চৌগাছা সীমান্ত থেকে প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের দেহ উদ্ধার

যশোরে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় ভারত সীমান্ত থেকে রফিকুল ইসলাম জনি (৪৮) নামে এক বাংলাদেশী প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা-৭০৬, বড় মগবাজারের ডাক্তার আব্দুল আজিজের ছেলে। থাকতেন যশোর শহরের ১৭, উমেশচন্দ্র ঘোষলেন, লোন অফিস পাড়ায়।

চৌগাছা থানা সূত্রে জানা যায়, ২ ডিসেম্বর ভোরে উপজেলার মাশিলা সীমান্তের গদাধরপুর ও ভারতের বয়রা বাওড়ে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভারতে তার খালাতো ভাই মোহন আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করে ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। মরদেহটি চৌগাছা থানা হেফাজতে আনা হয়।

নিহতের ভাগ্নে যশোর সরকারি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ (পিআরএল) মাশরেকুল ইসলাম জানান, রফিকুল ইসলাম একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। তার স্ত্রী কৃষি ব্যাংকের ঢাকা হেড অফিসের একজন কর্মকর্তা।
তিনি বর্তমানে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় আমার বাড়িতে থাকতেন। মুলত তিনি আমার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ তদারকি করতেন। ৩/৪ দিন আগে আমাকে বলে মামা আমি তো মায়ের কবর জিয়ারত করতে ভারতে যেতে চাই। কিন্তু আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাকে বলি ঢাকায় সচিবালয়ে যাচ্ছি। এসে তোমার পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে দেব। আমাকে না জানিয়ে তিনি বুধবার যশোর থেকে ঝিকরগাছায় তার ভাইয়ের মেয়ের বাড়িতে যান। সেখান থেকে ভারতে বসবাসকারি খালাতো ভাই মোহন আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমার ধারণা তিনি চৌগাছার সীমান্ত পার হয়ে অবৈধ পথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতে যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মারা যেতে পারেন। চৌগাছা থানা পুলিশ লাশটি ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী গদাধরপুর বাওড়ের নাইটগার্ড নওফেল হোসেন ও শাহিনুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো নৌকায় চড়ে বাওড় পাহারা দেয়ার সময় টর্চ লাইটের আলোয় দেখি ভারত সীমান্তের বয়রা বাওড়ের গদাধরপুর-মসজিদ ঘাটের পাশে একটি মানুষের দেহ। এ সময় মাশিলা বিজিবি ক্যাম্প খবর দিই। পরে বিজিবি সদস্যরা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। তারা আরো জানান, ভারতের বয়রায় আত্মীয় থাকায় সেখানকার অনেকে (বাংলাদেশ- ভারত) পারাপার করার দালালের সাথে মাঝে মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে অভি নামে এক দালাল মুঠোফোনে জানায় আজ বাংলাদেশ থেকে একজন লোক আসবে। তাকে ভারতের ভিতরে নিতে হবে। পরে বিজিবি সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, মাশিলা ক্যাম্প বিজিবি সদস্যদের
মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে বাওড়ের পানি সাঁতরিয়ে ভারতে যাওয়ার পথে পানিতে ডুবে মারা যেতে পারেন। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা থানায় মরদেহটি শনাক্ত করেন। শুক্রবার বিকেলে ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে