Saturday, July 2, 2022

কালনায় আটকে আছে পদ্মা সেতু ছোঁয়ার স্বপ্ন

যশোর-নড়াইলবাসীর অপেক্ষা কাটছে সেপ্টেম্বরে

আবদুল কাদের: আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। এই সেতুর সাথে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অর্থনীতি। যার মধ্যে যশোর-নড়াইল জেলাও রয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করতে হলে নির্মাণ শেষ করতে হবে নড়াইলের কালনা সেতুর। বর্তমানে সেতুটির নির্মাণ কাজ চলমান। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ আশা করছেন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এই সেতুটির উদ্বোধন করা যাবে।

পদ্মা সেতুর সাথে যান চলাচলের জন্য নড়াইলের কালনা পয়েন্টে বিরামহীনভাবে এগিয়ে চলছে ছয় লেনের কালনা সেতু নির্মাণের কাজ। মধুমতী নদীতে নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি হবে দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। পদ্মা সেতুর সঙ্গে উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিন মাস পিছিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করে চারদিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান কালনা সেতু নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। এসময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহবান জানান।

সওজ বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু হচ্ছে। জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এ সেতুর ঠিকাদার। সেতুর পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। এ সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, এ সেতুর সার্বিক কাজ হয়েছে ৮০ ভাগ। সংযোগ সড়কের কাজ শেষের পথে। মূল সেতুর দুটি স্প্যান বসানোর কাজ বাকি আছে। এ দুটি বসানো হলে গাড়ি চালানো যাবে। সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্প্রতি সেতুর কাজ পরিদর্শন করেছেন।

এ সেতুর কাজে দীর্ঘদিন ধরে উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন সওজের প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান, দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু এটি। পদ্মা সেতু চার লেনের। দেশের সবচেয়ে বড় নেলসন লোসআর্চ টাইপের (ধনুকেরমতোবাঁকা) সেতু, যা হবে দৃষ্টিনন্দন। পদ্মা সেতুর পাইল ক্যাপপানির ওপর পর্যন্ত। কিন্তু এ সেতুর পাইলক্যাপ পানির নিচে মাটির ভেতরে। তাই নৌযানচলাচল সমস্যা হবে না, পলি জমবে না এবং নদীর স্রোত কম বাধাগ্রস্ত হবে।

সরেজমিনে গিয়ে ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পূর্ব পাড়ের সংযোগ সড়কের কার্পেটিং শুরু হয়েছে ও পশ্চিমপাড়ে পাথর-বালুর ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সংযোগ সড়কের ১৩টি কালভার্টের মধ্যে ১২টির কাজ শেষ হয়েছে। আটটি আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে। কাশিয়ানীপ্রান্তে ডিজিটাল টোলপ্লাজা নির্মাণের কাজ চলছে। সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান। নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকেরমতোবাঁকা) এ স্প্যানটি তৈরি হয়েছে ভিয়েতনামে। তৈরি করেছে জাপানের নিপ্পন কোম্পানি। এটিই ছিল সেতুর সবচেয়ে বড় কাজ, তা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ওই স্প্যানটির উভয় পাশের অন্য স্প্যানগুলো পিসি গার্ডারের (কনক্রিট)। মোট ১৩টি স্প্যানের মধ্যে পিসি গার্ডারের দুটি স্প্যানের কাজ বাকি আছে।

নড়াইলের সাংবাদিক ইমরান হোসেন জানান, সেতুটির কাজ ভালো গতিতে এগোচ্ছে। এটি চালু হলে যশোর-নড়াইল জেলার মানুষ বেশি সুবিধা ভোগ করবে।

এ বিষয়ে সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমে সেতুর নকশা ছিল চার লেনের, পরে তা করা হয়েছে ছয় লেনের। সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হয়েছে। করোনার জন্য প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। আবার অতিবৃষ্টির কারণেও কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

এই সেতু চালু হলে উভয়পারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এখানে সেতুর দাবিতে বহু আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নড়াইলের নির্বাচনী জনসভায় এ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সওজ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ সেতু চালু হলে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে যশোর হয়ে নড়াইল যাতায়াতকারী পরিবহন মাগুরা-ফরিদপুর হয়ে যাতায়াতের পরিবর্তে কালনা হয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এতে বেনাপোল-ঢাকা ও যশোর-ঢাকার দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার, খুলনা-ঢাকার দূরত্ব ১২১ কিলোমিটার এবং নড়াইল-ঢাকার দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার কমবে। একইভাবে ঢাকার সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দর, সাতক্ষীরার দূরত্বও কমে যাবে।

এ প্রসঙ্গে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, যশোর-নড়াইল সড়ক আপাতত ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ করা হবে। বর্তমানে সড়কটি ১৮ ফিটের জায়গায় ২৪ ফিট করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেন বিয়ে করেননি, জানালেন সুস্মিতা

বিনোদন ডেস্ক: কেন বিয়ে করেননি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন; এমন প্রশ্ন...

করোনায় নতুন শনাক্ত ১৮৯৭, মৃত্যু ৫ জনের

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল...

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

কল্যাণ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে...

যশোরের কেশবপুরে নরসুন্দর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কেশবপুর প্রতিনিধি : জেলার কেশবপুর উপজেলায় নরসুন্দর এক যুবকের গলা ও পেট কেটে হত্যা করেছে...

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...