বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

ছেলে থাকে ফ্লাটে মা’র জায়গা বাঁশবনে

 

আব্দুল্লাাহ আল মামুন, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : ৩০/৩৫ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন ছায়রন (৭৫)। স্বামী হারানোর পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে মানুষ করেছেন ৪ ছেলে ২ মেয়েকে। চার ছেলের তিনজন বর্তমানে জীবিত। নিজেরা স্বাচ্ছন্দে থাকে। সবারই আছে আধাপাকা বাড়ি। মেঝ ছেলে আনিছুর ফ্লাট বাড়ি তৈরি করছেন। বাড়িতে এসেছে ২/৩ গাড়ি চলতি মৌসুমের আমন ধান।
তবে মা এখন আর কাজ করতে পারেন না। তাই মাকে বাঁশঝাড়ের গোবরের সারগর্তে গরু ও মানুষের মলমূত্রের মধ্যে একটি ঝুপড়িতে রেখেছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে। তবে সেই ঝুপড়িও ছেলেরা তৈরি করে দেননি। নিজের জমানো কিছু টাকা ছিলো। সেই টাকার কিছু দিয়ে ঝুপড়ির দু-তিনখানা টিন কিনে বাশের খুঁটির ওপর বসিয়ে দিয়েছেন ছেলেরা। বাকি টাকাও নিয়ে নিয়েছেন তারা।
যশোরের চৌগাছার স্বর্পরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রকৌশলী কাফী বিন কবির এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ দুটি কম্বল, চাল, ডাল আলুসহ খাবার নিয়ে হাজির হন সেখানে। ব্যক্তিগতভাবে একহাজার টাকা দেন বৃদ্ধাকে। তিনি সেখানে একটি কাঠের পিড়িতে ইউএনও নিজে বসে বৃদ্ধাকে চেয়ারে বসিয়ে কথা বলেন তার সাথে। শেষে বড় ছেলের পাকা ঘরের বারান্দায় তুলে দেন। নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য শাহিনুর রহমানকে এ সময় নির্দেশ দেন তিন ছেলেকে আগামী দুই দিনের মধ্যে ইউএনও অফিসে যেতে। তিনি বৃদ্ধাকে প্রতিশ্রুতি দেন আপনাকে আর না খেয়ে এভাবে ঝুপড়িতে থাকতে হবে না।
তবে ইউএনও আসার খবর পেয়েই বাড়িতে তালা দিয়ে সরে পড়েন ছেলের বউরা। আগে থেকেই মাঠে কাজ করায় বাড়িতে ছিল না বৃদ্ধার ছেলেরা।
প্রকৌশলী কাফী বিন কবির ছেলেদের বিচার করার কথা বলতেই কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা। ইউএনওর হাত জড়িয়ে ধরে বলতে থাকেন, ‘না না না সোনা। ওদের ধরতি হবে না। ওরা জন মাইনে খেটে খাচ্ছে। ওদের কিছু বলবেন না।
বৃদ্ধা ছায়রন বলেন, সকালে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদরাসার সুপার আম্মাদুল তাঁকে খাবার দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই খাবার ছাড়া দুপুর পর্যন্ত আর কিছু খাননি। তিনি ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন ছেলে ও পুত্রবধূরা তাকে বাড়িতেই যেতে দেন না। মাঝেমাঝে খাবার দিয়ে যান। বিষয়টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানলেও কোন প্রতিকার পাননি তিনি।
গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আম্মাদুল ইসলাম বলেন, মার খাবার দেয়া বা ঘরে রাখার মত সক্ষমতা ছেলেদের আছে। তার ছেলে ও নাতী যারা আছে তারা প্রত্যেকে একদিন করে খেতে দিলেও এক সপ্তাহ হয়ে যায়। তবে ওদের বারবার বললেও তারা কারও কথা শোনেন না।
কাফী বিন কবির বলেন, এটা খুবই অমানবিক বিষয়। মাকে এভাবে বাঁশঝাড়ে ময়লা আবর্জনার মধ্যে রাখার মত খারাপ অবস্থায় তারা নেই। তার ছেলেদের অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

মহেশপুরে ভাতিজার হাতে চাচি খুন

মহেশপুর প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার মারপিটে চাচি রিজিয়া খাতুন...

মহেশপুরে একাধিক মামলার আসামি টিটনকে কুপিয়ে হত্যা

মহেশপুর প্রতিনিধি: মহেশপুর উপজেলার ধানহাড়িয়া গ্রামে জীবন চৌধুরী ওরফে টিটন (৩০) নামে একজনকে কুপিয়ে...

অভয়নগরে দুই মাদক বিক্রেতা আটক

অভয়নগর প্রতিনিধি: অভয়নগরে এপিবিএন পুলিশের অভিযানে ৫শ’ গ্রাম গাঁজা ও এক বোতল ফেনসিডিল ও...

জীবননগরের ২৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি মানসিক প্রতিবন্ধী জসিমের

জীবননগর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের মাননিক প্রতিবন্ধি জসিম উদ্দিন (৩৭) দীর্ঘ ২৬...

দ্রুত এগোচ্ছে যশোর-ঢাকা রেলপথ নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দিয়ে গত ২৫ জুন ঘটা করে...

রাতভর অভিযানে ডাকাত চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রাতভর অভিযান চালিয়ে যশোরের পুলিশ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময়...