কাঁকন হত্যা : সন্দিগ্ধ আসামি জিতু আটক

যশোরের তাঁতীলীগ নেতা আব্দুর রহমান কাঁকন হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি জিতুকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে।
আসামি জিতু।-ফাইল ফটো

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরের তাঁতীলীগ নেতা আব্দুর রহমান কাঁকন (৩৫) হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি জিতুকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর জেলা সিআইডি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করার জন্য অনুমতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি যশোর জোনের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।

সিআইডি পুলিশ আসামি আটকের তথ্য নিশ্চিত করলেও আটককৃতের নাম পরিচয় জানায়নি। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বারান্দী মোল্লাপাড়ার জিতুকে আটক করেছে সিআইডি। দুইদিন আগে তাকে আটক করা হয়েছে। জিতুর আটক হওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন তার পিতা সিরাজুল ইসলাম সিরু।
গত ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন করে কাঁকনকে।

জিতু ফরিদপুর সদর উপজেলার চরভদ্রশন গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থানের পূর্বপাশের রাজু আহমেদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। কাঁকন যশোর জেলা তাঁতীলীগের সদস্য সচিব।
কাঁকন নিহতের হওয়ার পরপরই এলাকায় গুঞ্জন উঠে ওই এলাকার সন্ত্রাসী জিতু ও তার পরিবারের সাথে কাঁকনের শত্রুতা ছিলো। নিহত হওয়ার কয়েকদিন আগে ড্রেন পরিষ্কার নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির লোকের সাথে তার বচসা হয়। এ দিকে জিতু যশোর থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তাকে জিতুর অবস্থান সনাক্ত করে তাকে আটক করে।

এ বিষয়ে জিতুর পিতা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার ছেলেকে শুরু থেকে এই হত্যা মামলায় সন্দেহ করে প্রশাসনের লোকজন। জিতু মূলত মাদকাসক্ত। সে নেশার ঘরে আগে অনেক ছোটখাট আপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় মামলা করা হয়েছে। ফলে মোল্লাপাড়ায় যা কিছু ঘটুক, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ তাকে সন্দেহ করে। কাঁকন হত্যার পর তাকে সন্দেহ করা হলে সে নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে ছিলো। তিনদিন আগে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে আটক করে । কিন্তু কোথায় নেয়া হয়েছে তা জানতে পারেনি।
সিআইডির পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে সন্দেহজনক আসামি হিসাবে। নাম জানতে চাইলে তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মানিক চন্দ্র গাইনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কার্মকর্তা পরিদর্শক মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, আমি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্ত কিনা তা এখনো নিশ্চিত নই। তবে মামলা এখনো হাতে পাইনি। নারায়ণগঞ্জ থেকে কাউকে আটকের সংবাদও আমার কাছে নেই।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে