Wednesday, July 6, 2022

নেতৃত্ব নির্ভর করছে নার্গিস বেগমের উপর!

‘কমিটিতে অধ্যাপক নার্গিস বেগমের থাকা না থাকার উপর হবে শীর্ষ দুটি পদে কে আসীন হবেন’

আবদুল কাদের ও সুনীল ঘোষ: যশোর জেলা বিএনপির ১৬টি ইউনিটের মধ্যে ৭টি ইউনিটের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। অন্য ৯টি ইউনিটের সম্মেলনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। আশা করা হচ্ছে ঈদুল আযহার আগেই এসব ইউনিটের সম্মেলন শেষ হবে। এরপর ঈদের পর অনুষ্ঠিত হবে জেলা বিএনপির সম্মেলন। নেতৃত্বে কে আসছেন তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে জোর আলোচনা।

জেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদি নার্গিস বেগম জেলা কমিটিতে না থাকতে চান তাহলে হবে এক হিসাব, আর সভাপতি পদে থাকতে চাইলে আসবে অন্য হিসাব। মূলত তার জেলা কমিটিতে থাকা না থাকার উপর হবে শীর্ষ দুটি পদে কে আসীন হবেন।

জেলা সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে যশোর সদর উপজেলা বিএনপি ও নগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শেষ হয়েছে। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক ইউনিট গঠনে পিছিয়ে আছে কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলা। তৃণমূলের ভোটে ইউনিট গঠন করছে দলটি। জেলা বিএনপির নেতৃত্ব গঠনেও ভোটাভুটি চান ইউনিট প্রধানরা। অন্তত শীর্ষ ৩টি পদে ভোটাভুটির দাবি উঠেছে।

কর্মীদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক নার্গিস বেগম, অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান ও সাবেক নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু। দলটির অনেকেই চাচ্ছেন ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হোক নতুন নেতৃত্ব। ভঙ্গুরদশা থেকে দলকে চাঙ্গা করতে হলে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই এমন মন্তব্য অনেকের।

যশোর জেলা বিএনপির সম্মেলন হয় প্রায় দেড় দশক আগে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ৩ মাস মেয়াদের ৫৩ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃত্বে আসেন সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিনী অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সেই আহবায়ক কমিটিকে পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। কিন্তু আহবায়ক কমিটি ৩ বছরেও সম্মেলন করতে পারেননি। মেয়াদোত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

এনিয়ে পদ বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অভিমান রয়েছে। নেতৃত্ব নিয়েও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে দলটির বহু নেতাকর্মী ফেরারি জীবনযাপন করছেন। টানা সময় ধরে মামলা চালাতে অনেকেই সহায়-সম্বল হারিয়েছেন।

দলটির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৯ সালে। চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন সভাপতি হন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু। দেলোয়ার হোসেন খোকনকে দেয়া হয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। জেলা বিএনপি পায় ১৪০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের মাথায় ২০১০ সালে ক্যান্সারে মৃত্যু হয় চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়নের। তখন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় শামসুল হুদাকে। পরে বিভিন্ন সময় কমিটির ১৮ সদস্যের মৃত্যু হয়। দল থেকে বহিস্কার করা হয় অনন্ত ৩ জনকে। এতে দলটি নেতৃত্ব শূন্যতার মুখে পড়ে।

সূত্র মতে, অধ্যাপক নার্গিস বেগম সভাপতি পদে থাকতে চাইলে পদটিতে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে তাকে যদি কেন্দ্রে রাখা হয়, তাহলে সভাপতির পদে সাবেরুল হক সাবু, মিজানুর রহমান খান ও মারুফুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদে নার্গিস বেগম থেকে গেলে উল্লেখিতরা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তখন সাধারণ সম্পদক পদে লড়বেন দেলোয়ার হোসেন খোকনও।

সাংগঠনিক সম্পাদকে আসতে পারেন হাজী আনিছুর রহমান মুকুল ও মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু। তবে ভোটাভুটির মাধ্যমেই নেতা নির্বাচনের জোর দাবি তুলবেন সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর প্রধানরা। সম্মেলনের আগে কেউ যদি বাড়িতে বা নির্দিষ্ট কোন স্থানে কাউন্সিলরদের ডেকে পছন্দের নেতাকে সমর্থন দিতে বলেন, তা প্রত্যাখাতের সম্ভাবনা রয়েছে-দাবি দলটির একাধিক সূত্রের।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, আমরা কোরবানি ঈদের আগে সম্মেলন শেষ করব বলে আশা করছি। তবে এখনও জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব কিনা তা ভাবার সময় আসেনি। দল সিদ্ধান্ত নেবে কি করব। একই কথা বলেন সাবেরুল হক সাবু। তিনি বলেন, সময় হলে বলে দেব কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। তিনি বলেন, আমি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদে থাকলেও জেলা বিএনপির পদে আসতে বাধা নেই।

বিএনপির নেতা দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী। তবে নার্গিস বেগমের উপর নির্ভর করছে দলে কারা আসবেন। আমাদের এখন প্রধান কাজ দলকে শক্তিশালী করা।

জেলা বিএনপি’র ডাকসাইটের নেতা ও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে সাংগঠনিক কমিটিগুলো সম্পন্ন করার জোর প্রস্তুতি রয়েছে। নার্গিস বেগম সভাপতি হলে আমি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। তবে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যা বলবেন সেটি মেনে নেব।

যশোর নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম জানান, আমি যেহেতু নগর বিএনপির পদ ছেড়ে দিয়েছি। সেকারণে জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে আসতে ইচ্ছুক। তবে আমার অভিভাবক অধ্যাপক নার্গিস বেগম যেভাবে বলবেন সেভাবে চলবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

পিঠে ছুরিবিদ্ধ খোকন নিজেই গাড়ি ভাড়া করে আসেন যশোর হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিঠে বিদ্ধ হওয়া ছুরি নিয়ে নিজেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন...

নায়কদের নামে কোরবানির গরু, আপত্তি জানালেন ওমর সানি

কল্যাণ ডেস্ক : আগামী ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায় এই ঈদে পশু কোরবানির...

এশিয়ার বাইরের উইকেটের যে কারণে অসহায় মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক : মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকে তাকে বলতেন, 'জোর বল করা...

নতুন ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত

কল্যাণ ডেস্ক : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের আওতায় আরও ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার...

নওয়াপাড়া বন্দরে অবৈধ তালিকায় ৬০ ঘাট

অবৈধভাবে গড়ে উঠা ঘাটের কারণে কমছে নদীর নাব্যতা ৫ বছরে অর্ধশত জাহাজ ডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত...

মণিরামপুরে জমজমাট কোরবানির পশু হাট

আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর : দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম হাট মণিরামপুরের গরু-ছাগলের হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে...