রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২

কোলন ক্যান্সার

কল্যাণ ডেস্ক: আমাদের শরীরের কার্যকরী পত্যঙ্গ হলো কোলন ও রেকট্রাম। এদের কাজ হচ্ছে মলকে ধারণ ও নিষ্ক্রমণ করা। কোলন ক্যান্সার বেশ জটিল ও কঠিন অসুখ। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোলন ক্যান্সার সেরে যায়।

লক্ষণ

কোলনের ভেতর কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে। সেগুলো মলের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। পেটের মধ্যে পুরোনো মল জমে থাকলেই নানান শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা থাকলে বা কালো কিংবা রক্তযুক্ত মল নির্গত হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই জরুরি। বিশেষ করে মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া লক্ষণটি একদমই ভালো নয়। সময়মতো সাবধান হওয়া প্রয়োজন। মলের রং কালো হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন। মলদ্বারের অনেক জটিল সমস্যার প্রধান লক্ষণ মলের সঙ্গে রক্ত পড়া। বিশেষজ্ঞরা রক্তস্বল্পতা অর্থাৎ অ্যানিমিয়াকেও কোলন ক্যান্সারের অন্যতম লক্ষণ বলে চিহ্নিত করেছেন।

রোগ নির্ণয়

কোলন ক্যান্সার নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা প্রথমেই মল ও রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। প্রাথমিকভাবে ওষুধে কাজ না হলে কলোনোস্কপি করে থাকেন। শরীরের ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে মনিটরে দেখে নেওয়া হয় কোলনে টিউমার বা পলিপ তৈরি হয়েছে কিনা। টিউমার বা পলিপের অস্তিত্ব ধরা পড়লে সেটি ম্যালিগন্যান্ট কিনা সেটা বায়োসপি ও সিটি স্ক্যান করলেই জানা যায়। এই পর্যন্ত সব ঠিক চললে প্রথমেই টিউমারটি অপারেশন করে বের করে দেওয়া হয়। জায়গাটি জুড়ে যাওয়ার পর বায়োসপি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি চালু করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা আছে, মলের সঙ্গে রক্ত পড়ে বা কালো মল ত্যাগ করে তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের কোলন ক্যান্সারের সংখ্যা বেশি।

চিকিৎসা

কোলনের ভেতরে ছোট, বড়, মাঝারি বিভিন্ন ধরনের পলিপ পাওয়া যায়। চিকিৎসক বায়োসপি করে দেখে নেন রোগ কতটা ছড়িয়েছে। প্রয়োজন হলে কোলনের এ অংশ কেটে বাদ দিয়ে দেন। অস্ত্রোপচারের সাত-আট দিনের মধ্যেই রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসতে পারেন। অর্থাৎ হাঁটা-চলা, খাবার খাওয়া সব আগের মতোই করতে পারেন। এক মাস পর রোগীর শরীরের অবস্থা বুঝে কেমোথেরাপি শুরু করা হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে সাধারণত ছয়টির বেশি কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না।

সচেতনতা

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিন। প্রতিবেলার খাবারে উচ্চমানের আঁশযুক্ত খাবার থাকলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন লাল মাংস, ভাজাপোড়া, রিচফুড এড়িয়ে চলাই ভালো। যাদের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূলের পরিমাণ বেশি থাকে তাদের কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই কম।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বাড়ছে শীতজনিত শিশুরোগী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

‘আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ কেবল শুরু’: মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক: সৌদি আরবের বিপক্ষে এক হারেই কোণঠাসা অবস্থা। ম্যাচ জিতলে আশা বেঁচে থাকবে,...

চুড়ামনকাটিতে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: যশোরে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকের পকেট কাটছে ডিলার ও সাব-ডিলারসহ খুচরা...

সীমাহীন কষ্টে ১১২ ঘরের বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পানির অপর নাম জীবন। জীবনের জন্য অত্যাবশকীয় সেই পানির দুই সমস্যায় প্রায়...

ট্রেন দুর্ঘটনা রুখতে ডিজিটাল রেল ক্রসিং

এ্যান্টনি দাস: ট্রেন দুর্ঘটনা রুখতে চার বন্ধু আবিষ্কার করেছে ডিজিটাল রেল ক্রসিং। সেখানে ট্রেন...

নির্বাচনে অংশগ্রহণ দলের ইচ্ছাধীন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস: নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া রাজনতিক দলের ইচ্ছাধীন বিষয় বলে মন্তব্য...

মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : মেক্সিকোর ডি-বক্সের সামনে ডি মারিয়ার পাস পেলেন মেসি। সেখান থেকে বাঁ পায়ের...