বন্ধ পাটকল চালু করা হোক

সম্পাদকীয়

খুলনার ব্যক্তি মালিকানার মহাসেন, জুট স্পিনার্স, এ্যাজাক্সসহ বন্ধজুট মিল চালু ও মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকার আংশিক চালুকৃত সোনালী জুট মিল পূর্ণঙ্গরূপে চালু ও শ্রমিক-কর্মচারীদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধের দাবিতে ৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ঘোষণা করা হয় দাবি না মানা হলে আজ সকাল ১০টায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের শিরোমনিতে রাজপথ অবরোধ করা হবে।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এর আগে নাগরিক পরিষদ রাজপথ-রেল পথ অবরোধ করে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পাটকলের শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল বন্ধ ঘোষিত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা। শ্রমিকদের অবসরে দেয়ায় তারা বেকারত্ব সমস্যার পাল্লা ভারী করছেন। আজ এ ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকের ঘরে ঘরে হাহাকার। মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব প্রতিচ্ছবি আজ শ্রমিক পাড়ায়। করোনাকালিন চরম খাদ্যকষ্টে দিন কাটছে শ্রমিক পরিবারের। অথচ মহসেন, সোনালী, এ্যাজাক্স, আফিল জুট স্পিনার্সসহ বন্ধ সব মিলের মালিকের কাছে শ্রমিকদের গ্রাচুইটিসহ চূড়ান্ত পাওনা বছরের পর বছর বাকি রয়েছে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

সমস্যা সমাধানে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়া কোনো যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নয়। সংসদীয় কমিটি অভিমত প্রকাশ করেছে পাটকলগুলো বন্ধ না রেখে লাভজনক করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা সংসদীয় কমিটির বক্তব্যেও সাথে একমত। আর ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ে যখন কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হয় তখন ট্রেড ইউনিয়নগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে থাকে। আন্দোলনের মানে তো আর জ্বালাও পোড়াও, ভাঙচুর করা নয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা। আমরা ন্যায় সঙ্গত দাবি বলছি এজন্য যে, ন্যায়সঙ্গত না হলে সরকার এর আগে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিত না। কিন্তু কেন যে এ সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে গেল তা কর্তৃপক্ষই জানে।

সংসদীয় কমিটির সাথে আমরা পাটকলগুলো চালুর দাবি জানিয়ে বলবো পাটকলগুলো চালু হলে বেকারের ভারে ভারাক্রান্ত দেশে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। কমে আসবে বেকারত্বেও চাপ। মিলে পাটজাত তৈরির ফলে পরিবেশের শত্রু পলিথিন বিদায় করতে সহায়ক হবে। বস্তা, ব্যাগ, সপিং ব্যাগ পলিথিনের পরিবর্তে পাটের বস্তা, ব্যাগ ও সপিং ব্যাগ প্রভৃতি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের ফলে মানুষ ঝুঁকবে এ দিকে। আর কাঁচামালের চাহিদা পূরণে কৃষক পাট উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। হারিয়ে যাওয়া অর্থকরী ফসল আবার সমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে। এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই পাটকলগুলো চালু করতে হবে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই শ্রমিক ও সরকারকে সামনের দিকে এগোতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে