Saturday, July 2, 2022

গলার কাঁটা সড়কের মরা গাছ!

গৌরীঘোনা প্রতিনিধি: কেশবপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে শত শত শিশু ও সিরিশগাছ মরে গেছে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এসব গাছ মরে যাচ্ছে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

প্রায় ১০ বছর ধরে এ গাছ মরতে থাকলেও মরা শুকনো গাছগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। এতে মরা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুতের তার, পথচারী ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।এসব মরা গাছ একটু দমকা বাতাস এবং ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে ও উপড়ে পড়ছে। মরা ও উপড়ে পড়া গাছ না কাটায় ঝুঁকির মধ্যে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে থাকে। মরা গাছগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

১৯৯৫ সালে গণসাহায্য সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা, সুফলাকাটি, মঙ্গলকোট সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, বিদ্যানন্দকাটি ও মজিদপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়কের দু’পাশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিশু ও সিরিশ গাছের চারা রোপণ করে। এসব গাছ সড়কের দু’পাশে ছায়া ও সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ করে সড়ক রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু কালক্রমে সেই বিশাল আকৃতির বৃক্ষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষাসহ সড়কের দু’পাশ টেকসই মজবুত রাখার ক্ষেত্রে এসব গাছ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শত শত গাছ বিভিন্ন রাস্তার পাশ থেকে এখন হারিয়ে গেছে।গাছ রোপণের সময় গণসাহায্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট দমকা বাতাস-ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ছে পথচারী-যানবাহনের উপর।

ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সকল জায়গা ব্যবহারের চুক্তি হয়। গাছের উপকারভোগীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ২৫ শতাংশ, সমিতির সদস্যবৃন্দ ৫০ শতাংশ এবং গণসাহায্য সংস্থা ২৫ শতাংশ ভোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গাছ রোপণের সময়ে রাস্তা কাচা থাকলেও ধীরে ধীরে সকল রাস্তা পাকা হওয়াই গত পাঁচ বছর ধরে জেলা পরিষদ ওই গাছের মালিকানা দাবি করে আসছে। এ ঘটনায় গণসাহায্য সংস্থার তৎকালীন জেলা সমন্বয়কারী এসকেএম আব্দুল্লাহ যশোরের সহকারী জজ আদালতে ২০১২ সালে জেলা পরিষদের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। যেটা এখনও চলমান রয়েছে । যার ফলে ওই গাছগুলি কেউ মারতে পারছে না। চুকনগর খেকে কলাগাছি সড়কে চলাচলকারী ভ্যান চালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, মরা গাছগুলো ঝড়ে অথবা হালকা বাতাসেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাই। দ্রুত এসব গাছ কেটে ফেলা উচিত। ভেরচী গ্রামের জাকির সরদার বলেন, রাস্তার পাশে এসব মরা গাছ প্রায়ই পথচারীদের ওপর ভেঙে পড়ছে। প্রাণ হাতে নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রাস্তায় লাগানো মরা গাছগুলো অপসারণ করার জন্য আমি যশোর জেলা পরিষদ ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। এবছরের গত ঈদুল ফিতরের দিন ইউনিয়নের ভরত ভায়না গ্রামের আব্দুল রহিম মোড়ল সড়কের শুকানো গাছের ডাল ভেঙে আহত হন।

উপজেলা সহকারী উদ্ভিত সংরক্ষণ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে ১০-১২ বছর বয়স হলেই এ অঞ্চলের শিশু গাছের শেকড় পচে মারা যাচ্ছে।

যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান জানান, মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

কেন বিয়ে করেননি, জানালেন সুস্মিতা

বিনোদন ডেস্ক: কেন বিয়ে করেননি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন; এমন প্রশ্ন...

করোনায় নতুন শনাক্ত ১৮৯৭, মৃত্যু ৫ জনের

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল...

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

কল্যাণ ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে...

যশোরের কেশবপুরে নরসুন্দর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কেশবপুর প্রতিনিধি : জেলার কেশবপুর উপজেলায় নরসুন্দর এক যুবকের গলা ও পেট কেটে হত্যা করেছে...

হতদরিদ্রদের চালের দামও বাড়ল ৫ টাকা

ঢাকা অফিস: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করা চালের...

নির্দলীয় সরকার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকা অফিস: বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা...