Wednesday, July 6, 2022

দ্বৈত সভাপতি ও সম্পাদক!

শহরময় হাসি-তামাশা-সমালোচনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ জাতীয় শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল। অনৈক্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দুই গ্রুপের পারস্পারিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও পরস্পরের বহিস্কারের কারণে সাংগঠনিকভাবে এগুতে পারেনি সংগঠনটি। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন শ্রমিক লীগের দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমও দেখা যায়নি। বর্তমানে জেলা কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দাবিদার দুজন। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক পদেও দুজন রয়েছেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক শহরের বিভিন্ন আড্ডা ও আলোচনা স্থলে হাসি-তামাশা চলছে।

২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ত্রি-বার্ষিক ওই সম্মেলনে সদ্য প্রয়াত আজিজুর রহমান সভাপতি ও নাসির উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এগুতে পারেনি সংগঠনটি। জেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপ রাজনীতির প্রভাবে শ্রমিক লীগও দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সাংগঠনিক কার্যক্রমের বদলে শুরু হয় পারস্পারিক কাদা ছোড়াছুড়ি। নতুন কমিটি যাত্রার শুরুতেই হোঁচট খায়। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীনকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কার করে জেলা কমিটির একাংশ। যা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয় কিন্তু অনুমোদিত হয়নি বলে দাবি করেন নাসির উদ্দীন।

কিন্তু আ.লীগের গ্রুপ রাজনীতির প্রভাব টপকে স্বপদে ফিরতে পারেননি নাসির উদ্দীন। ওই সময় যশোর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের অনুসারী ছিলেন আসাদুজ্জামান বাবলু। অভিযোগ রয়েছে ওই প্রভাবে জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ আঁকড়ে ধরেন বাবলু। কার্যত, তখন থেকেই শ্রমিক লীগে বিভক্তি ঘটে। নাসির উদ্দীন পক্ষীয়রা সদরের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের সভা-সমাবেশে অংশ নিতে থাকেন। অপরদিকে শ্রমিক লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি আজিজুর রহমান ও আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারীরা শাহীন চাকলাদারের মিছিল, মিটিং ও সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে আসছিলেন।

সম্প্রতি আসাদুজ্জামান বাবলু হাত মেলান এমপি নাবিল গ্রুপের সাথে। যেকারণে শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে স্বস্তিভাব ফিরে আসে। কিন্তু এ অবস্থা বেশিদূর এগুতে পারেনি। ২৫ এপ্রিল আজিজুর রহমানের মৃত্যুতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়। এরপরই শুরু হয়ে যায় পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে বসানোর তোড়জোড়।

নাসির পক্ষীয়রা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্বাক্ষাৎ করেন। গত বৃহস্পতিবার যশোরে ফিরে বিশাল শোডাউন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন সহ-সভাপতি জবেদ আলী।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারীরা। দপ্তর সম্পাদক মিঠুন চ্যাটার্জী সাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় বহিস্কৃত কোনো নেতা কমিটির কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। নাসির উদ্দীন বহু আগেই বহিস্কৃত দাবি করে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা আ.লীগের কার্যালয়ে সভা আহ্বান করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আসাদুজ্জামান বাবলুকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বলা হয়- জবেদ আলীকে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।

এবিষয়ে গঠনতন্ত্রের ধারা ব্যাখ্যা করে একপক্ষ অপরপক্ষের দাবি নাকচ করেন দেন। নাসির উদ্দীন কল্যাণকে বলেন, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১৫ (গ) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্বাক্ষাৎ করে সিনিয়র সহসভাপতি জবেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটাকে বিতর্কিত করার কোন সুযোগ নেই।’
পাল্টা বক্তব্যে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের ২০ ধারায় বলা আছে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু তারা অবৈধভাবে একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রের ২০ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো শূন্য পদ পূরণ করতে হলে সভা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোন বৈঠকের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের ১৫ (গ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে-সভাপতির অবর্তমানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহ-সভাপতিগণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে সভাপতির মৃত্যু হলে সিনিয়র সহসভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন- এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

কিন্তু কেন্দ্রীয় সভাপতির মতামতকে উপেক্ষা করে শনিবার সভা করেন আসাদুজ্জামান বাবলুর অনুসারীরা। সেখানে কমিটির সহসভাপতি-৩ সাইফুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এ সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জবেদ আলীসহ একাংশের নেতাকর্মীরা অংশ নেননি। তবে আসাদুজ্জামান বাবলু এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সহ-সভাপতি-১ জবেদ আলীসহ জ্যেষ্ঠ দুজন সহসভাপতি অনুপস্থিত ছিলেন। যেকারণে সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, আমি খুলনাতে আছি। কারোর দিয়ে গঠনতন্ত্রের ফটোকপি পত্রিকা দপ্তরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে দিন গড়িয়ে গেলেও কেউ আসেননি। অপরদিকে নাসির উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দৈনিক কল্যাণে আগের নিউজেই আমার বক্তব্য ছাপা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

পিঠে ছুরিবিদ্ধ খোকন নিজেই গাড়ি ভাড়া করে আসেন যশোর হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিঠে বিদ্ধ হওয়া ছুরি নিয়ে নিজেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন...

নায়কদের নামে কোরবানির গরু, আপত্তি জানালেন ওমর সানি

কল্যাণ ডেস্ক : আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায় এই ঈদে পশু কোরবানির...

এশিয়ার বাইরের উইকেটের যে কারণে অসহায় মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক : মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকে তাকে বলতেন, 'জোর বল করা...

নতুন ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত

কল্যাণ ডেস্ক : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের আওতায় আরও ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার...

নওয়াপাড়া বন্দরে অবৈধ তালিকায় ৬০ ঘাট

অবৈধভাবে গড়ে উঠা ঘাটের কারণে কমছে নদীর নাব্যতা ৫ বছরে অর্ধশত জাহাজ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত...

মণিরামপুরে জমজমাট কোরবানির পশু হাট

আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর : দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম হাট মণিরামপুরের গরু-ছাগলের হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে...