Wednesday, July 6, 2022

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির রেকর্ড : গরিব মানুষ চিড়ে-চ্যাপটা

ঢাকা অফিস: গরিব মানুষের অবস্থা চিড়েচ্যাপটা। খাদ্য কিনতেই তাদের আয়ের সব খরচ হয়ে হচ্ছে। নি¤œ আয়ের ৯০ ভাগই খাদ্য কিনতে ব্যয় করে। তাতেও সে পর্যাপ্ত খাদ্য পায়না। যা তাদের আরো দরিদ্র অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে রোববার। তারা বলছে, মে মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই হার গত আট বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৪৮ শতাংশ। এটাকে মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফন বলা হচ্ছে। মে মাসের আগের চার-পাঁচ মাস এটা ছয় শতাংশের আশপাশে ছিলো। নিত্যপণ্য বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি এতটা বেড়েছে।

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি ৮.৩ শতাংশ। এপ্রিলে ছিল ৬.২৩ শতাংশ। বিবিএস-এর হিসেবে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিলো ২০১০-১১ অর্থ বছরে ১০.৯১ শতাংশ।

মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭.৪২ শতাংশ হলেও গ্রামে এই হার ৭.৯৪ শতাংশ আর শহরে ৬.৪৯ শতাংশ।
গ্রামে কেন বেশি? সেন্টার ফর পলিসি ডয়ালগের(সিপিডি) বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি আর তার সাথে ডলারের সাথে যে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে তার প্রভাব এখানে দেখা যাচ্ছে। আর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যেরও দাম বেড়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেও দাম বেড়েছে। এটা আমদানি ও উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত। বাজারে নানা ধরনের কারসাজি, সিন্ডিকেট, মজুতদারি এগুলো ঘটেছে। এখানে নজরদারির অভাব ছিলো।
তিনি জানান,সাধারণ মানুষ প্রধানত যে ভোগ্যপণ্যগুলো কেনেন তার মূল্যস্ফীতি গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। প্রান্তিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বা স্থির আয়ের যারা আছেন তারা যেসব পণ্য বেশি কেনেন তার দাম বেশি বেড়েছে। ফলে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন মনে করেন,আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম বেশি হারে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ এই সরকারের উদ্যোগগুলো ব্যবসায়ী বান্ধব, জনবান্ধব নয়। বাজারে চাল, তেলসহ অনেক পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইচ্ছেমত দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এইসব সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের(পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এখন যা পরিস্থিতি তাতে শ্রীলঙ্কার মত অবস্থা না হলেও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরো বাড়বে।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যদি আয় না বাড়ে তাহলে সাধারণ বা কম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাবে। তারা আরো চাপে পড়বে। খবার কিনতেই তাদের প্রায় সব আয় চলে যাবে। এখন তাই প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়,অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি দরকার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব যশোরের বিশেষ সাধারণ সভা

প্রেসক্লাব যশোরের গঠনতন্ত্র পরিবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির দিনব্যাপী...

কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর...

যশোরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার যশোরে গলায় ফাঁস দিয়ে কামরুন্নাহার কেয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।...

পর্যবেক্ষণে অসুস্থ বিএনপি নেতা নূর-উন-নবী

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী (৬৬) ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি...

জাতীয় স্কুল ফুটবলের শিরোপা যশোরে নিয়ে আসতে চায় পলাশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথমবার অংশ নিয়েই জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল যায়গা করে নিয়েছে বেনাপোল মাধ্যমিক...

যশোর বক্সিং টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠ মঈন স্মৃতি সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদকপাঁচটি স্বর্ণ ও দু’টি সিলভার নিয়ে যশোর জেলা বক্সিং টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে...