Wednesday, July 6, 2022

পুলিশ কি ভুলটি করেই যাবে?

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার রাথুরা গ্রামের রাকিব (২৫)। মাদকের একটি গত ২২ দিন ধরে সে জেলহাজতে। এমন অভিযোগ করেন রাকিবের বাবা-মা ও তার গ্রামবাসী। ওই মামলার ২নং আসামি রাথুরা গ্রামের সাইজউদ্দিনের ছেলে আশরাফুল জানায়, আসলে ওইদিন আমাদের সাথে এই ঘটনায় আক্তারের ছেলে রাকিব জড়িত না। আমাদের সাথে যে রাকিব জড়িত ছিল সে আমার বন্ধু, তার বাড়ি পাড়াবর্তা গ্রামে এবং বাবার নাম তাইজউদ্দিন তাজু।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাঁচড়াহাটি গ্রামের কমলেশ মন্ডলকে ভারতীয় নাগরিক দেখিয়ে আদালতে চালান দেয় এক এসআই। কমলেশ মন্ডলের কাছে ঘুষ চেয়ে না পাওয়ায় তার প্রতি এ অবিচার করা হয়। ঝিনাইদহে বিনা দোষে এক কীটনাশক বিক্রেতাকে আটক করে এক এএসআই । মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে আসামিকে না পেয়ে ওই কীটনাশক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। বার বার একই ভুল কোনো ক্রমেই সমর্থনযোগ্য নয়। যে ভুলটা পুলিশ করছে সেই ভুলটা যদি আমজনতার কেউ করতো তাহলে পুলিশ কি ভূমিকা পালন করতো সেটা একবার বিবেকের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলে ষ্পষ্ট হবে বলে আশা করি।

গাজীপুরের ঘটনাটি বাদে বিনা দোষে এবার দিয়ে সম্ভবত ৭ টি ঘটনা ঘটলো খুলনা বিভাগে। যার চারটি যশোরে, একটি বাগেরহাটে, একটি ঝিনাইদহে ও সর্বশেষটি সাতক্ষীরায়। বাগেরহাটের মোংলা থানার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চুরির একটি মামলায় ২০০৯ সালের ৩০ জুলাই আবদুস সালাম নামে এক জনের দুই বছরের সাজা হয়। পলাতক ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আসামির নিজের নাম পিতার নাম এবং ঠিকানায় মিল থাকায় খুলনা নগরীর শেখপাড়ার আবদুস সালাম ঢালীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রকৃত আসামি হচ্ছে খুলনার শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত সফিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুস সালাম। ৪ মাস ধরে সালাম ঢালী বাগেরহাট জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। বিনা দোষে জেলে যেতে হয়েছিল যশোর শহরের রায়পাড়ার এক নারী রেখাকে। স্বামীর নামের সাথে মিল থাকায় তাকে পুলিশ ধরলো। জেলের ঘানি টানতে হলো এই অবলা নারীকে ১৫ দিন। শহরের সবুজ বিনা দোষে জেলের ঘানি টেনেছেন। চৌগাছা সিংহঝুলি গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল আজিজকে জেলখানা ঘুরিয়ে এনেছে পুলিশ। আর যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের মিজানকেও জেলের ঘানি টানায় পুলিশ। পুলিশের মনে হলো আর ধরে আইনের হাতে তুলে দিল।
আটক ব্যক্তিদের নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হয়। স্বাধীন দেশের মানুষ এভাবে নিপীড়িত হবে, হায়রে দুর্ভাগা দেশ! মাহালামের মতো কত মানুষ এভাবে নিপীড়িত নির্যতিত হবে? অবলিলায় এ দেশে এই ধরনের কাজগুলো ঘটে চলেছে। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার নেই। সভ্য ও স্বাধীন দেশে এটা চলতে পারে না।
যারা অহেতুক সাজা ভোগ করছেন, যাদের জীবন থেকে একটা মূল্যবান সময় ঝরে যাচ্ছে । স্বাধীন দেশে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার কেউ হতে পারে না। বরং এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু হচ্ছে উল্টোটা।

আমাদের দেশে অপরাধী প্রমাণে পুলিশের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। তারা যা বলে তাই যেন ধর্মগ্রন্থের বাণী। পুলিশ এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। কোনো পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে আদালত পরোয়ানা জারি করতেই পারেন। তাই বলে পুলিশ সেই আসামিকে না পেয়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে ধরে সেই আসামি বলে চালান দেবে তা হতে পারে না। এখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতদের উদ্দেশ্যে বলছেন, আসামি ধরতে গিয়ে যেন নিরীহ নির্দোষ মানুষ হয়রনির শিকার না হয়। বিষয়টির প্রতি পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব যশোরের বিশেষ সাধারণ সভা

প্রেসক্লাব যশোরের গঠনতন্ত্র পরিবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির দিনব্যাপী...

কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর...

যশোরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার যশোরে গলায় ফাঁস দিয়ে কামরুন্নাহার কেয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।...

পর্যবেক্ষণে অসুস্থ বিএনপি নেতা নূর-উন-নবী

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী (৬৬) ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি...

জাতীয় স্কুল ফুটবলের শিরোপা যশোরে নিয়ে আসতে চায় পলাশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথমবার অংশ নিয়েই জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল যায়গা করে নিয়েছে বেনাপোল মাধ্যমিক...

যশোর বক্সিং টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠ মঈন স্মৃতি সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদকপাঁচটি স্বর্ণ ও দু’টি সিলভার নিয়ে যশোর জেলা বক্সিং টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে...