রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আইন না থাকায় বন্ধ ঘোষিত ক্লিনিক চলছে

গ্রাম্য কথায় আছে ‘বকো ঝকো যাই করো কানে দিয়েছি তুলো/মারো ধরো যাই করো পিঠে বেধেছি কুলো।’ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে বন্ধ হওয়া হাসপাতালগুলোর অবস্থা হয়েছে সে রকম। এত যে দৌড়াদৌড়ি এবং তৎপরতা দেখালো তা সব হাওয়ায় মিশে গেছে। বন্ধ ঘোষিত হাসপাতালগুলো বহাল তবিয়তে চলছে। কেউ আদালতের আশ্রয় নিয়ে, কেউ আবার প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে মান ও অনুমোদনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদারকির অভাবেই অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো দিনের পর দিন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

বাইরে ফার্মেসি। সেখানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বন্ধের নোটিশ এখনো টাঙানো। অথচ দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় পুরোদমে চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাজ। কাগজপত্র না থাকায় গত মে মাসে এই ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাক্তার ছাড়াই মালিকের কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করেন। এই হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালের চিত্র।

স্বাস্থ্য খাতের এমন বেহাল দশার জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর নজরদারির অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্থানীয়ভাবে এসব হাসপাতালের মালিকরা প্রভাবশালী, একই সঙ্গে তাদের একটা লিংক থাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সুতরাং তারা এগুলো আবার খুলে দেয়। তিনি বলেন, প্রথম শর্ত হচ্ছে আইন করার দায়িত্ব সরকারের। আর তদারকি কিন্তু ভিন্ন জিনিস।

আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আইন নেই। আমরা কীসের ভিত্তিতে লাইসেন্স দিচ্ছি?
বন্ধ ঘোষিত অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার সারা দেশে চলছে। অনেকদিন ধরে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে শৃঙ্খলায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসাবে ২৫ মে সারা দেশের অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ধারাবাহিকতায় ১৫ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৬৪১টি অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফের রমরমা ব্যবসায় মেতে উঠছে।

দেশে হাসপাতাল ব্যবসা এখন বড় ধরনের প্রতারণার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এমন কোনো ব্যবসা নেই যে জায়গায় স্বচ্ছতা আছে। সব কিছু যখন ফ্রি-স্টাইলে চলছে তখন প্রতারণাতে আর ভয় কিসের? আর তাই মনে হয় নির্ভয়ে এ ব্যবসাটা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা। এ ব্যবসায় যা চলছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। আমরা আগেও এ ব্যবসার চিত্র তুলে ধরেছি। প্রশ্ন জাগে কেন এ সব অনিয়ম ও আইনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার ফলে অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায় এবং তারা অপরাধে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

আমরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাবো আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল/ক্লিনিক নামের যে প্রতারণারমূলক প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে তার দিকে নজর দিতে হবে। কোন ফাঁক-ফোকর দিয়ে যেন ওই সব হাসপাতাল নামের অপচিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চলতে পারে। ফ্রিস্টাইলে চলার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতর যখন জাতিকে আশার বাণী শুনিয়েছেন তখন তা যেন দৃশ্যমান হয়, নির্দেশনা যেন দায়সারা না হয় সে উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

কোটচাঁদপুরে সক্রিয় অপরাধী ও প্রতারক চক্র

কামাল হাওলাদার, কোটচাঁদপুর : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দিনে দুপুরে চুরি ছিনতাইসহ প্রতারক চক্রের প্রতারণার মাত্রা বেড়ে...

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...