না ফেরার দেশে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম-ফাইল ফটো

কল্যাণ ডেস্ক : ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত বাংলাদেশের দীর্ঘ পথ পরিক্রমার অগ্নিসাক্ষী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের ডিউটি অফিসার অভিজিৎ রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে বর্ষণ ইসলামের বন্ধু ইফতেখার করিমও মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

৮৭ বছর বয়সী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম পেটে ব্যথা নিয়ে গত ৭ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর ফুসফুসে পানি জমার বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন থেকে বিএসএমএমইউর বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে চাইলেও রফিকুল ইসলাম তাতে সায় দেননি।

এভারকেয়ারের ডিউটি অফিসার অভিজিৎ রায় জানান,২১ নভেম্বর অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে বিএসএমএমইউ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক ও নজরুল গবেষণাকেন্দ্রের প্রথম পরিচালক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা রফিকুল ইসলাম সেই সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্রও ধারণ করেছিলেন। তিনি অন্তত ৩০টি গ্রন্থের রচয়িতা।

রফিকুল ইসলাম বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক হন। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক পেয়েছেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ২০২১ সালের ১৮ মে সরকার তাঁকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে