নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চাই

সম্পাদকীয়

বিভিন্ন স্থানে ফরমালিনযুক্ত মাছ ও ফল বিক্রি হচ্ছে। সততার মাধ্যমে ব্যবসা করার বিষয়টি এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তোয়াক্কা না করে মানুষকে বিষ ভক্ষণ করাতেও দ্বিধাবোধ করছে না। প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝে মাঝে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন এবং এসব ফর্মালিনযুক্ত মাছ ও ফল ধ্বংস ও জরিমানা করছেন। কিন্তু কিছুতেই থামছে না। তারা কাজটি করেই যাচ্ছে। শুনলে অবাক হতে হয় পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে দোকানে দোকানে খাদ্য পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য নিজেদের উদ্যোগে ফেরৎ নিয়ে ধ্বংস করে ফেলে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মানুষের সেবায় সেখানকার মানুষ এমনই নিবেদিত যে টাটকা খাদ্য মানুষের কাছে পৌছাতে পারলে তারা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। আর আমাদেও দেশে তার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

খাওয়ার অনুপযোগী যে সব খাদ্য মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে তা অকল্পনীয়। বাজারে আজকাল নাকি মাছসহ কোনো খাদ্যে মাছি বসে না। এতে স্বাভাবিকভাবে ধারণা সৃষ্টি হয় তাহলে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে বাজারঘাট এগিয়ে গেছে। কিন্তু তা নয়, রহস্য অন্য জায়গায়। মূলত বর্তমানে বিভিন্ন জিনিসে যেভাবে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে মাছি বাজার ছাড়া হয়ে গেছে। মাছির উপদ্রুবমুক্ত সেই মাছ আমরা টাটকা বলে কিনে খাচ্ছি। তুচ্ছ প্রাণি মাছি বুঝলো, কিন্তু বিশাল জ্ঞান-গরিমার অধিকারী মানুষ আমরা বুঝলাম না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে আমরা অভিনন্দিত করি। আজ বাজারের এমন কোনো জিনিস নেই যেটি ফরমালিন বা বিষমুক্ত। পাকা ফলের পচন ঠেকাতে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই ফলটি আবার গণস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকানো। ফল পাকানোর এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে একবার আম বাগান সরকারি বাহিনী দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাজারে যে সবজিটা তরতাজা দেখা যায় সেটা নিঃসন্দেহে বিষযুক্ত। বিষের প্রতিক্রিয়ায় কোনো কীটে ওই সবজিটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। পোকার উপদ্রব ঠেকাতে সবজিতে কীটনাশক ব্যবহারের অনুমোদন আছে। কিন্তু সেটা কেউ অনুসরণ না করে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে। আবার কীটনাশক ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় পার হবার আগেই তা বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে মানুষকে জেনে শুনে ওই বিষ খেতে হচ্ছে। যুবকদের কর্মসংস্থানের নামে আজ গ্রামে গ্রামে যত্রতত্র যেভাবে পোল্ট্রিফার্ম করা হচ্ছে তাতে গ্রামে বসবাস করার পরিবেশ থাকছে না। পোল্ট্রি ফার্মের আশপাশ শতভাগ বিষিয়ে উঠেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। অথচ পোল্ট্রিফার্ম করারও একটা নীতিমালা আছে। মানুষের স্বস্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এদিকটার প্রতি অবহেলা করা সমর্থনযোগ্য নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে