জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে সংবাদ সম্মেলন
‘ভবদহের মানুষকে ডুবিয়ে মারার ব্যবস্থা করেছে পাউবো’

 প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ দাবি
 টিআরএম বাস্তবায়ন না করে সেচ প্রকল্পের অর্থ তছরূপ

রায়হান সিদ্দিক: ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে ডুবিয়ে মারার স্থায়ী ব্যবস্থা করার নীতি গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা নদী বাঁচানোর পরিবর্তে নদীকে হত্যা করছে। যেখানে টিআরএম ছাড়া বিকল্প নেই, সেখানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পানি সেচ প্রকল্প গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা তছরূপ ও জনপদের মানুষের শত শত কোটি টাকার ফসল, বসতবাড়ি নষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়ের ব্যবস্থা করে চলেছে সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার দুপুরে ভবদহ স্লুইচ গেটের সামনে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে টিআরএম চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ। তিনি বলেন, সেচ প্রকল্প বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে টিআরএম চালু করে নদী রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে দ্রুত আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, ফসল, বসতবাড়ি ক্ষয়-ক্ষতির ক্ষতিপূরণ করতে হবে। তা না হলে নির্বাহী প্রকৌশলীকে এই এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে বাধ্য হবো এবং লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত টিআরএম সরকারই যদি উপেক্ষা করতে থাকে তাহলে জলাবদ্ধতা, গণদুর্ভোগ আরো বিস্তৃত হবে।

এসময় পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, সরকারের গৃহীত ডেল্টা প্লান-১০০ ঘোষণায় ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে সুষ্পষ্টভাবে বলা রয়েছে ‘পরিকল্পিত জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়নের কথা। টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে হরি নদীতে ব্যাপক হারে পলি জমা হয়েছে। এতে করে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ তছরূপ শুরু করছে। গত মৌসুমে সেচের মাধ্যমে ব্যাপক ফসল উদপাদনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল হয়নি। সেই সাথে হরি নদী নাব্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলা হলেও তাতে মিথ্যা বলে সরজমিনে দেখানো হয়। তাছাড়া এখনো বিলগুলি পানির তলে। অনেক স্কুল ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা ৪৫ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাতিল করার জন্য মতামত দিয়েছে। কিন্তু জনগণের মতামত উপেক্ষা করে আবারো ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার পাম্প স্থাপনের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুমোদনের পায়তারা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গণস্বার্থবিরোধী ও সরকারকে বিভ্রান্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এজন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সদস্য সচিব অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস বলেন, আমরা বারবার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি যে সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। একটি লুটেরা চক্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গণস্বার্থবিরোধী ও সরকারকে বিভ্রান্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। আমরা তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। কিন্তু সরকার জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করছে।

বর্তমানে নদীর গভীরতা স্লুইচ গেটের ১০০ গজের ভেতরে মাঝখানে হাঁটু পানি। কাপালিয়া ব্রিজের কাছে হাঁটু পানির উপরে এবং বর্নি এলাকায় মাজা পানির উপরে। এসকল স্থানে সম্প্রতি এস্কেভেটর দিয়ে খনন করা হয়েছে এবং নদীর প্রশস্ততা ১০/১৫ ফিট মাত্র। অর্থাৎ সেচের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর এই বক্তব্য সত্যের অবলাপ মাত্র। ফলে সেচের মাধ্যমে নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। ফলে ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে গেছে তা প্রমাণিত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গাজী আব্দুল হামিদ, শিপপদ বিশ্বাস, কানু কুমার বিশ্বাস, শেখর বিশ্বাস, কার্তিক বকসি, তৃষা চামেলি ও অনিল বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে