ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন সরে দাঁড়ালেন আ. লীগ বিদ্রোহী

jessore

কল্যাণ রিপোর্ট
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালকে সমর্থন দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনসহ জেলার ৩ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলম মুকুল দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চামচ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। গেল ২৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক যুক্ত থাকছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম মুকুল জানান, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২১ বছর পর ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন হওয়ায় এবারই প্রথম তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মেয়র পদে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার নাম ছিলো। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দলের মনোনীত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালাম। এ সময় নৌকার পক্ষে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুদ্দৌলা সরদার কনক, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ আতিকুর বাবু, সদস্য অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে দলীয় নির্দেশনা ভঙ্গ করে নৌকা মার্কার প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতাকারীদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই সময় ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে তার সিদ্ধান্ত জানাতে ২ দিনের সময় প্রার্থনা করেন। জেলা আওয়ামী লীগ সেই সময় প্রদান করে। গতকাল ছিল তার শেষ দিন। এ দিন জাহাঙ্গীর আলম মুকুল ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে