রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

চাকরিজীবী থেকে সফল উদ্যোক্তা বোরহান আলী

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি :

ঘটনাটা ২৩ বছর আগের কোনো একদিনের। তরুণ বোরহান আলী জীবিকার তাগিদে চাকরি নেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রড) ধান প্রজনন বিভাগে। শুরুতেই সহকারি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় যেতেই নিজের ভেতরই যেন পরিবর্তনের আভাস পেলেন-এভাবে হবে না! এগোতে হলে ধান থেকে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করা শিখতে হবে। ধীরে ধীরে গবেষক দলের সঙ্গে সরাসরি মাঠে গিয়ে ধানের বীজ উৎপাদনের কলাকৌশল শিখে নেন। পোক্ত হয়ে এক সময় চাকরি ছেড়ে নিজেই বীজ উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেন।

২০০১ সালে চাকরি ছেড়ে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে ৫ বিঘা জমিতে ধানরোপণ করে সেখান থেকে বীজ উৎপাদন করেন। প্রথমবারেই ভালো সাড়া পান বোরহান আলীর উৎপাদিত ধানের বীজ। তাতেই উৎপাদনকারী হিসেবে সফল উদ্যোক্তাদের একজন হয়ে ওঠেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামের বোরহান আলী সরদার। বর্তমানে তাঁর প্রকল্পে কাজ করছেন সাতজন শ্রমিক। বছরে আয় প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। সফল উদ্যোক্তা হবেন, এমন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মজীবন শুরু করেননি বোরহান। অনেকের মতো তাঁরও শুরুটা জীবিকার তাগিদেই।

বোরহান আলী বলেন, বীজ উৎপাদনের পর বেচতে শুরু করি। কৃষকরা আমার বীজ ব্যবহার করে ভালো ফলন পেতে শুরু করেন। এরমধ্যে ২০০৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের বীজ উইং থেকে উৎপাদনের নিবন্ধন পাই। সে বার ২৫ বিঘা জমিতে বীজ উৎপাদনের জন্য ধানরোপণ করা হয়। তাতেও আসে সফলতা। এরপর নিজের জমি ২৫ বিঘাসহ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বীজ উৎপাদন করতে থাকি। বর্তমানের ওই গ্রামে প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে ব্রিডার জাতের ধান রোপণের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে ধানের বীজ প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণ করে রাখছি।

বোরহান আলী বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে ব্রিডার জাতের ধান কিনে বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে দুই কেজি ধান রোপণ করলে তা-থেকে উৎপাদন হয় বিঘাপ্রতি ২২ মণ। বীজতলা তৈরি থেকে ধান মাড়াই পর্যন্ত বিঘাতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকার মতো। এছাড়াও বীজ উৎপাদনের জন্য এলাকার চাষিদের কাছে থেকে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে ধান কেনা হয়। নিয়মিত শ্রমিকের পাশাপাশি আমন ও বোরো মৌসুমে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে মৌসুমভিত্তিক শ্রমিকও এ কাজের জন্য রাখা হয়। বর্তমানে ফলোবতী সীড লিমিটেড নামে প্যাকেটজাত বীজ বিক্রি করছি। পাশাপাশি নিজেই গড়ে তুলেছি বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। তাই এখন আর আমার উৎপাদিত বীজ অন্য কোনো প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে না। এ বীজ সংরক্ষণ ও সরবারহের জন্য ১০ কেজি করে প্যাকেটজাত করা হয়।

প্যাকেট প্রস্তুতকরণে খরচ হয় ১২০ টাকা। তারপর সেগুলো পরিবহন করে নির্দিষ্ট বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। প্যাকেটপ্রতি ৬৫০ টাকা ভিত্তি, ৫২০ টাকা প্রত্যয়িত ও ৪৭০ টাকা মানঘোষিত বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। যা প্রতি বছর আমন মৌসুমে ২৫ মেট্রিক টন ও বোরো মৌসুমে ১৫ মেট্রিক টন বীজ সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হয়।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্তি উপ-পরিচালক (শস্য) মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বোরহান আলী চাকরিজীবী থেকে একজন সফল উদ্যোক্তা। এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদনের তেমন কোনো নজির ছিলো না। এরমধ্যে বোরহান বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও তৈরি করেছেন। যা একজন চাকরিজীবী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এ নজির সত্যিই অনন্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...