রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

ডলার সংকটে যশোরের ব্যাংকগুলো খুলছে না এলসি, বিপাকে আমদানিকরাকরা

আবদুল কাদের :

যশোরের ব্যাংকগুলো আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আমদানির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকাররা বলছেন, এলসি করতে না পারার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সাথে ব্যাংকে খেলাপির হারও বাড়বে।

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের খুলনাজোন প্রধান (ভাইস প্রেসিডেন্ট) আবু সাইদ মো. আবদুল মান্নাফ বলেন, বৈশ্যিক অস্থিরতার কারণে দেশে ডলার সংকট চলছে। আমরা আমদানিকৃত পণ্যের দায় পরিশোধ করতে পারছিনা। যেকারণে নতুন করে এলসি খোলা বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আবারও খোলা হবে।

ইস্টার্ন ব্যাংক যশোরের শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল হক জানান, বেশিরভাগ ব্যাংক ডলার সংকটের কারণে এলসি নেয়া বন্ধ করেছে। এতে আমদানির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা পণ্য আনতে না পারলে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন আমরাও চাপে থাকব, কেননা ব্যবসা করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করবেনা।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারা এন্ড কমার্স ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক আনিছুর রহমান বলেন, ডলার না থাকার কারণে আমরা আমদানির দায় পরিশোধ করতে পারছিনা। এজন্য নতুন করে আর এলসি নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

যশোরের হোন্ডা মোটরসাইকেলের ডিলার মো. আবু শাহরিয়াদ মিতুল জানান, ডলার সংকটে এলসি বন্ধ থাকায় সংকটে পড়বে আমদানির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা। এতে করে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

যশোরের বৃহৎ মোটরসাইকেল পার্টস আমদানিকারক রিপন অটোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজাজ উদ্দিন টিপু জানান, মোটরসাইকেল পার্টস আমদানি করে সারা দেশে সরবরাহ করি। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংক যদি এলসি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রাখে তাহলে এখাতের ব্যবসায়ীরা ভেঙ্গে পড়বে।

এব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে না পারলে বাজার ব্যবস্থা অস্বাভাবিক হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের উপর। আবার অনেকে কর্মসংস্থানও হারাবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। টালমাটাল হয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি। আর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায় বাংলাদেশেরও। তবে সেই তুলনায় রপ্তানি ও প্রবাসী আয় না বেড়ে আরও কমে যায়। ফলে দেশে তৈরি হয় ডলারসংকট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

খালেদার বাসার সামনে তল্লাশিচৌকি, রাজধানীজুড়ে ব্লক রেইড

কল্যাণ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনের সড়কের দুই পাশে...

নিজের ১০০০তম ম্যাচ রাঙিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : ৬৫ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে চিতার মতো অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডের ট্রাইঙ্গেল...

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস

ক্রীড়া ডেস্ক  : গ্রুপ লিগের পর নকআউট পর্বের শুরুটাও দুরন্ত করলো নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাউন্ড...

প্রযুক্তির মাধ্যমে দিনবদল করেছেন শেখ হাসিনা : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উদ্ভাবনী জয়োল্লাসে স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে যশোরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী...

কুয়েতে প্রতারণার শিকার শতাধিক বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুয়েতে শতাধিক বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আকামা পরিবর্তনসহ...

চাঁদাবাজির অভিযোগে হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে এক হিজড়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন...