Wednesday, May 25, 2022

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস
২৫ বছরেও শেষ হলো না ৫২ টি আপীল কেসের শুনানী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হয়েও শেষ হচ্ছেনা যশোর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে এক মৌজার ৫২ টি আপীল কেসের শুনানী। ২৫ বছর ধরে চলছে শুধু ফাইল চালাচালি। কবে শেষ হবে কী আদৌ শেষ হবে না তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেনা। ইট পাথরের বরান্দায় ঘুরে ঘুরে কালো চুল পাকা হয়ে গেছে বিচার প্রার্থীদের।

অনেক বিচারের শেষ দৃশ্য না দেখে আত্মসমর্পণ করেছেন নিয়তির কাছে। অন্যদিকে যারা বিচার শুরু করেছিলেন তাদের কেউ অবসর আবার কেউ কেউ গেছেন চির অবসরে। পড়ে আছে সেই বিচারাধীন কৃষকের ভূখন্ড। অদৃশ্য শক্তি আর দুর্নীতির জাতাকলে পিষ্ঠে একবারে নিস্ব হতে চলেছেন ভুক্তভোগী ৯০০ পরিবার। ঘটনা ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ডুমুর খালী মৌজার।

ভূমি রেকর্ড ও জরীপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরা পাঠানো এক অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে যশোর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে তারা ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না এবং বিভিন্ন অযুহাতে বিচার প্রক্রিয়া নিস্পত্তি না করে অযাথা হয়রানি করা হচ্ছে। দুর্নীতিবাজরা এতই ধুরন্ধর যে তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ নির্দেশ মানছেন না। এখানে জাল বিস্তার করে আছে সেই অদৃশ্য শক্তি।

ডুমুরখালী মৌজার মাঠ জরিপ সম্পন্ন হয় ৯০ দশকের শেষের দিকে। ওই সময় ৫৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত বাটা ৫৩-২৫৬৯ দাগে ৯ একর ৯২ শতক জমি ইউনুস আলী গং এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। যার হাল দাগ নং ৪৫,২৮,২৬,৪৬,৩০,২৯,২৭,৩১ ও ৪৪। পরবর্তীতে ভূমি জরীপের ৩১ ধারা মতে ওই জমির ওপর দায়ের হয় আপীল কেস। তৎকালীন আপীল অফিসার ওই মৌজায় দাখিলকৃত ৫২ টি কেস একসাথে শুনানী করেন।

২০১৪ সালে ২৮ মে আপীল অফিসারের এক রায়ে ইউনুস আলী গং এসএ রেকর্ডীয় প্রজা সুফিয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৩,০৭,৬৮ সালে ৮৯৭৬ নং দলিলমূলে সত্ত্ব অর্জন করে নাম পত্তন ও খাজনা পরিশোধ করেন বলে উল্লেখ করা হয়। যা পরবর্তিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সাথে দুর্নীতি জায়েজ করতে গায়েব করা হয় ডুমুরখালী মৌজার মাঠ জরীপের খসড়া বই। এব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়ার পর ২০১৮ সালে ১৭ সেপ্টম্বর উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মুজিবুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ডুমুরতলা মৌজার ১৭০৫২১/১২ নং আপীল কেসসহ মোট ৫২ টি আপীল কেসের নথি পরিচালক (ভূমি রেকর্ড) কর্তৃক পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায় যে,মূল খসড়া হারিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে একটি খসড়া তৈরি করা হলেও দখলদারের নাম নেই। এমত অবস্থায় সরেজমিনে মিলিয়ে একটি খসড়া বই প্রস্তত এবং খসড়া বইটি হারিয়ে যাওয়া উদ্দ্যেমূলক কিনা তা তদন্ত করে দায়ি কর্মকর্তা/কর্মচারী নাম,পদবী ও বর্তমান কর্মস্থল উল্লেখ পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য যশোর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

যার স্মারক নং-৩১.০৩.২৬৯২.০০৩.১৪.০০৯.১৭-৮৩৫। এ্রই মধ্যে প্রায় ৫ বছর গড়িয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের ওই নির্দেশনা আলোর মুখ দেখেনি। বিষয়টি নিয়ে সৃস্টি হয়েছে নান প্রশ্ন। ইউনুস আলীর দাবি অসৎ উদ্দেশ্যে ওই খসড়া বই গায়েব করা হয়েছে। এর সাথে রাঘব বোয়ালরা জড়িত। আর পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন অদৃশ্য এক শক্তি। যার কারণে শেষ হয়েও শেষ হচ্ছেনা ৫২ আপীল মামলার শুনানী।

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার কামরুল আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি ২০২০ সালে যোগদান করেছি ১৮ সালের খবর জানা নেই। তবে মামলাগুলো নিস্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শুনানী হয়েছে ২৪৩/২০ নং কেসটি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চুকনগর গণহত্যা জেনোসাইড হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি চাই

কাজী বর্ণ উত্তম: চলুন ফিরে যাই সেই ১৯৭১ সালে। চারিদিকে অন্ধকার অনিশ্চয়তা, নিজের বসত...

যশোরে দিবালোকে ব্যবসায়ীর আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের মুজিব সড়কে দুই নম্বর আইনজীবী ভবনের সামনে গতকাল দুপুর পৌনে...

মিথিলার প্রেমে পড়ার ‘গুঞ্জন’!

বিনোদন ডেস্ক: গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর একসঙ্গে কাজ করতে...

খুলনায় ধর্ষণ মামলা আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

খুলনা ব্যুরো: খুলনার বটিয়াঘাটায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবুল আলীকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে...

যুদ্ধাপরাধী আমজাজ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইসিটি বিডি কেস নং - ১০/২০১৮ সংক্রান্তে যশোর জেলার...

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় কিশোরসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে যশোরের কেশবপুরে মামা বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ট্রাক চাপায় এক...