শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ডা. সাবরিনা-আরিফুলসহ আট আসামির ১১ বছরের কারাদণ্ড

কল্যাণ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের ভুয়া টেস্ট ও টাকার বিনিময়ে সনদ দেওয়ার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী একই প্রতিষ্ঠানের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পৃথক তিনটি ধারায় প্রত্যেককে এ দণ্ডাদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায় ঘোষণা করা হয়।

২০২০ সাল থেকে এ মামলার আসামিরা হাজতে রয়েছেন। হাজতকালীন এ সময় দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিলা পাটোয়ারী, জেকেজি হেলথ কেয়ারের নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম রোমিও, জেবুন্নেছা রিমা এবং বিপ্লব দাস। তারা সবাই কারাগারে আছেন।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে আসামিদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্ট চত্বরে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেন ডা. সাবরিনা ও তার স্বামীর প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ার। ২০২০ সালের মার্চে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার (জেকেজি) বুথের মাধ্যমে বিনামূল্যে করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে। এরপর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পৃথক ছয়টি স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে জেকেজি। তবে সংস্থাটি চুক্তি ভেঙে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু করে। এসব নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই মনগড়া রিপোর্ট দেয় জেকেজি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একজন তেজগাঁও থানায় মামলা করে। এরপর গত ২৩ জুন আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১২ জুলাই ডা. সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শফিকুল ও জেবুন্নেসা রিমাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।

মামলার ৪০ সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গত ২৯ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক তোফাজ্জল হোসেন রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

আসামিদের মধ্যে আবু সাইদ চৌধুরী আরিফুল হক চৌধুরীর ভগ্নিপতি এবং জেবুন্নেসা বোন। মামলার চার্জশিটে করোনা নমুনা সংগ্রহের পর টেস্ট ছাড়াই সনদ দেওয়া ও টাকার বিনিময়ে সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরিফুল ও তার স্ত্রী সাবরিনাকে মূলহোতা এবং অপর ৬ আসামি তাদের প্রতারণার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...

যশোরে ৮ নারী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: শুক্রবার ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪২ তম জন্মবার্ষিকী ও...

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় এক কলেজছাত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার...

যশোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত, একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।...

ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে যশোরের গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের গ্রাহকরা ইসলামী ধারার তিনটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। নানা অনিয়মের...