Sunday, May 29, 2022

এখনো ঈদের আমেজ

 বিনোদন কেন্দ্র ও সড়কে ভীড়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের আমেজ এখনো কাটেনি। ঈদের ছুটি শেষ হয় বুধবার। সরকারি অফিস ও ব্যাংক-বীমা খুলেছে বৃহস্পতিবার। তবে প্রথমদিন বেশির ভাগ কর্মস্থল ছিল ফাঁকা। শুক্রবার যশোর শহরে হাতে-গোনা কিছু চা-পান বিড়ির দোকান খোলা দেখা যায়। আর অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। রাজপথে জনসমাগমও তেমন দেখা যায়নি। তবে বিকেলের পর থেকে বিনোদন কেন্দ্র ও শহরের বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন সড়কে পরিবার পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আর ঈদের আমেজ কাটিয়ে আজ পুরনো চেহারায় ফিরতে শুরু করবে যশোর- এমন ধারণা বিভিন্ন মহলের।

রোববার ছিল মে দিবসের ছুটি। এবার সাপ্তাহিক দু’দিন মিলে ঈদে টানা ৬দিনের ছুটি ভোগ করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত ছিল ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি শেষ হয় বুধবার। যেকারণে ঘরে ফেরা মানুষের অনেকে ওই দিন থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার একদিন অফিস হয়ে ফের শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকে বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে বাড়ি ছিলেন। বাড়তি ছুটিতে থাকা মানুষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে কথা হয় নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, ঢাকায় চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তিনি বৃহস্পতিবারও ছুটি নিয়ে ফিরেছিলেন গ্রামের বাড়ি নড়াইলের বারইপাড়া গ্রামে। রোববার কর্মস্থলে যোগ দেবেন জানিয়ে বলেন, যশোরে কিছু কেনা-কাটার কাজ ছিল, কিন্তু এসে দেখি সব বন্ধ। তাই ঢাকার গাড়িতে উঠেছি।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মে চাকরি করেন। শুক্রবার তিনি ট্রেনযোগে ঢাকায় রওনা হন। তিনি বলেন, টানা দুই বছর করোনার কারণে বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে পারিনি। করোনার দুঃসময় পার হয়েছে। এবার যশোরে পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পেরে ভালো লাগছে।

সকালে রেলস্টেশনে কথা হয় রহিমা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করি। ১ মে দিবসের ছুটি ছিল। পরে ঈদের ছুটি ছিল ৩দিন। রোববার ফিরেছিলাম যশোর সদরের জহুরপুর গ্রামের বাড়িতে। স্বামী-সন্তানদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করতে পেরে ভালো লাগছে। আরও দু’একটা দিন বাড়িতে থাকতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে ঢাকায়।

মোজাম্মেল হোসেনের বাড়ি যশোরের শিল্পনগরী নওয়াপাড়ায়। চাকরি করেন ঢাকায় লোক বীমা ইন্সুরেন্সে। তিনি বলেন, ছুটি শেষ হয়ে গেছে বুধবার। কিন্তু পারিবারিক কিছু ঝামেলা মিটিয়ে দু’দুদিন পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। খেজুর গুড় কিনতে যশোরে এসেছিলেন উল্লেখ করে বলেন, দোকান বন্ধ থাকায় কেনা হলো না। রাতে তিনি যাবেন ঢাকায়। সকালেই যোগ দেবেন কর্মস্থলে।

এদিকে বিকেলের পর শহরের বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন সড়ক, বিনোদিয়া পার্ক, বাহাদুরপুর পার্ক, পৌর উদ্যানসহ বিভিন্ন সড়কে সাধারণ মানুষ পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুরতে বের হন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস আজ ফের চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার থেকে ফের কলকাতা-খুলনা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ রেল চলাচল শুরু হবে।...

রসুনের গায়ে আগুন!

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা ক্ষুব্ধ ক্রেতা, স্বস্তিতে নেই কিছু বিক্রেতাও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: এবার ভোক্তার...

আনারসের পাতা থেকে সুতা সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি...

দড়াটানার ভৈরব পাড়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আঁখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড কুইন্স হাসপাতালের পূর্ব পাশে ভৈরব নদের পাড়ে মাদকসেবীদের...

আজকের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে অনিবন্ধিত ও নবায়নহীন অবস্থায় পরিচালিত অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার...

নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে : মির্জা ফখরুল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগের অধীনে আর...