Tuesday, August 9, 2022

এ নৃশংতার শেষ কোথায়?

দেশে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। সমাজ ক্রমেই বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাওয়ায় আমাদের সমাজের পরিচয়টাই যেন পাল্টে যাচ্ছে। সে কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিলম্বিত বিচার কিংবা বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দৈনিক কল্যাণের ১৬ জুলাইয়ের সংখ্যায় এক বেপরোয়া ঘাতকের নৃশংসতার খবর প্রকাশ হয়েছে। ওই খবরে মানবরূপী দানবের ৩ আপনজন হত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শ্বাসরোধে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করেছে সে। ১৫ জুলাই দুপুরে জহিরুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩৫) তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। নিহত তিনজন হলো জহিররুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথী (৩২) এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও সাফিয়া (২)। জহিরুল ইসলামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে। ওই দিন দুপুরে জহিরুল ইসলাম স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথী এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সাফিয়াকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলো। দুপুর দেড়টার একটু পরে তারা উপজেলার ভৈরব নদের নগর খেয়াঘাট পার হয়ে চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছায়। আগে থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছিলো। চাঁপাতলা গ্রামের বাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বাগানের মধ্যে ফেলে রেখে সে বাড়িতে চলে যায়। বাড়ি যেয়ে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার কথা জানায়। বিকেল ৫টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা যশোর সদর উপজেলার বসু্িন্দয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ যেয়ে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এই হত্যাকা-টি যে একটি নিষ্ঠুরতম অমানবিক ঘটনা তাতে কোন সন্দেহ নেই। সামান্যতম মানবিক মূল্যবোধ থাকলে সে এমন কাজটি করতে পারতো না।

প্রতিদিনই যেন প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে নারীকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নারীর অবস্থার উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বদলে দিতে না পারলে নারী নির্যাতন কমবে না। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাড়াতে হবে নাগরিক সচেতনতা। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী নির্যাতন রুখে দেয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্যক্তি সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। হত্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিচার পেতে বিলম্ব হওয়া। নারী ও শিশু হত্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

জীবন জীবিকায় জ্বালানির জ্বালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছে ট্রাক মালিকরা। বাস মালিকরা বাড়িয়েছেন যাতায়াত ভাড়া। সবজি...

পবিত্র আশুরা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের...

পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। বিভিন্ন দিক দিয়ে এ দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানবজাতির আদি পিতা হজরত...

যশোরে স্বজন সংঘের নতুন কমিটি গঠন

স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা স্বজন সংঘের দুই বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।...

বাফওয়া যশোরের উদ্যোগে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) মতিউর আঞ্চলিক শাখা যশোরের উদ্যোগে সোমবার বঙ্গমাতা...

স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গমাতা ছিলেন সহায়ক : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালীন প্যারোলে...