মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

দূর হলো শেষ বড় ভৌগলিক বাধা

কাজী বর্ণ উত্তম: পদ্মা পারাপার নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের অসংখ্য স্মৃতি। ১৯৮৭ সাল। ঢাকার গাবতলী থেকে সাড়ে তিনটার লঞ্চ পারাপার চেয়ারকোচে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তারিখটা মনে নেই, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে হবে। সন্ধ্যার আগেই যাত্রীরা সবাই লঞ্চে উঠে পড়ে। আরিচা ঘাট। লঞ্চ ছাড়বে ছাড়বে। হটাৎ শুরু হল ঝড়-বৃষ্টি কিন্তু বৃষ্টি খুবই কম। বাতাসের গতিবেগ এতবেশী ছিল মুহূর্তের মধ্যে আরিচা ঘাটে দাঁড়ানো লঞ্চ গুলোকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো। কয়েকটা লঞ্চ দেখলাম পাখির মত উড়িয়ে নিয়ে গেলো নদীর কিনারা থেকে অনেক দূরে। তবে যাত্রী ছিল না লঞ্চ গুলোতে। লঞ্চের সারেং লঞ্চটাকে একদিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাশাপাশি নদীর মাঝ বরাবর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

দূর হলো শেষ বড় ভৌগলিক বাধাএরই মধ্যে ঝড়ের তান্ডবে কয়েকবার নদীর পানি লঞ্চের ওপর দিয়ে চলে গেছে। কেউ বলছে কেন তীরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে না, কেউ আজান দেয়া দিচ্ছে, কেউ নামাজ পড়ছে। উদ্বেগ উৎকন্ঠা চারিদিকে। এভাবে কেটে গেলো মিনিট দশেক। হঠাৎ খেয়াল করলাম লঞ্চ একেবারেই শান্ত। সারেং বরং লঞ্চটাকে দাঁড়করিয়ে দিয়েছে। আমরা তখন পদ্মা যমুনার মাঝামাঝি, দুপাড়ের প্রলয়ঙ্করী ঝড় দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের এখানে কেমন যেন এক শান্তির নিরবতা। প্রায় ত্রিশ মিনিট পর নদীর দুপাড় যখন কিছুটা শান্ত হয়ে এলো লঞ্চ তখন দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে রওনা হল। ঝড়ের সময় নদীর মাঝ বরাবর শান্ত থাকে এর আগে আমার জানা ছিলনা।

দূর হলো শেষ বড় ভৌগলিক বাধাদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একুশ জেলার মানুষ এ রকম অসংখ্য স্মৃতি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পদ্মাসেতু চালুর পর হয়তো এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না, নতুন প্রজন্ম অন্যকোন ঘটনার স্মৃতি বহন করবে। আমরা বন্ধুরা ফেরী ঘাটের যানযটে কখনো ফেরী ঘাটে কখনো লঞ্চের ভিতরে ইলিশ মাছ খাওয়ার একধরনের প্রতিযোগীতা করতাম। সত্যি বলতে সেই ইলিশের কথা মনে পড়লে এখনো জিভে জল আসে।

এই তো সেইদিন ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ৮মে’২২ এর অভিজ্ঞতা। যশোর থেকে বের হতে বেলা ১টা। ভাবলাম দেরি হচ্ছে একদিকে ভালোই হচ্ছে। কারন তার আগের দিন দৌলতদিয়া ঘাটে বিশাল যানজট (কথিত ২০ কিলোমিটার)। আমরা যখন ‘আকাবাকা’ বাড়ি থেকে যাত্রা করলাম তখন গুগোল ম্যাপ বলছে দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ৮কিলোমিটার যানজট। ছুটি শেষ তারপরও এত লম্বা যানজট। মাওয়ার এ প্রান্তে কাঠালবাড়ি ঘাটে গুগলে যানজট কম দেখাচ্ছিল। এ ঘাটদিয়ে তুলনামূলক ফেরিও কম তবে ঈদের সময় ছোট গাড়ি ছাড়া বাস ট্রাক এ ঘাট দিয়ে পারাপার করছে না, এমন খবর আমাদেরকে উৎসাহিত করলো এই ঘাটে যাওয়ার জন্য, সাথে পদ্মাসেতুর কাজ দেখার লোভ তো আছেই। ঘাট পর্যন্ত কোন যানজট নেই। বরং পদ্মাসেতুর প্রায় ৪০কি. আগে থেকে নতুন সুন্দর সড়ক রেললাইন দেখতে দেখতে ঘাটে পৌঁছে গেলাম। ঘাটে পৌঁছে নতুন পার্কিং প্লেসে গাড়ি রাখতে রাখতে বুঝতে পারলাম কোনও ফাঁদে পড়তে যাচ্ছি। আমাদের সামনে শতশত ছেট গাড়ি পার্কিং করা। যা গুগল ম্যাপ দেখায়নি। তখন বেলা ৩-৩০ টা। ৫-৫০ পর্যন্ত আমরা কয়েক ফুট এগুতে পেরেছি। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম ড্রাইভার ফায়েক গাড়িসহ থাক আমরা রওনা দিবো। ঘাটে একটা ফেরি ছিল। ভাবলাম ওটাতে পদ্মা পার হব। আমরা (আমি, ঝিনুক, বিদিতা,উৎসব) যখন ফেরির প্রায় নিকটে পৌঁছালাম ততক্ষণে ফেরি আমাদেরকে টাটা বলে রওনা দিয়েছে। এবার কি করা। আবার ৭/৮শো মিটার হেটে একটা ইজিবাইক পেলাম। চললাম লঞ্চ / স্পিডবোট ঘাটে। প্রায় দশ মিনিটের রাস্তা। যেতে যেতেই শুনেনিলাম স্পিডবোট ভাড়া এখন দ্বিগুণ। কি আর করা তিন হাজার টাকায় রিজার্ভ করলাম স্পিডবোট। শুরুতে ঝিনুক চুপচাপ থাকলেও মাঝ নদীতে বেশ নার্ভাস ছিল। উৎসব, বিদিতা বেশ মজা পেয়েছে। এদিকে সূর্যের আলো প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৭টা ছুঁই ছুঁই। ফলে স্পিডবোট দাঁড় করিয়ে পদ্মাসেতুর ছবি আর তোলা হল না। মাত্র আঠারো মিনিটে পদ্মার এ পারে। মাওয়াতে নেমেই পেয়ে গেলাম ট্যাক্সি, ভাড়া পঁচিশশো টাকা। রাত ৮-২০মিনিটে ঢাকার বাসায় পৌছালাম। ততক্ষণে ড্রাইভার ফায়েক জানালো গাড়ি মাত্র আট দশ হাত এগোতে পেরেছে। রাত তিনটার দিকে ফায়েক গাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছে।

খরস্রোতা পদ্মা নদীর পানি প্রবাহের বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরই এর অবস্থান। যে কারনে পদ্মাসেতুতে মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে। পৃথিবীর অন্য কোনো সেতু তৈরিতে এত গভীরে পাইল প্রবেশ করাতে হয়নি, যা পৃথিবীতে রেকর্ড। আরও রেকর্ড হলো ভূমিকম্পের বিয়ারিং সংক্রান্ত। এই সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’র সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য রেকর্ডটি হলো নদীশাসন সংক্রান্ত। ১৪ কিলোমিটার (১ দশমিক ৬ কিলোমিটার মাওয়া প্রান্তে ও ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার জাজিরা প্রান্তে) এলাকা নদীশাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এটাও রেকর্ড।

পদ্মা সেতু একটি মাল্টিপারপাস সেতু। এখানে থাকবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেট সংযোগ, রেল লাইন। রেল সেতুসহ মানে দুটা সেতু। মেঘনা সেতু একটা, ভৈরব সেতু একটা। পদ্মা কিন্তু দুটা সেতু। এটা ছয় লেনের সেতু। ট্রেন ১৬০ কিলোমিটার গতিতে যেতে পারবে। এটা ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ের একটা অংশ হিসাবে তৈরী করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে যখন ইউরোপে ট্রেন যাবে তখন পদ্মা সেতু হয়ে মালামাল নিয়ে যাতে যেতে পারে সে কথা পরিকল্পনায় রেখে তৈরী হয়েছে পদ্মাসেতু।

যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে একটি দেশের উন্নয়ন কর্মকা- আবর্তিত হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং শিল্পজাত পণ্যসামগ্রী সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে স্থানান্তর করতে সুবিধা হয়। এর ফলে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, শিল্প ও ব্যবসার প্রসার ঘটে। এ জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পদ্মা সেতু এক্ষেত্রে অর্থনীতির ভিত্তি ও সোনালি সোপান হিসেবে কাজ করবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই সেতুটি ভবিষ্যতে ট্রান্স-এশীয় রেলপথের অংশ হবে। তখন যাত্রীবাহী ট্রেন যত চলবে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি চলবে মালবোঝাই ট্রেন। ডাবল কন্টেইনার নিয়ে ছুটে চলবে ট্রেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে মোংলা ও পায়রা বন্দর।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রথম কোনো সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কৃষিপণ্য খুব সহজেই ঢাকায় চলে আসবে। মোংলা ও পায়রা বন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগর চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

প্রতিবছর দারিদ্র্য নিরসন হবে শূন্য দশমিক ৮৪ ভাগ। এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু। এই ২১টি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ দূরত্ব ২ থেকে ৪ ঘণ্টা কমে আসবে। গাড়ি ও বাসের জন্য প্রায় দুই ঘন্টা এবং ট্রাকের জন্য পাঁচ থেকে দশ ঘন্টা সময় বাঁচাবে। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পথ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, কাঁচামাল সরবরাহ সহজলভ্য হবে এবং শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে, অর্থাৎ ছোট বড় নানা শিল্প কারখানা ২১টি জেলায় গড়ে উঠবে। কৃষির ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। কৃষক পণ্যের মূল্য ভাল পাবে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সেতুর উভয় পাড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও প্রাইভেট শিল্পনগরী গড়ে উঠবে। বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাড়বে কর্মসংস্থান।

২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী পদ্মানদী পার হয়ে দিনে ১২ হাজার যান চলাচল করে, সেখানে সেতু খুলে দিলেই যান চলাচল দ্বিগুণ হতে পারে। এ ধরনের পর্যবেক্ষণকে আমরা বিশ্বাসযোগ্য হিসাবে ধরে নিতে পারি। কারণ যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতুর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে যানবাহন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোগ-চাহিদা বৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল, বাস্তবে প্রসার ঘটেছে এর চেয়ে আরও বেশি। এডিবির সমীক্ষা বলছে, পদ্মা সেতু দিয়ে ২০২২ সালে ২৪ হাজার যানবাহন চলবে, তার মধ্যে বাস চলবে ৮ হাজার ২৩৮টি, ট্রাক ১০ হাজার ২৪৪টি, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে ৫ হাজারের বেশি। সমীক্ষায় আরও প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৮০০টি। ২০৩০ সালে হবে ৩৬ হাজার ৭৮৫। ২০৪০ সালে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ৫১ হাজার ৮০০টি। মানুষের চলাচল বাড়ার সাথে সাথে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ আরও ভালোভাবে সংযুক্ত হবে। পণ্য ও সেবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে চলাচল করবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য পরিষেবাগুলিতে আরও ভাল ভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মংলা বন্দর, পায়রা বন্দর দুটিই দক্ষিণাঞ্চলে। ইতোমধ্যেই মংলা বন্দর এলাকায় বেশ কয়েকটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি চালু হয়েছে এবং গড়ে উঠছে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প। অবশ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়নের সুফল পেতে এখনই গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে, মুখরিত হবে দেশি বিদেশি পর্যটকদের পদাভরে দক্ষিণ বাংলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ, টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু মাজারসহ নানা স্হানে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চর ও দ্বীপকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপের মতো পর্যটনের বিশাল জগৎ তৈরি করা সম্ভব। পদ্মা সেতু চালু হলে সেই সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে কক্সবাজারের চেয়ে কম সময়ে সুন্দরবন ও কুয়াকাটায় পৌঁছানো সম্ভব।

পঞ্চাশোর্ধ বাংলাদেশ গৌরব ও গর্বের সাথে দূরন্ত গতিতে ছুটে চলছে। ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তখন থেকে একের পর এক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে চলেছে। সামনে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ রয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হবে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে যাচ্ছে ২০২৬। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অতিক্রম করেছে এবং আগামী বছরগুলিতে আরও অনেক কিছু অর্জন করতে প্রস্তুত। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) উচ্চ প্রবৃদ্ধির সাথে বাংলাদেশ তার মাথাপিছু আয় অনেক সমবয়সী দেশের তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার কমিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় এবং অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে এগিয়ে রয়েছে। এটি জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত তিনটি মানদ- পূরণ করে ২০১৮ সালে এলডিসি বিভাগ থেকে স্নাতক হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করেছে। ২০১৫ সালে, বিশ্বব্যাংকের দেশগুলির শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন- আয়ের দেশ থেকে নিম্ন- মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। এখন বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএং) পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০৩৫-৪১ সালে বাংলাদেশ যে উন্নত দেশ হবে, সেক্ষেত্রে এই পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনকল্যাণমুখী সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতা রাষ্ট্র পরিচালনা করলে কোনো ষড়যন্ত্রই যে জাতিকে পেছাতে পারে না, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা। নানা সময়ে নানা ষড়যন্ত্র মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে দমাতে পারেনি। তিনি সব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে সফলভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। একটি সেতু আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, যোগ্যতা সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়ের ফসল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি পদ্মাসেতু।

এক সময়ের স্বপ্নের সেতু এখন দৃষ্টিসীমায় দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে চলতি মাসের ২৫ তারিখ। বহুমুখী পদ্মা সেতু পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ- পশ্চিম অঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের শেষ বড়ো ভৌগলিক বাধা দূর করেছে।।

(লেখক: সাংস্কৃতিক সম্পাদক,যশোর জেলা আওআমী লীগ,সহ সভাপতি,উদীচী,যশোর ও সহ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ,যশোর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহত রনির...

মাতৃদেবীজ্ঞানে আসন নেয় সৃজিতা ঘোষাল

এসআই ফারদিন : সোমবারের সকালটা জেগে উঠেছে ঢাক-বাদ্যের তালে। আর এই ঢাকের তাল বলছে মহা...

এলজিইডি যশোর অফিসের মধ্যে ঠিকাদারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অফিসের মধ্যে হারুণ অর রশিদ নামে এক...

সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান এমপি নাবিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রীতি ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য...

যশোরে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে পথ রোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে জখম, শ্লীলতাহানি...

যশোর বঙ্গবন্ধু প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের ‘খ’ গ্রুপের সেরা রাহুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রেলিগেশন এলাকায় থাকা নওয়াপাড়া খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কাছে...