দুই দফতরের টানাপোড়েনে মহাসড়ক থেকে গাছ অপসারণ হচ্ছে না, দুর্ঘটনার আশংকা

দুই দফতরের টানাপোড়েনে মহাসড়ক থেকে গাছ অপসারণ হচ্ছে না, দুর্ঘটনার আশংকা

আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহান, মণিরামপুর
জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের টানাপোড়নে ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন যশোরের রাজারহাট-চুকনাগর মহাসড়কের ওপর মণিরামপুর থেকে গাছ অপসারণ করা হয়নি। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে প্রায় মাঝ বরাবর বড় গাছ থাকায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। সর্বমহলে দাবি উঠেছে গাছ কেটে ঝুঁকিহীন মহাসড়ক নির্মাণের।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, রাজাহারহাট-মণিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়তায় ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। মহাসড়কের ম্যাকাডমের কাজ শেষের পথে। এ মহাসড়কের মণিরামপুর অংশের কয়েক জায়গায় সড়কের প্রায় মাঝ বরাবর বৃহৎ আকৃতির মেহগনি গাছ রয়েছে। সড়কের ঝুকিপূর্ণ বাঁকে সিংহভাগ গাছ রয়েছে। যা অপসারণ করা হয়নি। গাছ অপসারণে যশোর জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিজেদের দাবি করে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় জেলা পরিষদ নিজেদের গাছ দাবি করায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ আইন জটিলতায় গাছ অপসারণ করতে পারেনি। মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে এক পর্যায় নিরুপায় হয়ে গাছ অপসারণ না করেই ওই গাছের গোড়া খুড়ে ম্যাকাডমের কাজ প্রায় শেষ পর্যায় রয়েছে। এতে করে সেখানে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর আইয়ুব পাটোয়ারি বলেন, মহাসড়ক আগের চেয়ে চওড়া হচ্ছে। গাছগুলো মহাসড়কের প্রায় মাঝ বরাবর থাকায় দ্রুতগতি সম্পন্ন যানবাহন গাছের সাথে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত গাছ অপসারণের দাবি করেছন।

মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের কুয়াশায় গাছ দেখতে না পাওয়ায় চরম অসুবিধায় পড়তে হয় চালকদের। তিনিও দ্রুত গাছ অপসারণের দাবি করেছেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তারা গাছ অপসারণের জন্য একাধিকবার জেলা পরিষদকে অবহিত করেছেন। পরে পত্র দিয়েছেন। তারপরও গাছ অপসারণ করা হয়নি। বড় প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতেই বাধ্য হয়ে গাছ অপসারণ না করেই কাজ শুরু করতে হয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ইতোমধ্যে জেলা সমন্বয় কমিটিতে গাছ অপসারণের বিষয়টি উত্থাপিত করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে চিঠি দিলেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ অপসারণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে