ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, লিটনের সেঞ্চুরি

ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, লিটনের সেঞ্চুরি

ক্রীড়া ডেস্ক : দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটির প্রথম দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও শেষ পর্যন্ত লিটন দাসের অভিষেক সেঞ্চুরি এবং মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৮২ রানে ভর করে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে।
বিশ্বকাপ ভরাডুবির পর টি-টোয়েন্টি দল থেকে যে ক’জন ক্রিকেটারকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে সেই তালিকায় মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের নামও আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে দলের বিপদে হাল ধরলেন সেই দুজনই। মাত্র ৪৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশ গোটা দিন পার করেছে এই দুইয়ের ব্যাটেই ভর করে। পঞ্চম উইকেটের এই জুটি থেকে ২০৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে।

চট্টগ্রামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। মুশফিক-লিটনের প্রতিরোধ সেখান থেকেই। লিটন অবশ্য শুরু থেকেই নিজের মতো করে খেলেছেন। তবে মুশফিক শুরুতে নিজেকে রেখেছিলেন গুটিয়ে। বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে উইকেটে পড়ে থাকার চেষ্টা করে গেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। উইকেটে সেট হওয়ার পর খেলেছেন সাবলীল ক্রিকেট।

এদিকে টি-টোয়েন্টির ব্যর্থতা ছায়া হয়ে পড়তে পারেনি সাদা পোশাকের ওপর। আর সাদা পোশাকে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও। বলা হচ্ছে লিটন দাসের কথা। ফতুল্লায় ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক লিটনের। এরপর নব্বইয়ের ঘরে দুবার গিয়ে ব্যর্থ হলেও তৃতীয়বার এসে স্পর্শ পেলেন আরাধ্য সেই শতকের।

ক্রিকেটের রাজকীয় এই সংস্করণে সেঞ্চুরি পেতে লিটন দাসের সময় লাগল ছয় বছর। ৭৮তম ওভারে নোমান আলীর বলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ১ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৯৫ বলে করেছিলেন ফিফটি, সেঞ্চুরি এসেছে ১৯৯ বলে।

টেস্টে ছন্দেই ছিলেন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি কেটেছ ভীষণ বাজে। টানা ব্যর্থতার পর জায়গা হারান পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। টেস্ট ফিরেই পেলেন রানের দেখা। স্রেফ রান নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিই পেয়ে গেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। শাহিন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক বাউন্সারে ফিরেছেন সাইফ হাসান। বাঁ-হাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম বিদায় নিয়েছেন হাসান আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।

আগের তিন টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত খেলছেন আস্থার সঙ্গে। তার সঙ্গে ইনিংস মেরামতের কাজে যোগ দিয়েছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।
দুইজন মিলে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধও। তবে মুমিনুল বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারলেন না শান্তকে। ফিরলেন সাজিদের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে। এরপর ফেরেন শান্ত নিজেও।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ভীষণ হতাশ করা সাইফ হাসান টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। দ্বিতীয় ওভারে হাসান আলিকে মেরেছিলেন দুটি চার। পঞ্চম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে মেরেছিলেন আরেকটি। তবে ওই চারের পরের বলেই আফ্রিদির বাউন্সার সামলাতে পারেননি এ ওপেনার। শর্ট লেগে দাঁড়ানো আবিদ আলী ক্যাচটি নেন। ১২ বলে ১৪ রান করে ফিরলেন সাইফ।

এরপর ফেরেন সাদমান ইসলামও। অবশ্য ফিরতে পারতেন প্রথম ওভারে, শূন্য রানে। শাহিন শাহ আফ্রিদির বল যে সাদমান ইসলামের ব্যাট ছুঁয়ে গেছে টেরই পাননি পাকিস্তান দলের কেউ! আবেদন করেননি কেউ। চতুর্থ ওভারে হাসান আলির বলে ছিলেন এলবিডব্লিউ। পাকিস্তান রিভিউ নিলেই ফিরে যেতে হতো ৫ রানে। তবে এরপরও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। হাসানের বলেই ফিরলেন এলবিডব্লিউ হয়ে।
তবে দুটি সুযোগের পরও ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি সাদমান। অষ্টম ওভারের সেটি ছিল শেষ বল। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল অনেকটা সুইং করে, সাদমানের ব্যাট এড়িয়ে ছোবল দেয় প্যাডে। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলে রিভিউ নেন তিনি। কাজ হয়নি, উল্টো এই ওপেনারের সঙ্গে একটি রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। ২৮ বলে ১৪ রান করে ফিরলেন সাদমান।

বাংলাদেশ ৮ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩৩। উইকেটে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে নাজমুলের সঙ্গে ৪৩ বলে ১৪ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ১৬তম ওভারে স্পিনার সাজিদ খানের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ১৯ বলে ৬ রান করে ফিরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭।

ভালোই খেলছিলেন নাজমুল হোসেন। বল ব্যাটে আসছিল। এর মধ্যেই আউট! মুমিনুল আউট হওয়ার ৬ বল পর ১৬.২ ওভারে ফাহিম আশরাফকে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে সাজিদ খানকে ক্যাচ দেন নাজমুল। শটটি একটু ওপরে খেলে ফেলেছিলেন নাজমুল। কঠিন ক্যাচটি দারুণ দক্ষতায় নিয়েছেন সাজিদ। ৩৭ বলে ১৪ রান করে ফিরলেন শান্ত।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে