রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

গোলাগুলির পর থমথমে যশোরের শহরের পুরাতন কসবা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোর শহরের পুরাতন কসবা আমবাগানে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনার পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশংকা আবারো ওই এলাকায় অঘটন ঘটতে পারে। এদিকে জেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ করে কোতোয়ালি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে পুরাতন কসবা আমবাগানে বাবুর লন্ডির দোকানের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দলীয় গ্রুপিং ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ডজন খানিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। মাঝে বেশ কিছু সময় পুরাতন কসবা কাজীপাড়া শান্ত ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও বোমা হামলা হয়।

৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন মিলন ও যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আলমের অভিযোগ, পুরাতন কসবা আমবাগান এলাকায় এক কিশোর বার্মিজ চাকু নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলো। চাকু নিয়ে ঘোরা কারণ জানতে চাওয়া হলে কিছু সময় পর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বে, কানা রুবেল, দুর্জয়, রাসেল, জাভেদসহ ৩০ থেকে ৪০ জন এসে ফিরোজ আলমের উপর হামলা চালায়। জাভেদ নামে একজন ফিরোজকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। বোমাটি ফিরোজের কানের পাশ দিয়ে যেয়ে মাটিতে পড়ে বিস্ফোরণ হয়। এরপরে পুরাতন কসবার সিরুর ছেলে দুর্জয় দুই রাউন্ড ও আর এন রোডের কানা রুবেল ফিরোজকে লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ফিরোজ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল অভিযোগ করেন, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন, যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে তার বাড়িতে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় ও একটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। কারণ হিসেবে জুয়েল জানান, তাকে শাহীন চাকলাদারের সাথে রাজনীতি করতে দেবে না বলে এ হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার রাতের ঘটনার পর পুরাতন কসবা ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জনান, শনিবার সারা দিনই আমবাগান এলাকায় জুয়েলকে দেখা না গেলেও তার লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় কোতোয়ালি লিখিত অভিযোগ করেছেন শেখ নাজিম নামে একজন। তিনি পুরাতন কসবা বিবি রোড আমবাগানের রফিকুল ইসলাম লাল্টুর ছেলে।

অবশ্য কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, তিনি হাতে এখনো কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...