দৈনিক কল্যাণের প্রতিনিধি সম্মেলনে সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা
মফস্বলের সাংবাদিকরাই একটি পত্রিকার প্রাণ

দৈনিক কল্যাণের প্রতিনিধি সম্মেলনে

কল্যাণ রিপোর্ট
দৈনিক কল্যাণের সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা বলেছেন, মফস্বলের সাংবাদিকরাই একটি পত্রিকার প্রাণ। তাদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনি আর পত্রিকার প্রতি ভালবাসাই পারে একটি পত্রিকাকে পাঠকের হৃদয় জয় করতে। দৈনিক কল্যাণে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না। সেক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ অবশ্যই সঠিক এবং সাংবাদিককে সৎ হতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধিকে হতে হবে দুর্নীতি মুক্ত।

যশোরের বাঁচতে শেখা মিলনায়তনে আয়োজিত পত্রিকার প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দৈনিক কল্যাণের নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, নির্বাহী সম্পাদক শাহাদাত হোসেন কাবিল, নির্বাহী পরিচালক এহসান উদ দ্দৌলা মিথুন, উন্নয়ন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মুকুল, আইটি বিভাগের প্রধান ওয়াসিম হোসেন, প্রধান ভিডিও এডিটর আসিফ খান, নড়াইল ব্যুরো প্রধান সাথী তালুকদার, বেনাপোল প্রতিনিধি আইয়ুব হোসেন পক্ষী, ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুমন ব্রহ্ম, বাঘারপাড়া প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, মণিরামপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ সোহান, মহেশপুর প্রতিনিধি এনামুল হক দুলু, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাত তুহিন প্রমুখ।

একরাম-উদ-দ্দৌলা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পত্রিকাটি আধুনিক প্রযুক্তিতে পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার। যা এতদিন আমাদের সাধ্যের বাইরে ছিল। কিন্তু আপনাদের লেখনি আর একাগ্রতার ফলে সেই আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবসে মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক দৈনিক কল্যাণ সম্পূর্ণ নতুনভাবে পাঠকের হাতে তুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে পত্রিকাটি যশোরের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে সরকারের নিবন্ধন লাভ করেছে। যা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। পাশাপাশি যশোরের মেধাবী তরুণ ও প্রথিতযশা লেখক-সাংবাদিক দৈনিক কল্যাণের সাথে যুক্ত হয়েছেন। আগামীতে আরও বড় ধরনের সফলতা অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, আমি আবেগ আপ্লুত। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আপনারা আমার সন্তান তুল্য । আমার সন্তানরা থাকবে দুধে ভাতে। তার জন্য যা কিছু দরকার তাই করা হবে।

রুকুনউদ্দৌলাহ বলেন, ভাল সাংবাদিক হতে হলে ভাল পাঠক হতে হবে। তিনি বলেন, পড়ার কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া সঠিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিককে মানুষের কাছে যেতে হবে। সংবাদ যত বেশি তথ্য নির্ভর হবে পত্রিকার মান এবং সাংবাদিকের মর্যাদাও তত বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেকটি সংবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য দিতে হবে।

এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, এখন সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক নিজেকে অস্তিত্বহীন করে ফেলছেন। কিন্তু দৈনিক কল্যাণ সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা চাই মানুষ সঠিক সংবাদ জানুক। এ জন্য প্রতিনিধিদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

শাহাদাত হোসেন কাবিল বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ হাতেগোনা কতিপয় সাংবাদিকের লেখা পড়ে। তাই সংবাদ লেখার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমার লেখা সংবাদে যেন পাঠক উপকৃত হয়। লেখার সময় শব্দ চয়ন ও নির্ভুল বানানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেন যেকোন শ্রেণি পেশার মানুষ তা সহজে বুঝতে পারে। সংবাদে কোন বাড়তি কথা না লিখে খেয়াল রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বক্তব্য যেন বিকৃত না হয়।

এহসান উদ দৌলা মিথুন বলেন, আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আমরা একে অপরের সুখে দুঃখে অতীতে যেমন ছিলাম আগামীতেও তেমনই থাকবো। আমাদের এই নবযাত্রায় সকলে আরো একাত্ম হয়ে কাজ করবো।

আব্দুল ওয়াহাব মুকুল বলেন, পত্রিকার উন্নয়নে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিনিধিদের সচেষ্ট থাকতে হবে। স্থানীয় সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও প্রতিনিধিকে তৎপর হতে হবে।

সবশেষে ভিডিও এডিটর আসিফ খান প্রতিনিধিদেরকে ভিডিওসহ অনলাইন নিউজের জন্য ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও সংবাদ লেখার কলাকৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সম্মেলনে পত্রিকার মফস্বলে কর্মরত প্রায় অর্ধশত প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে