শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

ধর্ম-কর্মের খোঁজ নেই মসজিদ নিয়ে মারামারি

হাদিস শরিফে মসজিদকে সর্বোত্তম স্থান হিসেবে উল্লখ করা হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহর এবাদতে যেভাবে মনোনিবেশ করা যায় অন্য কোথাও তা হয় না। পবিত্র এবং সর্বোত্তম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্ঞানে মুসলমানরা সেখানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নামাজ আদায় করেন। যারা মসজিদে যান তারা নিশ্চয় আল্লাহভীরু ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ এই পবিত্রতম মসজিদকে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা মানছেই না যে মসজিদ মহান আল্লাহর এবাদতের স্থান। আর তাই তারা বিভিন্ন ইস্যুতে মসজিদ কেন্দ্রীক সংঘাত সৃষ্টি করছে। এমন ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। সংঘাতের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় কামরুল শেখ নামে একজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। ৩০ জুন সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়া গ্রামে মসজিদের কমিটি ও হিসাব নিকাশ এবং পূর্বের একটি হাঁস চুরির টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন কামরুল শেখ ও তার ভাইদের বাড়িতে হামলা করে। বেপরোয়াভাবে হামলায় কামরুল শেখসহ তার আপন ও চাচাতো ভাইসহ ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কামরুল শেখ মারা যান। গত ৬ মে যশোরের শার্শা উপজেলার আমলাই গ্রামে। ওই গ্রামের মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের কিছু লোক দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এর আগে ১৫ এপ্রিল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামে মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মারামারিতে ১০ জন আহত হয়। ৬ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে মারামারি হয়। ওই মারামারিতে ১০ জন আহত হয়।
এই পবিত্রতম প্রতিষ্ঠান নিয়ে যারা মারামারি হানাহানি করে তারা কোন মতেই আল্লাহভীরু ধর্মপ্রাণ হতে পারে না। তারা ভন্ড। ধর্মের নামে তারা মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ফায়দা হাসিলের পথ খোঁজে। তারা বড় পাপিষ্ঠ তাতে কোন বিতর্ক নেই। তারা সন্দেহাতীতভাবে সমাজের নিকৃষ্ট জীব।

ধর্ম নিয়ে আমাদের কোন কঠাক্ষ নেই। মসজিদকে আমরাও পবিত্র জ্ঞানে মান্য করি। যারা ইমাম নিয়ে মারামারি করলেন তারা কোন জ্ঞানে কাজটি করলেন তা জানতে ইচ্ছে করে। তারা ফেৎনা সৃষ্টি করে যে মহাপাপ করেছেন তা কি জানেন না। যদি না জানেন তাহলে তারা মসজিদে গিয়ে কি শিখলেন? ফেৎনা হলো মানুষ হত্যার চেয়েও বড় পাপ। আস্ত্রবাজি যে ভাবে চলেছে তাতে আহতদের মধ্যে দু’একজন মারা যেতেও পারতেন। যারা প্রতিপক্ষকে অস্ত্রের আঘাত করেছেন তারা একবারও যখন ভাবেননি তখন একথা বুঝতে বাকি থাকে না যে ধর্মের টানে মসজিদের কাছে যান না। সামাজিক প্রতিপত্তি দেখাতে তারা নিজেদেরকে ধর্মানুরাগী দেখান। তবুও তারা সমাজের মানুষকে ধর্ম শেখাতে আসেন। মানুষ মহান আল্লাহ সৃষ্ট আর মসজিদ মানুষে নির্মাণ করে। সেই মসজিদ নিয়ে গল্ডগোল করে তারা আল্লাহ সৃষ্ট মানুষকে হত্যা করছে, রক্ত ঝরাচ্ছে। এসব বিবেকহীন মানুষের হাতে ধর্ম চলে যাওয়ায় আজ যত বিভ্রান্তির সৃষ্টি, যত অনাচারের সৃষ্টি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

প্রস্তুত সমাবেশ মঞ্চ, বেলা ১১টায় বিএনপির সমাবেশ

কল্যাণ ডেস্ক : রাতেই প্রস্তুত হয়ে গেছে মঞ্চ। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ গোলাপবাগ মাঠে শনিবার...

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

কল্যাণ ডেস্ক : আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘মানব-মর্যাদা, স্বাধীনতা আর...

সেমিফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক : এই ম্যাচ যে এত রং বদলাবে কে জানত! কে জানত ৮২ মিনিট...

যে কারণে ছিটকে গেল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক : কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ছিল ব্রাজিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে বিবশ করা খেলা...

ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্রাজিলের সব আক্রমণ গিয়ে প্রতিহত হচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে। সত্যিই যেন এদিন...

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার...