Wednesday, July 6, 2022

ফটকাবাজীর হাসপাতাল ব্যবসা বন্ধের পরও চলছে

বন্ধ ঘোষিত অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে। অনেকদিন ধরে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে শৃঙ্খলায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসাবে ২৫ মে সারা দেশের অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ধারাবাহিকতায় ১৫ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৬৪১টি অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফের রমরমা ব্যবসায় মেতে উঠছে। বন্ধ ঘোষণার তালিকায় আছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান মাইকিং করে রোগী ডাকছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, খুলনায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু গোপনে চিকিৎসা দিচ্ছে এগুলোর অনেকেই। সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে ব্যবসা করছে।

দেশে হাসপাতাল ব্যবসা এখন বড় ধরনের প্রতারণার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এমন কোনো ব্যবসা নেই যে জায়গায় স্বচ্ছতা আছে। সব কিছু যখন ফ্রি-স্টাইলে চলছে তখন প্রতারণাতে আর ভয় কিসের? আর তাই মনে হয় নির্ভয়ে এ ব্যবসাটা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা। এ ব্যবসায় যা চলছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। আমরা আগেও এ ব্যবসার চিত্র তুলে ধরেছি। প্রশ্ন জাগে কেন এ সব অনিয়ম ও আইনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার ফলে অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায় এবং তারা অপরাধে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

নির্দেশনার পরও মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। এ ধরনের নির্দেশনা বহুবার এসেছে কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। সমাজ সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, নির্দেশনার মধ্যে অনেক ফাঁক-ফোকর থেকে যায়। এবারের নির্দেশনার মধ্যেও কিছু ফাঁক-ফোকর আছে।

আমরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাবো আনাচে কানাচে বেঙের ছাতার মতো হাসপাতাল/ক্লিনিক নামের যে প্রতারণার মূলক প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে তার দিকে নজর দিতে হবে। কোন ফাঁক-ফোকর দিয়ে যেন ওই সব হাসপাতাল নামের অপচিকিৎসা কেন্দ্রগুলো চলতে পারে। এসব ক্লিনিকে অভিজ্ঞ নার্স তো নেই, ডাক্তারও থাকে না। দেখা যায় সেখানে বিষয়ভিত্তিক ডাক্তার না থাকায় বিপদের সময় অর্থাৎ জরুরি মুহূর্তে রোগী নিয়ে ছুটতে হয় অন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। ফ্রিস্টাইলে সিজারিয়ান অপারেশন করার পর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের চিকিৎসার প্রয়োজনে শিশু ডাক্তার পাওয়া যায় না। তখন অভিভাবকদের নিজে দায়িত্বে ছুটতে হয় শিশু ডাক্তারের কাছে। নাজমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সমস্যা দেখা দেয়ায় তার স্বজনদের দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ভাবে ফ্রিস্টাইলে চলার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতর যখন জাতিকে আশার বাণী শুনিয়েছেন তখন তা যেন দৃশ্যমান হয়, নির্দেশনা যেন দায়সারা না হয় সে উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

আলেম নামধারী এসব শিক্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক

সাতক্ষীরার দেবহাটার নাজিবের ঘের স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির...

৩ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব যশোরের বিশেষ সাধারণ সভা

প্রেসক্লাব যশোরের গঠনতন্ত্র পরিবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির দিনব্যাপী...

কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিল যশোর...

যশোরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার যশোরে গলায় ফাঁস দিয়ে কামরুন্নাহার কেয়া (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।...

পর্যবেক্ষণে অসুস্থ বিএনপি নেতা নূর-উন-নবী

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী (৬৬) ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি...

জাতীয় স্কুল ফুটবলের শিরোপা যশোরে নিয়ে আসতে চায় পলাশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রথমবার অংশ নিয়েই জাতীয় স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল যায়গা করে নিয়েছে বেনাপোল মাধ্যমিক...