মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

পদ্মা সেতু : অবাক বিষ্ময়ে চেয়ে দেখবে পৃথিবী

শাহাদত হোসেন কাবিল: ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর পুরোটাই এখন দৃশ্যমান যা আজ উদ্বোধন হচ্ছে। সেতুটি বাঙালির কাছে অত্যন্ত গর্বের। কারণ সেতুটির সূচনাতে বিশ্বব্যাংক নানা অজুহাত খাড়া করে। আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী এই বাহানার পেছনে সেতুটি যাতে না হয় তার পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের কালো ছায়া দেখতে পান। সেতু নির্মাণের বিষয়ে তিনি সাহসী ভূমিকা নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন না নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। কঠিনতম এ ঘোষণায় অবাক হয়েছিল বিশ্ব। কিন্তু বাঙালি জাতি পেয়েছিল কঠিন কর্মের প্রেরণা। সারা বিশ্বের অবাক করা সেই সেতু আজ বাস্তবে। এখন এই সেতু দিয়ে চলবে যানবাহন । অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে দেখবে বিশ্ব। নিন্দুকেরা নিরাশা ব্যক্ত যে অপপ্রচার চালিয়েছিল তাদেরকে শিক্ষা দেয়া হলো কাজের মাধ্যমে। এখন আর তাদের বলা কিছু থাকলো না।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম অবকাঠামো, যা সাহসী জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে করা হলো। নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, পদ্মা সেতু দেশে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

এই বৃহত্তম অবকাঠামোর কল্যাণ দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়িয়ে তুলতে পারে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে সূচিত হবে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পাবে রাজধানী ঢাকার সাথে সহজ যাতায়াতের সুযোগ। সুদীর্ঘকাল ধরে পদ্মার এ পারের মানুষ কি যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয় তা সবার জানা। যোগাযোগের এ সংকট কাটার এক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলেন এই এলাকার মানুষ। এই সেতুর কল্যাণে সে সংকট কেটে গেল। বেনাপোল স্থল বন্দর ও মংলা পোর্টের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় পণ্য আদান প্রদানের বাধা না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

পদ্মা সেতুর শুভ প্রভাবে এ অঞ্চলটিতে এক যুগান্তকারী উন্নয়নের সূচনা করবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বড় মাপের মানুষের মনও বড় হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দেশের সর্ববৃহৎ দল আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করতে চেয়েছেন ।

গণতন্ত্র বলে, ‘তোমার মতের সাথে আমার মতের মিল নাও থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার অধিকার আমার নেই।’ মানবাধিকারের এক মহান বার্তা এটি। দেশে অনেক দল আছে। সবাই কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণের পক্ষে ছিল না। বিশ্ব ব্যাংক পক্ষে তো ছিলই না উপরোন্তু অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। বড় মনের অধিকারী না হলে এমন মহৎ চিন্তাটি করা যায় না।

বড় দলের বড় মনের বড় নেতা ছিলেন জতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তিনি নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথা না ভেবে মানুষের কথা ভাবতেন। তাদের জন্যই তিনি জীবনটা মৃত্যুর হাতে সপে দিয়ে জাতির মুক্তির সংগ্রাম করেছেন। তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী জননেত্রী শেখ হাসিনাও বড় মনের মানুষ। আর তাই তিনি সহজেই সব কিছু ভুলে পক্ষের বিপক্ষের সবাইকে নিয়ে দেশের বৃহত্তর সেতুটি উদ্বোধন করতে চেয়েছেন। বিরোধীদের এই অনুষ্ঠানে না ডাকলে কারো কিছু বলার ছিল না। বরং সবাই বলতো বিরোধীদের উচিত শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সে পথে না গিয়ে উদার মনের পরিচয় দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।

উদার মানসিকতার বড় মনের মানুষ না হলে রাজনীতিতে কেউ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন আজ একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারছেন তা জাতির কাছে সহজেই অনুমেয়। আমরা চাই দেশের সব দলমতের নেতারা বড়মন নিয়ে পথ চলুন। ইতিহাস আপনাদের পিছু হাঁটবে। দেশ ও দেশের মানুষ এ গুণের কারণে উপকৃত হবে।

৬০ টি পরিবহন কোম্পানি প্রায় দেড় হাজার বাস সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব রুটে দূরত্ব কমবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। সেইসঙ্গে ফেরি পারের ঝুঁকি না থাকায় এখনকার তুলনায় প্রায় ২ ঘণ্টা কম লাগবে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এরইমধ্যে বিভিন্ন রুটের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বিআরটিএ। পদ্মার দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে ২১ জেলা। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬টি, বাকিগুলো ঢাকার। এসব জেলায় যাতায়াতে যাত্রীবাহী বাসগুলোর নিয়মিত রুট হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া।

গাবতলী থেকে ছেড়ে পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠে পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাত সেগুলো। আরিচা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব বাসকে পাড়ি দিতে হয় ১০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ। সেই সঙ্গে ফেরিঘাটের যন্ত্রণা তো রয়েছেই, অন্য নানা ঝামেলাতেও পড়তে হতো যাত্রীদের।

গাবতলী থেকে ছেড়ে ১৯৮৬ সালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল শুরু হলে নতুন পথের খোঁজ পান ২১ জেলার মানুষ। এ রুটে চলাচলের ক্ষেত্রে দূরত্ব কমে যায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি। আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হতে থাকে রুটটি। পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি ছোট গাড়ি এবং কিছু বাসও চলতে শুরু করে। তবে ফেরির যন্ত্রণা আর ভাঙা সড়কের কারণে মূলধারার বাসগুলো আসেনি এ রুটে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বদলে যেতে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কের চিত্র। একের পর এক সেতু নির্মাণে বন্ধ হতে থাকে ফেরি। সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে পায়রা সেতু চালু হলে ভোলা ছাড়া অন্য সব জেলা সদরের সঙ্গে স্থাপিত হয় কাঁঠালবাড়ির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শুধু পদ্মা নদী। সেখানে এবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে সেতু।

বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবসায় অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান হানিফ পরিবহন। গাবতলী থেকে বরিশাল-খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় দৈনিক দেড় হাজারের বেশি বাস চলাচল করে। অন্তত ৬০টি পরিবহন কোম্পানির বাস চলে এসব রুটে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এ বাসগুলো চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনালে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক কল্যাণ, যশোর

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর চাঁচড়ায় রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহত রনির...

মাতৃদেবীজ্ঞানে আসন নেয় সৃজিতা ঘোষাল

এসআই ফারদিন : সোমবারের সকালটা জেগে উঠেছে ঢাক-বাদ্যের তালে। আর এই ঢাকের তাল বলছে মহা...

এলজিইডি যশোর অফিসের মধ্যে ঠিকাদারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অফিসের মধ্যে হারুণ অর রশিদ নামে এক...

সম্প্রীতি ধরে রাখার আহ্বান এমপি নাবিলের

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রীতি ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য...

যশোরে বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে পথ রোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে জখম, শ্লীলতাহানি...

যশোর বঙ্গবন্ধু প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের ‘খ’ গ্রুপের সেরা রাহুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রেলিগেশন এলাকায় থাকা নওয়াপাড়া খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কাছে...