শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

এ নৃশংতার শেষ কোথায়?

দেশে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। সমাজ ক্রমেই বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাওয়ায় আমাদের সমাজের পরিচয়টাই যেন পাল্টে যাচ্ছে। সে কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিলম্বিত বিচার কিংবা বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দৈনিক কল্যাণের ১৬ জুলাইয়ের সংখ্যায় এক বেপরোয়া ঘাতকের নৃশংসতার খবর প্রকাশ হয়েছে। ওই খবরে মানবরূপী দানবের ৩ আপনজন হত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শ্বাসরোধে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করেছে সে। ১৫ জুলাই দুপুরে জহিরুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩৫) তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। নিহত তিনজন হলো জহিররুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথী (৩২) এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও সাফিয়া (২)। জহিরুল ইসলামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে। ওই দিন দুপুরে জহিরুল ইসলাম স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথী এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সাফিয়াকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলো। দুপুর দেড়টার একটু পরে তারা উপজেলার ভৈরব নদের নগর খেয়াঘাট পার হয়ে চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছায়। আগে থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছিলো। চাঁপাতলা গ্রামের বাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বাগানের মধ্যে ফেলে রেখে সে বাড়িতে চলে যায়। বাড়ি যেয়ে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার কথা জানায়। বিকেল ৫টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা যশোর সদর উপজেলার বসু্িন্দয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ যেয়ে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এই হত্যাকা-টি যে একটি নিষ্ঠুরতম অমানবিক ঘটনা তাতে কোন সন্দেহ নেই। সামান্যতম মানবিক মূল্যবোধ থাকলে সে এমন কাজটি করতে পারতো না।

প্রতিদিনই যেন প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে নারীকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নারীর অবস্থার উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বদলে দিতে না পারলে নারী নির্যাতন কমবে না। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাড়াতে হবে নাগরিক সচেতনতা। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী নির্যাতন রুখে দেয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্যক্তি সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। হত্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বিচার পেতে বিলম্ব হওয়া। নারী ও শিশু হত্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

যে কারণে ছিটকে গেল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক : কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ছিল ব্রাজিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে বিবশ করা খেলা...

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...

যশোরে ৮ নারী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: শুক্রবার ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪২ তম জন্মবার্ষিকী ও...

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় এক কলেজছাত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার...

যশোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত, একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।...