নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস আসলে কতটা বিপজ্জনক?

নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস আসলে কতটা বিপজ্জনক

অনলাইন ডেস্ক: ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর মাদকগুলোর মধ্যে একটি। আইস নামে পরিচিত এই মাদকটি এখন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ যশোরেও উদ্ধার হয়েছে।

নতুন এই মাদক সর্ম্পকে সমাজে সচেতনতা তৈরি ও এর ক্ষতিকর দিকসমূহ তুলে ধরেছেন দৈনিক কল্যাণের স্টাফ রিপোর্টার শাহারিয়ার অপু।

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস আসলে কী?

ক্রিস্টাল মেথ একটি শক্তিশালী মাদক, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ড্রাগ অ্যাবিউজের তথ্য অনুসারে, এই মাদকের ব্যবহার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, দাঁত ক্ষয় ও স্থায়ী হ্যালুসিনেশনসহ অন্যান্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

আইসের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার অস্বাভাবিক আচরণ ও ক্ষুধামন্দা বাড়িয়ে তুলতে পারে। আসক্তরা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।

ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন। তাই এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক।

ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে। ইয়াবা বা হেরোইন হল ওপিয়ামের বাইপ্রডাক্ট।

শরীরে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে?

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ইয়াবার চেয়ে বেশিগুণ ক্ষতিকর শরীরের জন্য। যা সেবন করলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক, মানুষিক ও পারিবারিক ঝুঁকি ।

আইস সেবন করে পরে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন ব্যক্তির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

যে কারনে শুধুমাত্র আইস সেবনে কারও শরীরে ঠিক কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার না।

যেহেতু ইয়াবার মূল উপাদান দিয়েই পূর্ণাঙ্গ আইস তৈরি হয়, সে কারণে ইয়াবায় যেসব লক্ষণ বা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সেগুলোই অনেক বেশি আকারে দেখা দেয় আইস সেবনের কারণে।

যশোরেও ঢুকেছে ক্রিস্টাল মেথ আইস!

যশোরে প্রথমবারের মতো মিললো ভয়ানক মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ বা আইস’। ১২ নভেস্বর রাতে শহরের সিটি কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ দুই গ্রাম এই মাদক উদ্ধার করে। এর দাম এক লাখ টাকা।

এ সময় ৫৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়। আটক মাদক বিক্রেতা রিনা খাতুন (৪০) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সাদিপুরের মামুন মন্ডলের স্ত্রী।

খুলনা বিভাগে এই প্রথম ভয়ানক মাদক ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার হলো।  অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এই মাদক।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেছেন, বরফ ক্রিস্টাল মেথ এবং মেথ একই সাধারণ পদার্থকে বোঝায়। ক্রিস্টাল মেথ আরো শক্তিশালি। ঘনীভূত আকারে ওষুধকে বোঝায়। এটি সাধারণত রাসায়নিক সুপার ল্যাবগুলিতে তৈরি করা হয়।

এটি উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মানবদেহে ব্যবহারে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অনুভব করা যায়। এটা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

মাদকের কালো থাবা এমনভাবে মানুষকে গ্রাস করে যে, নেশাগ্রস্থ ব্যাক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। জীবন তাদের কাছে হয়ে ওঠে তুচ্ছ। মরবে কি বাঁচবে সে জ্ঞান তাদের থাকে না।

আর ধর্ম জ্ঞান সে তো অনেক দূরের বিষয়। তারা সব সময়  মানসিক উচ্ছৃঙ্খল, অবসাদ ও বিষন্নতায় ভোগে।

আর তাই বিত্তবান ঘরের উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা মাদক সেবন ও ব্যবসায় নেমেছে।
সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করলেও ফল কিন্তু সন্তোষজনক নয়।
এ ব্যবসাকে ডেডস্টপ করতে হবে। বিকশিত হবার আগেই হারিয়ে যায়, কত উদীয়মান প্রতিভা।

বিধবা হয় কত নারী, কত শিশু এতিম হয়। মাদকাসক্তরা পরিবার সমাজে অস্বাভাবিক জীবনযাপনের শিকার হয়।

মাদকের মূলোৎপাটনে সরকার যে শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

আরো পড়ুন:
কপোতাক্ষা ও ভৈরব নদকে চেপে ধরেছে ৬৬ অপরিকল্পিত সেতু
করোনার নতুন ধরন : দেশে দেশে সতর্কতা
কাঁকন হত্যার কথা স্বীকার করেছে জিতু

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে