Wednesday, July 6, 2022

এবার পৌরসভায় কর্তৃত্ব চান ডিসিরা

 জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা ও ক্ষমতা খর্বের আশংকা

কল্যাণ ডেস্ক: ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের পর এবার জেলা প্রশাসকরা প্রথম শ্রেণির ১৯৪টি পৌরসভায় নজরদারির ক্ষমতা পেতে পারেন। নজরদারির এ বিষযটি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের দৃষ্টিতে আনতে গত মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গত ১০ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় সভায়’ দেশের পৌরসভাগুলোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে জেলা প্রশাসকরা প্রথম শ্রেণির সব পৌরসভার আয়-ব্যয়, বেতন-ভাতা, দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়নসহ সব ধরনের কর্মকা- পরিদর্শন করতে পারবেন।

জেলা প্রশাসকরা এখন শুধু দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা পরিদর্শন করতে পারেন। কিন্তু প্রকল্প দেখভাল কিংবা আয় ব্যয়ের হিসাব দেখার ক্ষমতা তাদের নেই। নতুন প্রস্তাবটি পাস হলে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির ৩২৮টি পৌরসভার সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ডিসিরা। দেশে এখন দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা ৮৫টি, তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা ৪৯টি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসকরা নজরদারির প্রস্তাবিত ক্ষমতা পেলে পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পৌরসভার কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আনতে গত বছরের জুন থেকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং স্বচ্ছতা আনতে সিইও নিয়োগ করা হচ্ছে।
পৌর মেয়রদের সংগঠন মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, পৌরসভা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানেও যদি আমলাদের নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়ে যায়, তাহলে জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা আর থাকে না। পৌরসভার আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিবছর সরকার নিরীক্ষা করে থাকে। নতুন করে ডিসিদের এই দায়িত্ব দেয়ার কোনো মানে হয় না।
স্থানীয় সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন অনেকটাই প্রকাশ্য। উপজেলা পরিষদ আইনে ১২টি মন্ত্রণালয়ের ১৭টি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠপর্যায়ে উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিপত্র জারি করে এসব বিভাগের কর্মকা- চালানোর জন্য গঠিত কমিটিগুলোতে ইউএনওদের সভাপতি করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, ইউএনওদের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বায়ত্তশাসনের বদলে আরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক প্রণব কুমার পান্ডে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে আমলাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রস্তাবটি জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাই খর্ব করবে। পৌরসভায় নজরদারি করতে হলে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

পিঠে ছুরিবিদ্ধ খোকন নিজেই গাড়ি ভাড়া করে আসেন যশোর হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিঠে বিদ্ধ হওয়া ছুরি নিয়ে নিজেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন...

নায়কদের নামে কোরবানির গরু, আপত্তি জানালেন ওমর সানি

কল্যাণ ডেস্ক : আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায় এই ঈদে পশু কোরবানির...

এশিয়ার বাইরের উইকেটের যে কারণে অসহায় মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক : মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকে তাকে বলতেন, 'জোর বল করা...

নতুন ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত

কল্যাণ ডেস্ক : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের আওতায় আরও ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার...

নওয়াপাড়া বন্দরে অবৈধ তালিকায় ৬০ ঘাট

অবৈধভাবে গড়ে উঠা ঘাটের কারণে কমছে নদীর নাব্যতা ৫ বছরে অর্ধশত জাহাজ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত...

মণিরামপুরে জমজমাট কোরবানির পশু হাট

আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর : দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম হাট মণিরামপুরের গরু-ছাগলের হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে...