কোটচাঁদপুরে বিদ্রোহী ২, আ. লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র ১ জন করে নির্বাচিত

ইউপি নির্বাচন

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কোনো প্রকার অপ্রীতকর ঘটনা ছাড়াই কোটচাঁদপুরের ৫টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী দুই জন এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র একজন করে প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

গতকাল সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোট শুরুর আগে সকাল থেকে নারী ও পুরুষরা লম্বা লাইনে দাড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

৫টি ইউনিয়নের ৫১টি কেন্দ্রের ২শ’ ৭৬টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। মোট ভোটার ছিল ৮৭,১৮৪ জন। নির্বাচনে ১ নং সাবদারপুর ইউনিয়ন থেকে বেসরকারিভাবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের নওশের আলী নাছির। ২নং দোড়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জলিল বিশ্বাস আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন অপর বিদ্রোহী প্রার্থী শামিম আরা হ্যাপি। এখানে নৌকা প্রতীক পাওয়া বর্তমান চেয়ারমান কাবিল উদ্দীন বিশ্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।

৩নং কুশনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহারুজ্জামান সবুজ চশমা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম। এই ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।

৪ নং বলুহর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু আনারস প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন।

৫ নং এলাঙ্গী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান খান ৬২৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী চশমা প্রতীকের আজিজুর রহমান মানিক। তিনি পেয়েছেন ৪৩৯৩ ভোট। কোটচাঁদপুর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ওয়াহিদ মুরাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (১০.১৫) প্রার্থীদের ভোটের প্রাপ্ত সংখ্যা ও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দিতে পারেননি।

এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, ৪ শতাধিক পুলিশ, ৮’শ ৭৬ জন আনসার ভিডিপি, ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দু’জন জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে