Thursday, July 7, 2022

নওয়াপাড়া নৌ-বন্দর : সংকটেও বেড়েছে পণ্য আমদানি 

নেই প্রয়োজনীয় স্থাপনা, ওয়ার হাউজের সুবিধা, নদী ভাঙনরোধে কী-ওয়াল, মালামাল ওঠানামার জন্য আরসিসি সিঁড়ি এবং মালবাহী ট্রাকের জন্য পার্কিং ইয়ার্ড

আবদুল কাদের: নানা সংকটের মধ্যেও যশোরের নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরে গেল অর্থবছরে পণ্য আমদানি বেশি হয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ হাজার ১২৬ জাহাজে পণ্য এসেছে ২০ লাখ ৬৩ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন পণ্য। এই বন্দর দিয়ে মূলত সার, সিমেন্ট, কয়লা, গমসহ বিভিন্ন পণ্য আসে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ, ওয়ার হাউজের সুবিধাদি বৃদ্ধি, নদী ভাঙনরোধে কী-ওয়াল নির্মাণ, মালামাল ওঠানামার জন্য আরসিসি সিঁড়ি নির্মাণ এবং মালবাহী ট্রাকের জন্য পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ করেনি বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। বন্দরটি আধুনিকায়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো প্রকল্প। সরকার এ বন্দর থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও ব্যবসায়ীরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বন্দর দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৬৮টি জাহাজে আমদানি পণ্য আসে ৭ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই হাজার ৫টি জাহাজে পণ্য আসে ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন হাজার ৩৫২ জাহাজে ১৬ লাখ ২৬ হাজার ১৯ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪০৪ জাহাজে পণ্য আসে ১৭ লাখ ২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১২৬ জাহাজে পণ্য এসেছে ২০ লাখ ৬৩ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন। এই বন্দর দিয়ে মূলত সার, সিমেন্ট, কয়লা, গমসহ বিভিন্ন পণ্য আসে।

এদিকে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরে গড়া ৮টি জেটি ও একটি পল্টুন কাজে আসছে না। পণ্য আমদানির পর খালাস করার জন্য এগুলো নির্মাণ করেছিল কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এসব জেটি ব্যবহার করছে না। তারা বলছেন, নদীর তীর থেকে জেটি ও পল্টুন অনেক দূরে হওয়ায় লেবার খরচ ও সময় বেশি লাগে। এজন্য তারা গাইডল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের এপ্রিলে ঘোষণা দেওয়া হয় যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নদীবন্দর স্থাপনের। ২০০৭ সালের মে মাসে শুরু হয় এর কার্যক্রম। ভৈরব নদের চেঙ্গুটিয়া থেকে ভাটপাড়া ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে বারো কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা নির্ধারণ করা হয় নদীবন্দরটির। স্থাপন করা হয় ছয়টি পল্টুন। আয় হতে থাকে রাজস্ব। সময়ের সাথে বেড়েছে রাজস্ব আয়। কিন্তু এতটুকুও বাড়েনি নদীবন্দরের উন্নয়ন কাজ।
নওয়াপাড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সড়ক, রেল ও নদীপথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নওয়াপাড়ায় ব্যাপক প্রসার ঘটে সার, খাদ্যশস্য ও সিমেন্ট ব্যবসার। নওয়াপাড়া পরিণত হয় দেশের অন্যতম বড় বিপণন কেন্দ্রে। আমদানি করা সার ও খাদ্যশস্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে বড় জাহাজ থেকে খালাসের পর তা ছোট বার্জ ও কার্গোতে করে নদীপথে নওয়াপাড়া বন্দরে আনা হয়। ভৈরব নদে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বার্জ ও কার্গো থেকে পণ্য উঠানো-নামানো হতো। এছাড়া ভারত থেকে স্থলপথে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় তার বেশিরভাগ রেলের ওয়াগনে করে দর্শনা স্থলবন্দর হয়ে নওয়াপাড়ায় আনা হয়। এসব পণ্য সড়ক ও নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সার ও খাদ্যশস্য আমদানিকারক আদিত্য মজুমদার বলেন, নদের ভাঙন রোধে কী-ওয়াল এবং বার্জ ও কার্গো থেকে মালামাল ওঠানো-নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সিঁড়ি, সড়ক ও মালবাহী ট্রাকের জন্য পার্কিং ইয়াড না থাকায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি। আমরা নিজেদের ঘাটও নিজেরাই তৈরি করে নিচ্ছি। নওয়াপাড়া নদীবন্দরে পণ্য আমদানি বোঝাই জাহাজের হার বাড়লেও উন্নয়ন হচ্ছে না। শুধু ট্যাক্স দিয়েই যাচ্ছি। কোনো সুবিধা পাচ্ছি না।

নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, ভৈরব নদকে ঘিরে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। আমরা ঠিকমতো ট্যাক্স দিচ্ছি। কিন্তু নদী বন্দরের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এখানে ছোট জাহাজ আসলেও ঘাটে ভিড়তে পারেনা। এজন্য আমরা গাইডল নির্মাণের দাবি করেছিলাম। কিন্তু তা করা হয়নি।

বন্দর সূত্র জানায়, নদের দুই তীরভূমির পরিমাণ ৫১ দশমিক ৫৫ একর। এর বেশিরভাগ জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে পাট, সার, সিমেন্ট, চাল, ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘাট-গুদাম।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, প্রতিবছর এই বন্দরটিতে পণ্য আমাদানি বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। নদী খনন করে এর পরিধি ও সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে যশোরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বন্দরটি ব্যবহারে আগ্রহ বেশি দেখাবে।
সার্বিক বিষয়ে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের ৩৭ কিলোমিটারে ৩০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ করা হয়েছে। এখন সরকার বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে বন্দরটি থেকে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সরকার বন্দরটির উন্নয়ন করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ঈদের আগে আনন্দধারায় শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিওভুক্ত যশোরের ৬০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রতিবেদক :  সরকার ২ হাজার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত ঘোষণা...

নতুন রোটারী বর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রোটারী ডিস্ট্রিক-৩২৮১-এর রোটারী বর্ষের সূচনা উপলক্ষে বুধবার বিকেলে যশোর শহরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি...

যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচন : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মনোনয়নপত্র কিনেই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন যশোর বাস মালিক সমিতির নির্বাচনের প্রার্থীরা। শুরু...

যশোরে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ১৫ জন আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলার চার এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় আলাদা চারটি মামলা করা...

সহসা কমছে না লোডশেডিং

ঢাকা অফিস গ্যাস সংকট চলছে তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘœ ঘটাছে। দেশজুড়ে চলছে লোডশেডিং চলছে। কবে...

অপতৎপরতা রুখতে একসাথে কাজ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী স্বপন

মণিরামপুর প্রতিনিধি :  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা...