বদলে যাচ্ছে যশোর টাউন হল ময়দান

পাখির চোখে টাউন হল ময়দান

২ কোটি টাকা বরাদ্দ

ময়লা আবর্জনা থাকবে না

স্বাধীনতা মঞ্চের আধুনিকায়ন হচ্ছে

পরিবেশ হচ্ছে দৃষ্টি নন্দন

পুকুরে থাকবেফোয়ারা

 

 

 

 

 

সালমান হাসান
ঘুচতে যাচ্ছে যশোরের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানের মলিন দশা। টাউন হল ময়দান নামেও পরিচিত ঐতিহাসিক স্থানটির সংস্কার হচ্ছে। ময়দানের উন্নয়ন ও শ্রী বৃদ্ধির কাজে ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি টাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী স্বাধীনতা মঞ্চটির মূল কাঠামো অক্ষুন্ন রেখে করা হবে আধুনিকায়ন। মাঠের চারিদিকে ওয়াকওয়েসহ নির্মাণ হবে সুদৃশ্য সিটিং অ্যারেজমেন্ট।
ঐতিহ্যবাহি এই মাঠ লাগোয় শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট আঙিনার পুকুরটিরও হচ্ছে সংস্কার।

পুকুরটিতে দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা ও পাশ দিয়ে হাঁটার রাস্তাসহ বসার বেঞ্চ নির্মাণ হবে। ইনস্টিটিউট সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে জন্য নতুন অফিস কক্ষও। ঐতিকহাসিক স্বাধীনতা মঞ্চটি সংস্কার করে সেখানে একটি গ্রীন রুম, ওয়েটিং রুম ও মেকাপ রুম করা হবে। টাউন হল মাঠে ওয়াকওয়ের পাশাপাশি, বসার বেঞ্চ নির্মাণ, সৃদৃশ্য গাছ রোপণ ও ব্যবস্থা করা হবে দৃষ্টিনন্দন আলোজসজ্জার। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর থেকে এই সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

যশোর ইনস্টিটিউটের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু জানান, ইতিমধ্যে পুকুরের পাড় বাধা হয়েছে। সামনের মাস থেকে পুকুর সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। মাঠ ও স্বাধীনতা মঞ্চের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজও দ্রুত শুরু হবে। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম মুক্ত জেলা যশোরের এই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালের ১১ডিসেম্বর ভাষণ দিয়েছিলেন।

যশোর ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, মাঠের ও স্বাধীনতা মঞ্চের সংস্কার-উন্নয়নের জন্য ব্যয়ের ২ কোটির মধ্যে ১ কোটির বরাদ্দ ইতোমধ্যে মিলেছে। আারে ১ কোটির বরাদ্দ দ্রুতই হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজে এই ব্যয়ের অর্থসংস্থান করছে। পুকুরের সংস্কার, জিএস (জেনারেল সেক্রেটারি) ও পরিচালনা পর্ষদ কক্ষ নির্মাণের ব্যয়ের বরাদ্দও অনুমোদন হয়েছে। সূত্রমতে, টাউন হল ময়দানের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের নক্শার কাজ চলছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে দ্রুতই কাজ শুরু হচ্ছে।

 টাউন হল ময়দান

দীর্ঘ দিনের অযত্ন-অবহেলায় বেহাল দশায় ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠ ও স্বাধীনতা মঞ্চ। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বহু ঘটনাবলীর সাক্ষি এই মাঠটির মর্যাদা রক্ষায় এটিই প্রথম উদ্যোগ। বহুদিন থেকে যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাস্কৃতিক অঙ্গন থেকে মাঠ ও স্বাধীনতা মঞ্চটির সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি ছিলো। এবার সেটি পূরণ হতে চলেছে।

ময়দানের শতাব্দি বটতলায় রওশন আলী মঞ্চটি নির্মাণের পর থেকে স্বাধীনতা মঞ্চে এখন আর কোন অনুষ্ঠান হয় না। বিশেষ দিবস ছাড়া বছরভর মঞ্চটি পড়ে থাকে অবহেলায়। চারপাশে নোংরা আবর্জনা ভরে থাকে। এছাড়া ইনস্টিটিউট আঙিনার পুকুরটি বিনা ইজারায় মাছ চাষ চলে। মাঠের আরেকপাশে চলে পুরাতন পোশাকের ব্যবসা। মাঠের বিভিন্ন কোনায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী সব দোকানপাট। আর পোস্ট অফিসের প্রাচীরের পাশের ড্রেন পরিণত হয়েছে প্রশ্রাবখানায়।

যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের জন্য ইতোমধ্যে কোটি টাকার বরাদ্দ মিলেছে। বাকি বরাদ্দও দ্রতই পাওয়া যাবে। কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে মাঠ ও স্বাধীনতা মঞ্চের কাজ শুরু হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে