রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

ওরা কি আইনের গণ্ডিতে বাস করে না?

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ২৯ অক্টোবর গ্রিন লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে সাইন বোর্ডবিহীন ক্লিনিকটি অনুমোদন নেই। ২৯ অক্টোবর আশরাফ আলী শেখ (৮০) নামে ওই রোগীর মৃত্যুর পর ওই ক্লিনিকের পরিচালক কচুয়া উপজেলা উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ভা-ারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইএ কামাল হোসেন মুফতি কিøনিক ফেলে পালিয়ে যান।

ভাবতে অবাক লাগে ওরা কি আইনের গণ্ডিতে আবদ্ধ একটি দেশে বাস করে না? যদি তাই করে তালে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ক্লিনিক বন্ধে অভিযান চালানোর পরও তা চলে কি করে? তাও আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাকের ডগায়। আর সে ব্যাপারে যেখানে হস্তক্ষেপ করবে স্বাস্থ্য বিভাগ সেখানে হস্তÍক্ষেপ করতে হলো উপজেলা প্রশাসনকে। আরো আশ্চর্য বিষয় হলের ওই ক্লিনিকের পরিচালক ও ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

দুই দফা অভিযানে ওই সব ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা ইচ্ছা অনুযায়ী চলছে। একটি বড় ফটকা ব্যবসা হচ্ছে ক্লিনিক ব্যবসা। এর প্রমাণ মোড়েলগঞ্জের ওই ক্লিনিকটি। প্রশ্ন জাগে কেন এ সব অনিয়ম ও আইনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হয় না? কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার ফলে অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায় এবং তারা অপরাধে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক নামের যে ফটকাবাজি প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে তার সবগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। এসব ক্লিনিকে নার্স তো নেই, ডাক্তারও থাকে না। উপজেলা ক্লিনিকগুলোতে দেখা যায় সেখানে বিষয়ভিত্তিক ডাক্তার না থাকায় বিপদের সময় অর্থাৎ জরুরি মুহূর্তে রোগী নিয়ে ছুটতে হয় জেলা শহরে। ফ্রিস্টাইলে সিজারিয়ান অপারেশন করার পর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের চিকিৎসার প্রয়োজনে শিশু ডাক্তার পাওয়া যায় না। তখন অভিভাবকদের নিজে দায়িত্বে ছুটতে হয় শিশু ডাক্তারের কাছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, অব্যবস্থায় ভরা এসব ক্লিনিকে যদি সরকারি ডাক্তারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আগে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি বেতনের টাকায় যদি তাদের পেট না ভরে তাহলে তাদের চাকরি থেকে বিদায় দিতে হবে ফ্রিস্টাইলে টাকা আয় করার জন্য। মানবতার সেবার নামে এসব ডাক্তার নামের ডাকাতরা মানবতা বিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছেন বিনা বাধায়। এভাবে ফ্রিস্টাইলে চলার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ যখন আবার অভিযানে নামছে তখন একথা স্পষ্ট যে বিভাগটি বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলবো- এ অভিযান যেন কিøনিক নামের অপরাধ দমনের চূড়ান্ত অভিযান হয়। তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যেন তারা আর এ পথে নামতে সাহস না পায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...

নিজের ১০০০তম ম্যাচ রাঙিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : ৬৫ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে চিতার মতো অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডের ট্রাইঙ্গেল...

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া ডেস্ক  : গ্রুপ লিগের পর নকআউট পর্বের শুরুটাও দুরন্ত করলো নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাউন্ড...

প্রযুক্তির মাধ্যমে দিনবদল করেছেন শেখ হাসিনা : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে যশোরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী...

কুয়েতে প্রতারণার শিকার শতাধিক বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুয়েতে শতাধিক বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আকামা পরিবর্তনসহ...

চাঁদাবাজির অভিযোগে হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে এক হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন...