সব মৌসুমেই বাস টার্মিনালে দুর্ভোগ

শিগগির সংস্কার করা হবে : পৌর সচিব

উন্নয়নের নামে বছরে তোলা ৬০ লাখ টাকা যায় কোথায়?

রায়হান সিদ্দিক: এক দুর্ভোগের নাম যশোরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। হালকা বৃষ্টিতে জমে যায় হাঁটু পানি। আর শুষ্ক মৌসুমিতে ধুলাবালিতে চোখ খোলা দায় হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন টার্মিনাল ব্যবহারকারীরা। অথচ উন্নয়নের নামে বছরে টোল আদায় হয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

বাস কাউন্টার মালিক, বাসের শ্রমিক ও যাত্রীরা অভিযোগ করছেন- টার্মিনাল চালু হয়েছে ২১ বছর আগে। এরপর আর কখনো সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে এখন টার্মিনালের সড়ক চলাচলের উপযোগী আর নেই। প্রতি বর্ষায় এই ভোগান্তি চরমে ওঠে বলে জানান তারা। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো টার্মিনালজুড়ে খানাখন্দ। বৃষ্টি হলে ছোট ছোট গর্তে জমে পানি। চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। বেহালে কেন্দ্রীয় এই বাস টার্মিনালে বিদ্যুতের খাম্বায় নেই লাইট। বড় বড় গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব ছাড়াও নেই সুপেয় পানি ও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় টার্মিনালে জলাবদ্ধতা হয়। ময়লা আবর্জনায় ভরা এখন টার্মিনালটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে আন্তঃজেলা শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হয়। এখান থেকে ১৮টি রুটে ৫শ থেকে ৬শ বাস চলাচল করে। যাতে ১৫-২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। টার্মিনাল চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রী এবং শ্রমিকদের বিশ্রামের জায়গা থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বলেন, এখানে মানসম্মত পরিবেশ নাই। টার্মিনাল উন্নয়ন করার জন্য যশোর পৌরসভায় লোকাল ও দূরপাল্লার গাড়ি থেকে উন্নয়ন ফি বাবদ ৩০ টাকা ও ৫০ টাকা দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ আদায় করে আসছে। যদিও দেয়া হয়না কোন রশিদ বা টোকেন। বছরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা টোল আদায় করে যশোর পৌরসভা। এ পর্যন্ত আনুমানিক আট থেকে দশ কোটি টাকা পৌরসভার কোষাগারে গেছে। অথচ কোনো মেয়রের আমলে টার্মিনালটি পরিপূর্ণ সংস্কার করা হয়নি।

সেলিম রেজা মিঠু আরও বলেন, সন্ধ্যার পরে অন্ধকারে দশ জেলার শ্রমিক ও যাত্রীকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল ও অবস্থান করতে হয়। রাতের বেলা পৌরসভার পক্ষ থেকে শ্রমিক ও যানবাহনের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেনি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহনের যন্ত্রাংশ চুরি হয়। এসব দেখার কেউ নেই।

টার্মিনাল আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, টার্মিনাল হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা শুধু আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু বাস্তবে কোন কাজ হয়নি। অথচ শহরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার যাত্রীর যাতায়াত। বিগত মেয়রের কাছে টার্মিনাল পরিপূর্ণ সংস্কারের দাবিতে রাজপথে মানববন্ধন করা হয়েছিল। ওই সময় তিনি বলেছিলেন টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তার কোন কিছুই হয়নি। বর্তমান মেয়রের কাছেও বার বার বলা হচ্ছে কিন্তু কোন ফলাফল নেই।

কেশবপুর কাউন্টারের নজরুল ইসলাম জানান, বাস ওঠানামার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গর্তে গাড়ি পড়ে ভেঙে যায় যত্রাংশ। দ্রুত টার্মিনালের সংস্কার না হলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন টার্মিনাল সংস্কার হয়নি। তবে দ্রুতই কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে সিরডিপি প্রকল্পের আওতায় ১১ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদারও নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত টার্মিনালের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হবে এবং টার্মিনাল ভবন সংস্কার, রাস্তাঘাট, ড্রেনসহ সকল প্রকার উন্নয়ন কাজ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে