টি
মুক্তিযোদ্ধা – ৫৩ জন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যশোরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে সুমাইয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার ঝুলন্ত মরদেহ...

ঝিকরগাছায় সখিনা হত্যার দায় স্বীকার প্রেমিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ঝিকরগাছায় সখিনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার প্রেমিক...

শেখ হাসিনার ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত 

কল্যাণ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে...
00:03:13

যশোরে বাপ্পি খুনের আসামিরা দুই সপ্তাহেও আটক হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাপ্পি হাসান (১৯) নামে এক তরুণ খুনের...

পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন

কল্যাণ ডেস্ক: বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন...

বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট পৌরসভা ও দোহাকুলা ইউনিয়ন ফাইনালে 

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি: উপজেলা পর্যায়ে মঙ্গলবার বাঘারপাড়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বের...