যশোরের বিভিন্ন রুটে বাস ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

বাস ভাড়া

সালমান হাসান
তেলের বর্ধিত দামের সাথে সমন্বয় করে বাড়ানো ভাড়ারও অতিরিক্ত আদায়ে বাসযাত্রীদের অবস্থা চিড়েচেপ্টা। যশোরের অভ্যন্তরীনসহ সব রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি আদায় চলছে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি সাপেক্ষে প্রতি কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বাস ভাড়া ধার্য হয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু সেটি মানছেন না যশোরের বাস-মালিক শ্রমিকরা।

যশোর শহরের চেকপোস্ট থেকে ঝিকরগাছার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। বর্ধিত হার অনুযায়ী ভাড়া হয় ১৯ টাকা ৮০ পয়সা। যাত্রীদের অভিযোগ এক্ষত্রে আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা। লাউজানি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া ১৪ টাকা ৪০ পয়সা হলেও নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। দরকষাকষি করলে বাধছে বাগবিতণ্ডা।

নাজমুল ইসলাম লিটন নামে এক স্কুল শিক্ষক জানান, যশোর থেকে ঝিকরগাছায় প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করেন। নতুন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ টাকা বেশি গুনতে হয়। তিনি বলেন, ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন ‘ক্যাচাক্যাচি’। সাবেরা সুলতানা নামে আরেক স্কুল শিক্ষিকা জানান, লাউজানি থেকে প্রতিদিন যশোর আসেন। প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৮০ পয়সা হারে এই দুরত্বের ভাড়া হয় ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা।
যশোর বেনাপোল রোডের একাধিক বাস চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া বাড়ার পর যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে বর্ধিত ভাড়ায়ও বাস চালিয়ে লোকসান হচ্ছে। তাদের দাবি, যশোর থেকে বেনাপোল আসা-যাওয়ায় ২৩ লিটারের মত ডিজেল খরচ হয়। এছাড়া বাসে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি আছে। অনেক সময় দেখা যায়, যাত্রী ভাড়া পাওয়া গেছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা। তেলসহ অন্যান্য খরচও প্রায় সমান। ফলে অনেক ট্রিপে তাদের মজুরিও মার যায়। তারপরও বেশি ভাড়া তারা নিচ্ছে না।

যশোর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, পরিবহন মালিকরা ভাড়ার একটি তালিকা দেন। সেই অনুযায়ী ভাড়া নেয়া হয়। বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি তার জানা নেই।
যশোরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে মাগুরা পর্যন্ত চলাচল করা বাসেও চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। নতুন নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী যশোর থেকে মাগুরা পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া হয় ৮৪ টাকা ৬০ পয়সা। কাউন্টার থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৯০ টাকা। কাউন্টার টিকিট ছাড়া বাসে উঠলে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে সালেহা খাতুন নামে এক নারী জানান, ১০০ টাকা দিয়ে মাগুরা থেকে যশোর এসেছেন। বাড়তি ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে।

যশোর থেকে খুলনা, ঝিনাইদাহ, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা রুটের বাসগুলোয়ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর ধার্য্য করার বর্ধির ভাড়ার চেয়েও ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, রুটের শেষ স্টপেজ পর্যন্ত ভাড়া ঠিক নিলেও মাঝের বিভিন্ন স্টপেজ গুলোয় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন বাস শ্রমিকরা।

সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম চান্দু জানান, নির্ধারিত ভাড়া বেশি নেয়ার পক্ষে তারা নন। যশোর বেনাপোল ও সাতক্ষীরা রুটে তাদের বাদেও অন্য সমিতির গাড়ি চলাচল করে। তাই এব্যাপারে খোঁজ-খবর নিবে। সত্যিই যদি তাদের সমিতির গাড়ির ভাড়াবেশি আদায় হয় সেটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। অতিরিক্ত ভাড়া কাউকে নিতে দেয়া হবে না।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানান, ঢাকায় এধরণের ঘটনা ঘটছে বলে জেনেছেন। যশোর অঞ্চলে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নেয়ার বিষয়টি এখনও পর্যন্ত তিনি পাননি।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, এধরণের খবর এখনও পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে