রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

দুই মাসে বেনাপোলে আমদানি কমেছে ৮৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য

আবদুল কাদের :

বেনাপোল বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি কমে গেছে ৮৮ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন পণ্য। গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন, আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন। এই দুই মাসে কাস্টমের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১০ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৭৫৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। কাস্টম ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে সরকার আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছে। একারণে ৭৫ থেকে শতভাগ এলসির মার্জিন দিতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে পারছেন না। আবার বেনাপোলে কাস্টমের হয়রানির কারণে অনেক ব্যবসায়ী অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি যশোর বিমানবন্দর থেকে ২৩ লাখ টাকাসহ বেনাপোল কাস্টমের রাজস্ব কর্মকর্তা আটক হওয়ার ঘটনায় তাদের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর কার্যালয়। ইতিমধ্যে তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি টাকার উৎস জানাতে পারেনি। যেকারণে বিষয়টি তদন্ত করে মামলার দিকে এগোচ্ছে দুদক।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি করা হয়েছিল ২৬ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। আমদানি কম হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। গেল বছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ৫৫৮ কোটি টাকা ৮ লাখ টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। অর্থ বছরটিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। সেখানে আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ওই বছর ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

২০১৯-২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানি করা হয়েছিল ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য আমদানি করা হয় ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ মেট্রিক টন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বেনাপোল দিয়ে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে সরকার এলসিতে শতভাগ মার্জিন শর্ত দিয়েছে। একারণে ব্যবসায়ীরা এলসি করতে পারছে না। এতে জুলাই ও আগস্ট মাসে আমদানি কমে গেছে। চলতি মাসে আরও কমবে বলে আশংকা করছি।

যশোরের আমদানিকারক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, আমরা মোটরসাইকেল পার্টস ও টায়ার আমদানি করে তা সারা দেশে বিক্রি করে থাকি। আমাদের এলসি করতে এখন ৭৫ ভাগ মার্জিন দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ যে টাকার পণ্য আমদানি করতে হবে তার সমপরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। এতে নগদ টাকার সংকটে পড়ছি আমরা। পণ্য আনতে না পারার কারণে ব্যবসায়ীকভাবে লোকসান হচ্ছে। সামনে কি পরিস্থিতি হবে কে জানে।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, এলসির মার্জিন বেশি হওয়ার কারণে আমদানি কম হয়েছে গেল দু’মাসে মাসে। তবে ভারতের কালিতলায় পার্কিং সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে আবারও আমদানি বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আমদানিকারক জানান, কাস্টমের নানা হয়রানি আর বন্দর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছে। কাস্টমকে টাকা দিতে হয় বাধ্যতামূলক। তা না হলে বিভিন্ন অজুহাতে আমদানিকারকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার শুক্রবার ও শনিবার কাস্টমের কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার তারা ঢাকায় চলে যান। আর রোববার বিমানযোগে এসে অফিস করেন। তাদের অনুপস্থিতের কারণেও ব্যবসায়ীদের ঘুরতে হয়।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, সরকার এলসি করতে ৭৫ শতাংশ মার্জিন নিচ্ছে। অনেক সময় আমদানিকারকদের শতভাগ টাকা দিয়ে এলসি করতে হচ্ছে। এতে করে নগদ টাকার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। আবার যে রেটে এলসি করতে হয়, পণ্য আসার পর সেই কারেন্ট রেটে ডলারের পেমেন্ট করতে হয়। সব মিলিয়ে আমদানিকারকরা বেকায়দায় পড়েছেন। একেতো বাণিজ্য ভালো নেই, তার উপর পণ্য আমদানি করতে না পারলে আমদানির সাথে জড়িতরা আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার আবদুর রশিদ মিয়া জানান, ডলার সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসির মার্জিন বাড়িয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। অতি জরুরি ছাড়া পণ্য আনছে না তারা। যেকারণে গেল দুই মাসে পণ্য আমদানি কমে গেছে। এখানে কোন হয়রানি হয় না বলে তিনি দাবি করেছেন।

সোনালী ব্যাংক যশোর কর্পোরেট শাখার ডিজিএম ও শাখা ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম জানান, উচ্চ মার্জিনের কারণে সব ব্যাংকে এলসি কমেছে। ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার জোগান দিতে না পারার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই মাসে অর্ধেকে নেমেছে এলসির হার। চলতি মাসে আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

editorial

যানজটের শহর যশোর

মায়ের সন্ধানে পথে পথে ছেলে

যানজটের শহর যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘেঁষে ১৬টি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই পার্কিং ব্যবস্থা। হাসপাতালের...

রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো : নার্গিস বেগম (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, সরকার তার মসনদ টিকিয়ে...

বাঁকড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকার রেইনট্রি গাছ কাটার...

পহেলা অক্টোবর থেকে যশোরে পরিবহন চলাচল বন্ধ !

শনিবার যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টুর...

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে সার বিক্রিকালে ১৫ বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বাজারে অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় ১৪ বস্তা ইউরিয়া ও...

কেশবপুরে ভাটা মালিক ও সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গৌরীঘোনা প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে ভাটা মালিক ও সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। চুকনগর-সোলঘাতিয়া সড়কের...