কপোতাক্ষা ও ভৈরব নদকে চেপে ধরেছে ৬৬ অপরিকল্পিত সেতু

কপোতাক্ষা ও ভৈরব নদকে চেপে ধরেছে ৬৬ অপরিকল্পিত সেতু

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে কপোতাক্ষ ও ভৈরব নদ খনন কাজের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিকল্পিত সেতু। যশোরের প্রধান নদী হিসেবে পরিচিত ভৈরব ও কপোতাক্ষ। অথচ নদ দুটির অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। দখল আর দূষণে নদীর জীবন নেই বললেই চলে। কপোতাক্ষ নদটির ওপর রয়েছে সেতু ১৬টি। এর মধ্যে মাত্র একটি সেতু নিয়ম মেনে করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। আর ভৈরব নদে রয়েছে ৫১ অপরিকল্পিত সেতু। এসব সেতু নদ দুটিকে চেপে ধরেছে অক্টোপাসের মতো।
নিচু করে নির্মাণ করা সেতুর কারণে নদের পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। প্রাণ ফিরিয়ে দিতে বর্তমানে নদগুলো খনন করার কাজ শুরু হচ্ছে। কিন্তু এসব সেতুর কারণে নদ খননের সুফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব নদের গতিপথ টেনে ধরেছে অপরিকল্পিতভাবে করা ৫১টি ব্রিজ-কালভার্ট। এর মধ্যে যশোর সদরে ৩৪টি, চৌগাছা উপজেলায় ১৬টি এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার গৌরিনাথপুর ব্রিজ রয়েছে। এসব ব্রিজ-কালভার্টের কারণে নদীর প্রশস্ততা কমার পাশাপশি এর গতিপথও শ্লথ হয়ে পড়েছে। সেই সাথে সমানতালে চলেছে দখল আর দূষণ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় ৮০ দশকে গড়ে তোলা হয় ব্রিজ। মাত্র ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১২ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থ ব্রিজটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অথচ ভৈরব নদের দৈর্ঘ্য শহরে ১৫০ মিটার ও শহরের বাইরে ৩শ’ মিটার রয়েছে। এর চেয়েও খারাপ অবস্থা সদরের রাজারহাট কচুয়া ব্রিজের। মাত্র ১২ মিটার দৈর্ঘ্য আর ৩ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থ এটি। ব্রিজটিতে একটি ছোট গাড়ি চললে অপর পাশ দিয়ে রিক্সা পর্যন্ত চলাচল করতে পারেনা বলে জানান, রাজারহাটের বাসিন্দা আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, ওই ব্রিজটির কারণে নদীর প্রশস্ততা যেমন কমেছে তেমনি দখলও করা হয়েছে।
ওই দু’টি ব্রিজের মতো একই অবস্থা সদরের ঘোপ ব্রিজ, মাশলিয়া, ঝনঝনিয়া, ঝনঝনিয়া সমসপুর, মথুরাপুর, মানিকদিহি, হৈবতপুর, রেলওয়ে, খোজারহাট, শানতলা, খয়েরতলা, বিরামপুর, বাবলাতলা, কাঠেরপুল, ঢাকারোড, ঝুমঝুমপুর লিচুতলা, নীলগঞ্জ, রুপদিয়া, ভগবতিতলা, মাথাভাঙ্গা, বসুন্দিয়া ব্রিজের। কালভার্টগুলো আরও অপ্রশস্ত।
বর্তমানে ২৭২ কোটি ৮২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের’ কাজ শুরু হয়েছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে নওয়াপাড়ার আফরাঘাট পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার ভৈরব নদ খনন ও যশোর শহর এলাকায় নদের দুই পাড়ের ১০ কিলোমিটার হাটার রাস্তা নির্মাণ এবং সৌন্দর্য্যবর্ধন করা হবে। কিন্তু শহরাংশে খননকাজ জটিলতা সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীর ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০১০ অনুযায়ী, দেশে চার শ্রেণির জলপথ রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ তৃতীয় শ্রেণির জলপথের আওতাভুক্ত। তৃতীয় শ্রেণির জলপথে নদ-নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উচ্চতা হবে পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ২৫ফুট।
যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নে তাহেরপুর গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। তাহেরপুর সেতু থেকে কয়েকশ গজ দূরে ভৈরব দুই ভাগ হয়েছে। পুব বা বাঁ দিকে মূল ভৈরব, আর ডান বা পশ্চিম দিকের শাখাটি কপোতাক্ষ। তাহেরপুর থেকে যাত্রা শুরু করে, সাতক্ষীরা হয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শিববাড়িতে গিয়ে শেষ হয়েছে কপোতাক্ষ। সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা বলছেন, কপোতাক্ষ দৈর্ঘ্যে ১৮০ কিলোমিটার।
একসময় কপোতাক্ষ নদ ছিল প্রমত্তা। বিদেশের মাটিতে বসে নিজের শৈশবের কপোতাক্ষ নদের কথা মনে করে কালজয়ী কবিতা লিখেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে/ সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।’ খরস্রোতা সেই নদ স্মৃতিকাতর করে তুলেছিল কবিকে। কপোতাক্ষের কোথাও শুকনো খটখটে, আবার কোথাও সরু খালের মতো জমে আছে পানি আর তার ওপর ভর করেছে রাজ্যের কচুরিপানা।
২০১১ সাল থেকে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২৮৬ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০১৭ সালে শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পাখিমারার বিলে জোয়ারাধার (টিআরএম-টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়ন করে পাউবো। জোয়ারের পানি বিলে তোলা হয়, জোয়ারে আসা পলি বিলে পড়ে বিল ভরাট হয়। আবার ভাটার সময় বিলের পানি নদীতে ফিরে স্রোত বাড়ায়, ফলে নাব্যতা বাড়বে। এটাই জোয়ারাধারের মূল কথা। এতে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় কপোতাক্ষ। পুনরায় ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ গ্রহণ করা হয়েছে। ৫৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২০ সালে শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালে তা শেষ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ছয়টি এলাকা। এলাকাগুলো হলো যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে মণিরামপুর উপজেলার চাকলা সেতু পর্যন্ত ৭৯ কিলোমিটার কপোতাক্ষ নদ পুনর্খনন, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শালিখা থেকে আমাদি পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার শালিখা শাখা নদী পুনখনন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা হয়ে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার আপার ভৈরব নদ পুনঃখনন, কপোতাক্ষ নদের সিএস ম্যাপ অনুযায়ী ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনখনন, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা বাজার থেকে জেঠুয়া বাজার পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের ২৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং ৩২টি সংযোগ খালের ১০৮ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পুনখনন। কপোতাক্ষ নদ পুনঃখননে এক পাড় থেকে অপর পাড়ের দূরত্ব হবে ৫৫ থেকে ৭০ মিটার পর্যন্ত।
কপোতাক্ষ নদের ওপর অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর সেতু, চৌগাছা সেতু, মাশিলা সেতু, কাবিলপুর সেতু,বারবাকপুর সেতু, ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর সেতু, মিশ্রীদেয়াড়া সেতু, ঝিকরগাছা সড়ক সেতু, ঝিকরগাছা রেল সেতু, বেজিয়াতলা সেতু বাঁকড়া সেতু এবং মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা সেতু ও চাকলা সেতু। পরিকল্পনা মাফিক নির্মাণ করা হয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা সেতু। সেতুগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইড) ৭টি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের ২টি, সড়ক ও জনপথের (সওজ) তিনটি, বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সেতু রয়েছে। স্থানীয় জনগন একটি সেতু নির্মাণ করেছেন। কপোতাক্ষ নদের খননকাজ শুরু করা হলেও এসব সেতুর কারণে কাক্সিক্ষত সুফল অর্জন ব্যাহত হবে।
কপোতাক্ষ নদ নিয়ে গত ১৮ বছর যাবত আন্দোলন করছে যশোরের কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন। সংগঠনটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভৈরব ও কপোতাক্ষের ওপর নিচু সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে নদ দুটিকে অনেক আগেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সেতুর নিচ দিয়ে নদে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না। অপরিকল্পিতভাবে নিমিত সেতু ভৈরব ও কপোতাক্ষ ভরাটের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা ভৈরব নদের উপর ৫১ট অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট চিহিৃত করেছি। এসব ব্রিজ-কালভার্ট ভৈরবকে ছোট করে ফেলেছে। নদের দৈর্ঘ্য শহরে ১৫০ মিটার এবং উপজেলায় ৩শ’ মিটার রয়েছে। কিন্তু ব্রিজ-কালভার্ট করা হয়েছে ১২ থেকে ৭০ মিটার। এখন আমাদের খননকাজেও বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এসব অপিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট। যে কারণে আমরা মন্ত্রণালয়ে এগুলো ভেঙ্গে নতুন করে করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উজান ও ভাটিতে নদের প্রস্থ ২০০-৩০০ফুট হলেও শহরের অংশে এসে ১০০-১২০ ফুটের বেশি নেই। আর কপোতাক্ষ নদের প্রস্থ ৭০ মিটার থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত আছে। তবে সেতুর উচ্চতার বিষয়টি দেখে বিআইডব্লিউটিএ। নদের ওপর নিমিত সেতুগুলোর যে দৈর্ঘ্য রয়েছে তাতে নদটি পুনঃখননে কোনো সমস্যা হবে না।
নদের ওপর নিচু সেতু নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডি যশোর, কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামান বলেন, কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতুগুলো আগেই নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোতে কিছুই করার নেই। এখন থেকে যে সেতুগুলো নির্মাণ করা হবে সেগুলো বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমোদন নিয়েই করা হবে।
সরেজমিনে সেতুগুলো ঘুরে দেখা গেছে, চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর এবং চৌগাছা সেতু নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। নারায়নপুর সেতুর দৈর্ঘ্য ১১১ দশমিক ২৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৬০ মিটার। ২০১৫ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। চৌগাছার সেতুর দৈর্ঘ্য ৫০ দশমিক ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। ২০১৬ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে সেতু দুটি উচ্চতা জানাতে পারেনি সওজ বিভাগ। নদের দুইপাশে মাটি দিয়ে কিছু অংশ ভরাট করে চৌগাছা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কপোতাক্ষের পাশেই বাড়ি চৌগাছা উপজেলার কংসারীপুর প্রামের একুব্বার আলী সরদারের (৮১)। তিনি বলেন, এক সময় কলকাতা থেকে পণ্যবাহী জাহাজ এসে ভিড়তো চৌগাছায়। এখান থেকে খেজুরের গুড় বোঝাই করে জাহাজগুলো আমার কলকাতা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতো। ২০-২৫ বছর আগেও নদ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং পালতোলা নৌকা চলতো। নিচু করে সেতু নির্মাণের পর নদ দিয়ে নৌকা চলাচল করতে পারে না।
উপজেলার মাশিলা সেতুর দৈর্ঘ ৫৮ দশমিক ৮ মিটার এবং প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটার। সেতুটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। ২০০৩ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কাবিলপুর সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮৯ সালে। সেতুর দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণ করে। পানির উপরিভাগ থেকে সেতুটির গার্ডার পর্যন্ত উচ্চতা চার ফুট মতো হবে। বারবাকপুর সেতুটি ২০০৩ সালে নির্মাণ করেছে এলজিইডি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার।
ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮৯ সালে। সেতুর দৈর্ঘ্য ১৭০ ফুট। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর সেতুটি নির্মাণ করে। উপজেলার মাগুরা সেতুর দৈর্ঘ্য ১৩৭ মিটার। চলতি বছর সেতুটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। সেতুটির বিআইডব্লিইটিএ’র অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছে। মিশ্রীদেয়াড়া সেতুর দৈর্ঘ্য ১৯০ ফুট। উচ্চথা প্রায় তিন ফুট। ২০১৬ সালে স্থানীয় লোকজন চাঁদা তুলে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার এই সেতুটি নির্মাণ করেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (বাংলাদেশ) ঝিকরগাছা সড়ক সেতু নির্মাণ করছে। ছয় লেনের সেতুটি ১২০ মিটার দীর্ঘ। তবে সেতুটির উচ্চতা পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ ফুট। ঝিকরগাছা রেল সেতুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলার বেজিয়াতলা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৪ দশমিক ৮৮ মিটার। সেতুটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। ২০০৭ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বাঁকড়া সেতুর দৈর্ঘ্য ৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। সেতুটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। ১৯৯৭ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা সেতুর দৈর্ঘ্য ১০৫ এবং প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ দশমিক ৫ মিটার। সেতুটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। ২০০৫ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলার চাকলা সেতু নির্মাণ করেছে এলজিইডি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৬৮ মিটার। সেতুটি ২০১৬ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
কপোতাক্ষ নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাতেন মনিরামপুর উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের আব্দুল বারিক (৫৩)। তিনি বলেন, চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর থেকে নৌকায় মালামাল নিয়ে নদ দিয়ে খুলনার পাইকগাছায় যেতাম। ১৯৯০ সালে শেষবার গিয়েছি। এরপর নিচু করে নদের সেতু তৈরি করা হয়। ওইসব সেতুর নিচ দিয়ে নৌকা যায় না। এজন্য নৌকা চালানো বাদ দিয়ে দিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও নদী গবেষক ড. সাইবুর রহমান মোল্যা বলেন, ভৈরব নদের প্রস্থ ২৫০-৩০০ ফুট পর্যন্ত ছিল। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা ব্রিজ-কালভার্টেল কারণে পলি জমে ও দখলে বর্তমানে নদের প্রস্থ স্থানভেদে ১০০-১২০ ফুট পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। যশোর শহরের অংশে আরও কমেছে ভৈরব নদের প্রস্থ। পানি প্রবাহের অভাবে নদটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একই অবস্থা কপোতাক্ষে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নদ খননের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে